কুলিয়ারচরে স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত ও লাঞ্ছনার বিচার চেয়ে থানায় অভিযোগ

104 views

# মুহাম্মদ কাইসার হামিদ :-
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করার পর প্রকাশ্যে পথরোধ করে মারধর ও শ্লীলতাহানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে আলম মিয়া (২৬) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় কোন প্রতিকার না পেয়ে অবশেষে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে ৪ আগস্ট মঙ্গলবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার। অভিযুক্ত আলম মিয়া উপজেলার গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর নামাপাড়া এলাকার মৃত মুতি মিয়ার ছেলে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লক্ষ্মীপুর দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে স্কুলে যাওয়া-আসার পথে গত প্রায় ছয় মাস ধরে ক্রমাগত কুপ্রস্তাব ও উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন আলম মিয়া। বিষয়টিতে একাধিকবার অভিযুক্তের পরিবার ও স্থানীয়দের কাছে বিচার চেয়েও কোনো সুরাহা মেলেনি বরং অভিযুক্তের পরিবার উল্টো ভুক্তভোগী কিশোরীকেই দোষারোপ করে আসছিল।
সর্বশেষ গত ২ আগস্ট রোববার ক্লাস শেষে বাড়ি ফেরার পথে অভিযুক্ত আলম মিয়া প্রকাশ্যে ওই শিক্ষার্থীর পথরোধ করে এবং কুপ্রস্তাব দেয়। এ সময় সাড়া না দেওয়ায় সে শিক্ষার্থীর চুলের মুঠি ধরে টানা-হেঁচড়া করে মাটিতে ফেলে দেয় এবং এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারে। এতে কিশোরীর চোখের নিচে গুরুতর আঘাত লাগে। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলার একপর্যায়ে অভিযুক্ত নিজের গোপন অঙ্গ প্রদর্শন করে কিশোরীকে অশালীন ইঙ্গিত ও চরম ভয়ভীতি দেখায়। পরবর্তীতে স্থানীয় কয়েকজন নারী এগিয়ে এলে অভিযুক্ত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জসিম উদ্দিন খোকন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ছেলেটি প্রায়ই আমার বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করে। সর্বশেষ বাবা-হারা এই শিক্ষার্থীকে যেভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে, এরপর আমি আর নীরব থাকতে পারিনি। তাই নিজেই মেয়েটিকে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ফোনে বিষয়টি জানিয়েছি এবং থানায় এসে অভিযোগ করেছি। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
ভুক্তভোগীর চাচা বলেন, আমার ভাতিজি ৬ মাস বয়সে পিতাকে হারিয়ে এতিম হয়েছে। আমার ভাতিজিকে বখাটে আলম মিয়া দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করে আসছে। আজ সে লাঞ্ছিত করেছে। আমি এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। ভবিষ্যত যাতে এরকম বখাটেরা স্কুল কলেজ, মাদ্রাসায় যাতায়াতের সময় ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত না করে।
কুলিয়ারচর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দিন জানান, ভুক্তভোগী ও তাঁর স্বজন এবং স্কুলের প্রধান শিক্ষক এসে আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের পর সাথে সাথে পুলিশ ফোর্স পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *