ভৈরবে শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনাসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ উদ্বোধন করলেন প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম

34 views

# মিলাদ হোসেন অপু ও ইশতিয়াক আহমাদ শৈভিক :-
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে প্রাথমিক বৃত্তি ও ইবতেদায়ী (৫ম) বৃত্তি পরীক্ষায় সাফল্য অর্জনকারীছাত্র-ছাত্রীদের জন্য কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনাসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ উদ্বোধন করলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম। ১২ সেপ্টেম্বর শনিবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে.এম মামুনুর রশীদের সভাপতিত্বে প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ১৬২ জন কৃতী শিক্ষার্থীর হাতে ক্রেস্ট ও একটি করে ফলজ-বনজ গাছের চারা তুলে দেন।
এর আগে সকালে উপজেলার শিমুলকান্দি ইউনিয়নের গোছামারা এলাকায় তাহমিনা মোছলেহ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি আসাদ উল্লাহর সভাপতিত্বে বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম। আলোচনা শেষে ১ কোটি ২৯ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ৪ তলা ভিতবিশিষ্ট একতলা একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম।
পরে প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বেলা সাড়ে ১২টায় এলজিইডির নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ১ কোটি ৫৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ভৈরব পৌরসভা কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ভৈরব হাইওয়ে থানার পেছন থেকে স্টেডিয়াম মোড় পর্যন্ত রাস্তার নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন। পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করেন প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম।
উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির আবৃত্তি প্রশিক্ষক ও শিক্ষিকা ফারহানা বেগম লিপির সঞ্চালনায় অন্যান্য অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ভৈরব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আবু মুছা শেখ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুল ইসলাম, ভৈরব থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুবুর রহমান, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ভিপি মো. মুজিবুর রহমান, উপজেলা শিক্ষা অফিসার সিদ্দিকুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ভিপি সাইফুল হক ও মোহাম্মদ নুরুজ্জামান প্রমুখ।
এ সময় আলোচনা সভায় বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, শিক্ষা ক্ষেত্রে সরকার ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড হাতে নিয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ভৈরবের মেধা ও শিক্ষার্থীদের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে শ্রম দিতে হবে, তবেই এখান থেকে আগামী দিনের সুনাগরিক তৈরি হবে। আজকে উপহার হিসেবে একটি করে গাছ দেওয়া হচ্ছে, কারণ সরকার সারা বাংলাদেশে ৫ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। গাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। তাই এই একটি চারার সাথে আরও ৫টি করে চারা কিনে বাড়ির আঙিনায় লাগানোর জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।
এ সময় শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে আরও দায়িত্বশীল হতে অভিভাবকদের অনুরোধ জানান তিনি।
অপরদিকে গোছামারা তাহমিনা মোছলেহ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত সভায় প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, হঠাৎ ৬ মাসের মাথায় বিরোধী দল লং মার্চ দিল। ৫ বছরের জন্য জনগণকে সরকার বসিয়েছে, এমন কী হলো যে লং মার্চ করতেই হবে? এই সংকটের সময়ে লং মার্চে লাখো লিটার জ্বালানি তেল খরচ হয়েছে। আমরা স্বীকার করি উত্তরাধিকার সূত্রে তেল ও গ্যাসের সংকট তৈরি হয়েছে। তাহলে এই লং মার্চ কেন? দেখলাম বিদ্যুৎ এবং গ্যাসের দাবিতে। ৬ মাসের মধ্যেই কি গ্যাস এবং বিদ্যুতের সমস্যা এই সরকারের উপর চেপে বসেছে। সরকার স্থায়ীভাবে এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতির সামনে দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকার এই সমস্যার সমাধান করবে। তারা লং মার্চের মাধ্যমে সরকারকে ৬ মাসের মধ্যে টেনেহিঁচড়ে নামাতে চায়। জাতিকে আজ সজাগ থাকতে হবে। লং মার্চের সুযোগ নিয়ে ফ্যাসিবাদের দোসররা বিভিন্ন জায়গায় মিছিল করছে এবং দেশকে অস্থিরতার দিকে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আমরা বিরোধী দলকে বলতে চাই, আপনারা যদি ফ্যাসিবাদের দোসরদের পুনর্বাসন করতে চান, আপনাদের লং মার্চ আমাদের সেটাই মনে করিয়ে দিচ্ছে। তাই জনগণকে বলব আপনারা ঐক্যবদ্ধ হোন। জনগণের কাছ থেকে আমরা ম্যান্ডেট নিয়েছি, জনগণের সমর্থন নিয়ে আমরা ক্ষমতায় এসেছি। যদি তাদের চাহিদা পূরণ করতে না পারি, জনগণই আগামী দিনে আমাদের জবাব দেবে। বিরোধী দলকে বলব আপনারা হুমকি-ধমকি দিয়ে আমাদের কিছু করতে পারবেন না। জনগণকে সাময়িক কষ্ট দিতে পারবেন, কিন্তু বিভ্রান্ত করতে পারবেন না। আমরা কাজ করে যাচ্ছি। কাজেই প্রমাণ হবে তারেক রহমানের সরকার জনগণের জন্য কী কী কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, বাতির নিচে অন্ধকার—কারণ পৌরসভার নিকটবর্তী উপজেলা এলাকা গোছামারা। এখানে একটি স্কুলের এমন দুর্দশা, ভেতরে না আসলে বোঝার উপায় নেই। জরাজীর্ণ অবস্থা, এমনকি একটি খেলার মাঠও নেই। সরকার ক্ষমতায় আসার পর নির্বাচনী ইশতেহার ও আমাদের প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে তাহমিনা মোছলেহ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করা হয়েছে।
শরীফুল আলম বলেন, সারা বাংলাদেশে বিগত সময়ে শুনেছি উন্নয়নের মহাউৎসব হয়েছে, মেগা মেগা প্রকল্প হয়েছে। আর আমাদের এলাকায় অনেকে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দায়িত্ব পালন করেছেন, কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক গোছামারা গ্রামের ছোট ব্রিজটি ভেঙে বড় করার সক্ষমতাও তাদের হয় নাই।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর ফেনীতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কৃষিকার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। এ বছরই সারা বাংলাদেশের ৪০ লাখ কৃষককে কৃষিকার্ডের আওতায় আনা হবে। চলতি বছরে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আসবে ৪২ লাখ পরিবার, যা প্রতিটি পরিবারের নারী প্রধানকে দেওয়া হবে।
তিনি জানান, কিশোরগঞ্জ জেলার মানুষের জন্য কিশোরগঞ্জ উন্নয়ন প্রকল্প নামের একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। ২৫শ কোটি টাকার এই প্রকল্প আগামী দুই মাসের মধ্যে চূড়ান্ত হবে। আগামী ৫ বছরে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *