হাওরের দুর্ধর্ষ নৌডাকাতি, তিন নৌডাকাত গ্রেপ্তার অস্ত্র মালামাল উদ্ধার

162 views

# নিজস্ব প্রতিবেদক :-
কিশোরগঞ্জের হাওরে দুর্ধর্ষ নৌডাকাতির ঘটনায় তিন নৌডাকাতকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। উদ্ধার করেছে দেশীয় অস্ত্রসহ কিছু মালামাল। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে জেলা পুলিশ কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, গত ৭ জুন সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় মিটামইন থেকে ২০ থেকে ২২ জন যাত্রী নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা করিমগঞ্জের বালিখলা ঘটে রওনা হয়। মাঝপথে আবহাওয়া খারাপ হলে মিঠামইনের হাসানপুর সেতুর কাছে নৌকাটি নোঙর করে। রাত পৌনে ৮টার দিকে আবহাওয়া ভাল হলে নৌকাটি পুনরায় রওনা হলে হাসানপুর সেতুর পাশে অপর একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে ১০-১২ জন ডাকাত মুখোশ পরে যাত্রীবাহী নৌকায় হানা দিয়ে মোবাইল ফোন ও টাকা পয়সা লুট করে নিয়ে যায়।এ ঘটনায় সোমবার মিঠামইন থানায় নৌকার মাঝি জামাল মিয়া বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। এরপর মিঠামইন থানা ও ডিবি পুলিশ অভিযান চালিয়ে সোমবার দুপুরে সাভার থেকে মিঠামইনের বজকপুরের হারেছ মিয়ার ছেলে এহসানুল হক ফকিরকে (২৬) ও কামরাঙ্গীরচর এলাকা থেকে মিঠামইনের কাটখাল কাজীপাড়া এলাকার প্রয়াত ইসমাইল হোসেনের ছেলে জুলহাস উদ্দিনকে (৪৪) গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। তাদের তথ্যমতে সোমবার রাত ১০টার দিকে মিঠামইন থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বড়কান্দা মধুপুর গ্রামের মধু মিয়ার ছেলে অপর নৌডাকাত রুবেল মিয়াকে (৩১)। তাদের গোপন আস্তানা থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ইঞ্জিনচালিত নৌকা, বিপুল পরিমাণ বল্লম, রামদা ও লোহার রডসহ পাঁচটি মোবাইল সেট উদ্ধার করা হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান। অন্য ডাকাতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে। তিন ডাকাতকে গতকাল মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, বিস্তীর্ণ হাওরে যে পরিমাণ নৌপুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ ও তাদের নৌযান রয়েছে, সেগুলি পর্যাপ্ত নয়। এর পরও পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। কোন জরুরি প্রয়োজন না থাকলে যাত্রীদেরকে সন্ধ্যার পর হাওরে নৌভ্রমণ না করতে অনুরোধ জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *