# মুহাম্মদ কাইসার হামিদ :-
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সরকারি গাছ বিক্রি এবং লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত ভূমি কর্মকর্তাদের বাঁচাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে একটি চক্র। কতিপয় স্বার্থান্বেষী সংবাদকর্মী বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার নীতিমালা বিসর্জন দিয়ে অভিযুক্তদের পক্ষে নির্লজ্জ সাফাই গেয়ে প্রতিবাদমূলক সংবাদ প্রকাশ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত ১৫ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ বুধবার রাত ১০:২০ মিনিটে একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি বরাত দিয়ে একটি বিভ্রান্তিকর ও পক্ষপাতদুষ্ট প্রতিবাদলিপি সংবাদ আকারে প্রকাশ করা হয়। সেখানে কোনো প্রকার তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই অভিযুক্তদের বাঁচাতে উল্টো অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। সাধারণ পাঠকদের মতে, এটি কোনো সংবাদ নয়, বরং অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বাঁচানোর একটি অপচেষ্টা মাত্র।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ১নং গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা নাছিমা আক্তার ও অফিস সহায়ক রুকন-এর বিরুদ্ধে সরকারি গাছ বিক্রি, ঘুষ গ্রহণ এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অকাট্য প্রমাণ রয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিপূর্বে কয়েকটি অনলাইন পোর্টাল, জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকাসহ একাধিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও পেজে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটির শিরোনাম ছিল: “কুলিয়ারচরে সরকারি গাছ বিক্রি ও লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ; গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা নাছিমা আক্তার ও অফিস সহায়ক রুকনের দুর্নীতির পাহাড়, ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীরা।”
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ওই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ঘুষ চাওয়া ও নেওয়ার সরাসরি অডিও-ভিডিও রেকর্ডসহ উপযুক্ত প্রমাণাদি এবং সরকারি গাছ বিক্রির অকাট্য নথিপত্র ভুক্তভোগী ও সাংবাদিকদের হাতে সংরক্ষিত রয়েছে। এমনকি চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে রাস্তার পাশের ১৮টি ছোট-বড় গাছ কেটে নেওয়ার বিষয়ে কুলিয়ারচর থানায় দায়েরকৃত অভিযোগের রিসিভ কপিও সংরক্ষিত আছে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও রয়েছে।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো বিভাগীয় তদন্ত বা আইনি সুরাহা হওয়ার আগেই একটি অনলাইন পত্রিকায় কথিত প্রতিনিধি নিজেকে ওই প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কিংবা কর্মচারী দাবি করার মতো আচরণ করেছেন। প্রকাশিত প্রতিবাদী সংবাদে তিনি লিখেছেন- “একটি কুচক্রী মহল উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে আমাদের হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এ সংবাদ প্রকাশ করিয়েছে।”
এখানে সচেতন মহল প্রশ্ন তুলেছেন, আমাদের হেয় প্রতিপন্ন বলতে ওই সাংবাদিক নিজেকে বুঝিয়েছেন নাকি অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের?
ওই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে কোনো সংবাদ প্রকাশ না হওয়া সত্ত্বেও তিনি কেন অভিযুক্ত সরকারি কর্মকর্তা নাছিমা আক্তার ও রুকনের হয়ে ওকালতি করছেন?
কোন অদৃশ্য সুবিধার বিনিময়ে তিনি এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে করা অনুসন্ধানী সংবাদের প্রতিবাদ জানালেন? এতে প্রশ্ন জাগে তিনি এই সরকারি প্রতিষ্ঠানের কোন পদে আছেন। কর্তৃপক্ষ কোন প্রতিবাদ
না জানালেও তিনি নিজে অন্য একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রতিবাদ দিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিজেকে কখনো কখনো প্রথম শ্রেণির জাতীয় পত্রিকার প্রতিনিধি, শিক্ষক, সাহিত্যিক ও লেখক পরিচয় দেওয়া এই কথিত সাংবাদিক দীর্ঘদিন ধরে নানা পরিচয়ে সাধারণ মানুষ, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও জনপ্রতিনিধিসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দদের সাথে প্রতারণা করে আসছেন। নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য তিনি যখন-তখন যেকোনো রূপ ধারণ করেন। এবার সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দুর্নীতি আড়াল করতে তিনি নিজের লেখনীকে ব্যবহার করছেন, যা সাংবাদিকতা পেশার জন্য চরম অবমাননাকর।
এলাকাবাসী এবং ভুক্তভোগীদের দাবি, সরকারি গাছ পাচার এবং ভূমি অফিসের প্রকাশ্য দুর্নীতি আড়াল করতে যে অপসাংবাদিকতার আশ্রয় নেওয়া হয়েছে, তাঁর তীব্র নিন্দা জানানো প্রয়োজন। একই সাথে, দুর্নীতিবাজ ভূমি সহকারী কর্মকর্তা নাছিমা আক্তার, অফিস সহায়ক রুকন এবং তাদের মদদদাতা এই দালাল ও প্রতারক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
কুলিয়ারচরে ভূমি অফিসের সরকারি গাছ বিক্রি ও দুর্নীতি ধামাচাপা দিতে অপপ্রচার
40 views
