# নিজস্ব প্রতিবেদক :-
কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা ইটনার বাদল ইউনিয়নে মাদক কারবার ভয়াবহ রূপ নিয়েছে বলে জানা গেছে। প্রকাশ্যে চলছে মাদক কেনাবেচা আর সেবন। এতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিএনপি দলীয় কিছু কর্মী। আর পরিচয় বদল করে কিছু আওয়ামী লীগ দলীয় কর্মীও এতে সামিল হয়েছেন বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। ফলে এলাকাবাসী কিছু বলতেও সাহস করেন না। মাদক চক্র প্রকাশ্যে চাইনিজ কুড়ালসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয়।
সম্প্রতি মাদক ব্যবসা নিয়ে অভ্যন্তরীণ বিরোধে সোহাগ (৩০) নামে এক মাদক কারবারিকে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় কুপিয়েছে স্থানীয় মাদক কারবারি বিপুল ভূঁইয়া (২৫) ও রামিন হোসেন মানারসহ কয়েক মাদক কারবারি। সোহাগের ডান পা কেটে ফেলে দিতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এ ঘটনায় মামলা হলেও পুলিশ আসামি ধরছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকায় একটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র স্থাপন হলেও মাদক নিয়ন্ত্রণে তাদের ভূমিকায় এলাকাবাসী হতাশ। মাদক কারবারি মানার ছাত্রলীগ থেকে এখন যুবদলে নাম লিখিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে ইটনা উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক থানেশ্বর গ্রামের বাসিন্দা তানজির সিদ্দিকী জানিয়েছেন, ‘মানার আমার গ্রামের ছেলে। তিনি ছাত্রলীগ করতেন। এখন দল পরিবর্তন করেছেন কি না, আমার জানা নেই।’
ইটনা উপজেলাটি বিস্তীর্ণ হাওর অধ্যুষিত হওয়ায় বেশ দুর্গম। থানা থেকে উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের সকল এলাকা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। যে কারণে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাদলা ইউনিয়নে একটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এই তদন্ত কেন্দ্রের কার্য পরিধি বাদলা, রায়টুটি আর চৌগাঙ্গা ইউনিয়ন পর্যন্ত। এলাকাবাসী জানিয়েছেন, তদন্ত কেন্দ্র স্থাপন করা হলেও মাদক নিয়ন্ত্রণ দূরে থাক, এখন এর প্রকোপ আরও বেড়েছে।
মাদক ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন এলাকা থেকে ইয়াবা আর গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদক সংগ্রহ করে সড়ক পথে তাড়াইল আর রায়টুটি এলাকা হয়ে বাদল ইউনিয়নে নিয়ে যায়। পার্শ্ববর্তী নেত্রকোণার ফতেহপুর গ্রামের যুবক সোহাগ বাদলা ইউনিয়নের থানেশ্বর গ্রামে বাছির মিয়ার মেয়েকে বিয়ে করেছেন। বেশিরভাগ সময় তিনি শ্বশুর বাড়িতেই থাকেন। তিনিও মাদক চক্রের সদস্য হিসেবে বিভিন্ন জায়গা থেকে মাদক সংগ্রহ করে থানেশ্বর গ্রামসহ বাদলা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করেন। এলাকার অন্য মাদক কারবারিরা টাকার ভাগাভাগির বিরোধে প্রায় তিন সপ্তাহ আগে সোহাগকে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে বর্বর কায়দায় কুপিয়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাঁর একটি পা কেটে ফেলে দিতে হয়েছে। এ ঘটনায় সোহাগের শ্বশুর বাছির মিয়া বাদী হয়ে ইটনা থানায় থানেশ্বর গ্রামের মাদক কারবারি মানার ও বিপুলসহ আটজনকে আসামি করে মামলা করেছেন। কিন্তু পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকেই ধরতে পারেনি। হামলাকারীরা আগের মতই প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। তবে মাঝে মাঝে তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ অভিযানে গেলেও মাদক কারবারিরা আগেই খবর পেয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।
কিশোরগঞ্জ থিয়েটার ফোরাম (কেটিএফ) নামে সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক আবু জাবিদ সোহেলের বাড়ি থানেশ্বর গ্রামে। তিনি জানান, থানেশ্বর গ্রামসহ বাদলা ইউনিয়নে এখন প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি হচ্ছে, মাদকের আড্ডা বসছে। এলাকায় একটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র হওয়ার পর মানুষ কিছুটা স্বস্তি বোধ করেছিল। কিন্তু এখন মাদক ব্যবসা বৃদ্ধিসহ আইন শৃংখলার অবনতি চরম পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে। এলাকার যুব সমাজ ধ্বংসের পথে ধাবিত হচ্ছে। আর মাদক ব্যবসার কারণে এলাকার আইন শৃংখলা পরিস্থিতিরও মারাত্মক অবনতি হয়েছে। তিনি এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বাদলা তদন্ত কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা এসআই আব্দুস সামাদকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করলে জানান, হামলাকারীরা বর্তমানে পলাতক। সেই কারণে ধরা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, এই তদন্ত কেন্দ্রে দুই বছর আগেও একজন পরিদর্শক ও চারজন এসআইসহ জনবল ছিল ২০ জন। এখন কোন পরিদর্শক নেই। আব্দুস সামাদই একমাত্র এসআই আছেন। একজন এএসআই পর্যন্ত নেই। কনস্টেবলসহ এখন মোট ১৬ জনের জনবল আছে। আব্দুস সামাদ বলেন, এক এলাকায় খুন হয়ে যায় তো অন্য এলাকায় মারামারি লেগে যায়। একজন অফিসার কয়দিকে দৌড়াতে পারেন! তিনটি ইউনিয়ন সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এর ওপর নেই কোন যানবহন। তাঁর পরও তিনি আসামি ধরার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন বলে জানিয়েছেন।
এদিকে ইটনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল হাসিমকে এসব বিষয়ে ফোন করলে তিনি তিন সপ্তাহেও সোহাগের হামলাকারী কেউ গ্রেপ্তার না হওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি এ ব্যাপারে তদন্ত কেন্দ্রের এসআই আব্দুস সামাদের সাথে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন।
মাদক বিক্রি চলছে প্রকাশ্যে, অভ্যন্তরীণ বিরোধে কুড়াল দিয়ে কুপিয়েছে একজনকে
57 views
