নারায়ণগঞ্জে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বিশ্ববাজারে পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্যের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে

155 views

# বিশেষ প্রতিনিধি :-
দেশের ঐতিহ্যবাহী সোনালি আঁশ পাটের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে এবং পাট বীজে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। আজ ২৫ এপ্রিল শনিবার সকাল ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের চাষাড়ায় শহীদ জিয়া হল প্রাঙ্গণে ‘বহুমুখী পাটপণ্য মেলা ২০২৬’-এর উদ্বোধন এবং পরবর্তীতে গোদনাইলে নিট শিল্পপল্লী পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অধীন পাট অধিদপ্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান ও পাট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ মো. নূরুল বাসির।
মেলা প্রাঙ্গণে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরেও পাট বীজের জন্য অন্য দেশের ওপর নির্ভর করা অত্যন্ত দুঃখজনক। এই পরনির্ভরশীলতা কাটাতে সরকার গবেষণার পাশাপাশি অর্থ ও শ্রম বিনিয়োগের মাধ্যমে বীজে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের সমন্বিত উদ্যোগ নিচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিশ্ববাজারে পরিবেশবান্ধব বহুমুখী পাটজাত পণ্যের বিশাল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে জুট ফেব্রিক, কার্পেট ও আধুনিক ফ্যাশন পণ্যের চাহিদা কাজে লাগাতে বর্তমান সরকার গুরুত্বের সাথে কাজ করছে।
মেলার উদ্বোধন শেষে মন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা গোদনাইলে চিত্তরঞ্জন কটন মিলের জায়গায় গড়ে ওঠা নিট শিল্পপল্লী ও সেখানে অবস্থিত ‘বর্ণালী কালেকশন লিমিটেড’ নামে একটি পোশাক কারখানা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, শিল্প কারখানায় জ্বালানি সংকট সমাধানে সরকার সবসময় ব্যক্তিখাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। তাই কেবল জ্বালানির কারণে রপ্তানি কমেছে এমনটি ভাবার অবকাশ নেই। তিনি নতুন বিনিয়োগকারীদের কম জ্বালানি সাশ্রয়ী আধুনিক কারখানা তৈরির পরামর্শ দেন।
বিটিএমসির শিল্পপ্লটগুলো নিয়ে মন্ত্রী বলেন, চিত্তরঞ্জন কটন মিলের জায়গায় নতুন শিল্পায়নের কাজ শুরু হয়েছে। কিছু স্থানীয় দখল সংক্রান্ত সমস্যা থাকলেও তা দ্রুত সমাধানের মাধ্যমে সব প্লটে বিনিয়োগের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি জ্বালানির দাম বৃদ্ধির অজুহাতে পরিবহন ভাড়া বা নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই এবং এ বিষয়ে সরকারের কড়া নজরদারি রয়েছে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
শহীদ জিয়া হলে আয়োজিত এই মেলায় দেশীয় বিভিন্ন উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠান তাদের পাটজাত পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রয়ের সুযোগ পাচ্ছেন। মেলাটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে যেখানে পাটের তৈরি নানাবিধ আধুনিক ও ব্যবহারিক পণ্যের সমাহার রয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির পাটশিল্পের উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক বাজারে এর চাহিদা বৃদ্ধিতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *