ঐতিহাসিক নিদর্শন : হাওরে মোগল স্থাপত্যশৈলী কিশোরগঞ্জের ইটনা শাহি মসজিদ

152 views

ফারিহা রাইসা:-
বাংলার আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বিরল কারুকাজমণ্ডিত বহু ঐতিহাসিক স্থাপত্য নিদর্শন। বিশেষ করে অচেনা দুর্গম এলাকায় এ ধরনের বহু প্রাচীন স্থাপত্যশৈলীর স্থাপনার অস্তিত্ব আছে; যা অনেক মানুষের দৃষ্টির অগোচরেই পড়ে আছে। কিশোরগঞ্জের দুর্গম হাওর উপজেলা ইটনার সদরের বড়হাটি গ্রামে এ রকমই এক মোগল স্থাপত্যের নিদর্শন ইটনা শাহি মসজিদ; যা যে কোনো মানুষেরই চোখ টেনে নেবে, মনোযোগ আকর্ষণ করবে।
কথিত আছে, মসজিদটি তৈরি হয়েছিল প্রায় ৪২৫ বছর আগে। দুটি তোরণ আর তিনটি গম্বুজের সমাহারে এ মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন বাংলার বারোভূঁইয়ার অন্যতম বীর ঈশা খাঁর সভাসদ দেওয়ান দেলোয়ার। পরবর্তী সময়ে বংশপরম্পরায় এটির তদারকি হয়ে আসছিল আর মসজিদওয়ালা বাড়ির নামকরণ হয় দেওয়ান বাড়ি। গত শতাব্দী থেকে একটি বড় সময় দেওয়ান দেলোয়ারের অধস্তন পুরুষ দেওয়ান আব্দুর রহিম মসজিদটির তত্ত্বাবধান করছেন। তিনি প্রায় ১৫ বছর আগে মারা গেছেন। এখন দেখভাল করেন তাঁর ছেলে দেওয়ান আহমেদ শাকিল।
মসজিদের দুটি দৃষ্টিনন্দন তোরণ রয়েছে। রয়েছে তিনটি গম্বুজ। অনেকে এ মসজিদকে ‘গায়েবি মসজিদ’ নামে ডাকেন। আবার অনেকে ‘তিন গম্বুজ মসজিদ’ নামেও ডাকেন। এটি অন্যান্য এলাকার মানুষের কাছে খুব একটা সুপরিচিত মসজিদ নয়। দুর্গম হাওর এলাকায় এ রকম স্থাপত্যশৈলীর মসজিদ থাকতে পারে এ কথা কল্পনা করাটাও কঠিন। মসজিদটি একবার দেখলে বোঝা যায়, কী এক পরম যত্ন, পরম আবেগ আর সুরুচির মিশ্রণে সুদক্ষ কারিগরের মাধ্যমে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এর কাছে গেলে এসব ভাবনায় যে কাউকে আবিষ্ট করবেই। দেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে রেলপথ, সড়কপথ আর নৌপথ পাড়ি দিয়ে ইটনায় যাওয়ার সুযোগ আছে। দেশের পশ্চিমাংশ থেকে যেতে হলে কিশোরগঞ্জ জেলা শহর হয়ে যেতে হয়। আবার দেশের উত্তর, দক্ষিণ বা পূর্বাঞ্চল থেকে নৌপথেও যাওয়া যায়।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রাখী রায় বলেন, মসজিদটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংরক্ষিত নয়-তবে জরিপে চিহ্নিত করা হয়েছে। সরকারি সিদ্ধান্ত পাওয়া গেলে মসজিদটি অধিদপ্তরের আওতায় আনা হবে।
ইটনার বাসিন্দা খায়রুল ইসলাম জানান, এ মসজিদের ভেতরে একসঙ্গে প্রায় ২৫০ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। আবার মসজিদের সামনের মাঠসহ অন্তত ৫০০ মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। মসজিদের ভেতরে গেলে এক অদ্ভুত রকমের গাম্ভীর্য আর শীতলতার স্পর্শ পাওয়া যায়। এলাকাবাসী এ মসজিদে নামাজ আদায় করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *