মা মাছ রক্ষায় হাওরে হচ্ছে মিঠা পানির মাছের অভয়াশ্রম, কিশোরগঞ্জে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

76 views

# সাখাওয়াত হোসেন হৃদয় :-
হাওর, বিল, নদী ও জলাশয়ে দেশীয় মিঠা পানির মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বাড়াতে ‘মিঠা পানির মাছের অভয়াশ্রম’ গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। হাওর ও জলাভূমির বিভিন্ন এলাকায় বড় গর্ত ও খাঁড়ি তৈরি করে সেগুলো সংরক্ষিত রাখা হবে। এসব স্থানে মা মাছের আশ্রয় নিশ্চিত করতে পাহারাদারের ব্যবস্থাও করা হবে।
আগামী ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কিশোরগঞ্জ সফর উপলক্ষে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আমিন উর রশিদ ৮ আগস্ট শনিবার সকালে পাকুন্দিয়া উপজেলার থানারঘাট, বাহাদিয়া এলাকার ব্রহ্মপুত্র নদ এবং কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউট স্টেডিয়াম পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শন শেষে কটিয়াদীতে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
এসময় বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-১ (কিশোরগঞ্জ সদর-হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য মো. জালাল উদ্দিন, জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক ভিপি খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী মো. ইসরাইল মিয়া উপস্থিত ছিলেন।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আমিন উর রশিদ বলেন, আগামী মৌসুম থেকেই এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে। এ জন্য পরিকল্পনা ও বাজেট ইতিমধ্যে করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, একসময় হাওর, বাওড়, নদী ও বিভিন্ন জলাশয়ের দেশীয় মাছের ওপরই মানুষের খাদ্যের বড় একটি অংশ নির্ভর করত। তখন চাষের মাছের প্রচলন ছিল না। কিন্তু সময়ের সঙ্গে কৃষিতে বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক ও সার ব্যবহারের পাশাপাশি মা মাছের প্রজননক্ষেত্রগুলো নষ্ট হওয়ায় দেশীয় মিঠা পানির মাছের স্বাভাবিক উৎপাদন কমে গেছে।
তিনি বলেন, মা মাছের অভয়াশ্রম প্রায় বিলীন হয়ে গেছে। যার কারণে প্রাকৃতিক মিঠা পানির মাছ এখন বিলুপ্তির পথে।
মন্ত্রী আরও বলেন, আগে হাওর ও জলাভূমির বিভিন্ন ডোবা বা খাঁড়িতে মা মাছ আশ্রয় নিত। এখন সেসব জায়গার মাছও ধরে ফেলা হয়। ফলে মাছের প্রজননের জন্য নিরাপদ স্থান কমে যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাওর ও জলাভূমির বিভিন্ন এলাকায় সরকারি উদ্যোগে বড় গর্ত ও খাঁড়ি তৈরি করা হবে জানিয়ে মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, এসব জায়গা সংরক্ষিত থাকবে মা মাছের জন্য। সেখানে পাহারাদারের ব্যবস্থাও করা হবে, যাতে অন্যত্র মাছ ধরা হলেও অভয়াশ্রমের মাছ ধরা না যায়।
মৎস্য-প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীর ভাষ্য, মা মাছের নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করা গেলে প্রজননের সুযোগ বাড়বে। এতে ডিমের পরিমাণ বাড়বে এবং ধীরে ধীরে দেশীয় মাছের উৎপাদনও বাড়বে।
তিনি বলেন, মা মাছ যত বাড়বে, ডিম তত বেশি হবে; ডিম যত বেশি হবে, মাছের উৎপাদন তত বাড়বে।
মন্ত্রী জানান, এই উদ্যোগের নাম দেওয়া হয়েছে ‘মিঠা পানির মাছের অভয়াশ্রম’। আগামী মৌসুম থেকে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে। এর পরিকল্পনা ইতিমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে এবং বাজেটও করা হয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে হাওরাঞ্চলে দেশীয় মিঠা পানির মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির মাছ সংরক্ষণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *