নিজস্ব প্রতিবেদক :-
কিশোরগঞ্জের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাদের বড় অংশের আস্তরণ ভেঙে পড়েছে। মেঝেতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে আস্তরণের বড় বড় খণ্ড। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ভবনের ভেতর পাঠদান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মাদুর পেতে পাঠদান করা হচ্ছে বাইরে খোলা আকাশের নিচে।
পাকুন্দিয়া উপজেলার পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ মাইজহাটি সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা হয়েছে ১৯৮৮ সালে। তিনটি শ্রেণি কক্ষ ও একটি অফিস কক্ষ নিয়ে তৈরি একতলা ভবনটি দীর্ঘদিন ধরেই নাজুক অবস্থায় ছিল। ছাদের বিভিন্ন অংশের আস্তরণে ফেটে রড বেরিয়ে পড়েছিল। দেওয়ালের অবস্থাও ছিল নাজুক। শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ ছিল স্যাতস্যাতে অস্বাস্থ্যকর। মাঝে কিছুটা সংস্কার করা হলেও ঈদের ছুটির পর রোববার প্রথম খোলার দিন গিয়ে দেখা গেছে, ছাদের একটি বড় অংশের আস্তরণ ভেঙে পড়ে গেছে। রড বেরিয়ে আছে। ছাদের অন্যান্য জায়গার আস্তরণও যে কোন সময় ভেঙে পড়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জীবনের নিরাপত্তার প্রয়োজনে বিদ্যালয় ভবনে পাঠদান কর্তৃপক্ষ বন্ধ করে দিয়েছেন। পাঠদান করা করা হচ্ছে খোলা আকাশের নিচে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুরাইয়া বিলকিস জানিয়েছেন, ঈদের বন্ধের পর রোববার প্রথম বিদ্যালয় খুলেছে। রোববার সকালে গিয়ে বিদ্যালয় ভবনের তালা খুলতেই তিনি দেখতে পান, ভবনের ভেতর মেঝেতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে ভাঙা আস্তরণের বড় বড় খণ্ড। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কারণে বিদ্যালয় ভবনে পাঠদানের কোন পরিবেশ ছিল না। যে কারণে রোববার থেকে বাইরে মাদুর বিছিয়ে খোলা আকাশের নিচে আপাতত পাঠদানের ব্যবস্থা করেছেন। কিন্তু বৃষ্টি আসলে সেটিও সম্ভব হয় না। এ বিদ্যালয়ে পাঁচজন শিক্ষক ও ১০৯ জন শিক্ষার্থী রয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
৮ জুন সোমাবার তিনি উপজেলা শিক্ষা অফিসে লিখিত আবেদন নিয়ে গেছেন, যেন বিদ্যালয়টি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। প্রধান শিক্ষক সুরাইয়া বিলকিস আরও বলেন, তিনি প্রায় তিন বছর আগে ভবনটির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা দেখে শিক্ষা অফিসে এর বর্ণনা দিয়ে একটি লিখিত আবেদন করেছিলেন। তখন চার লক্ষ টাকার কিছু মেরামত কাজ করা হয়েছিল। কিন্তু বন্ধের মধ্যে ছাদের বড় অংশ ধ্বসে পড়েছে।
এদিকে পাকুন্দিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তাসলিমা বেগম লিপিকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করলে বলেন, আস্তরণ ধ্বসে পড়ার খবর পেয়ে তিনি রোববার সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে পরিদর্শন করেছেন। আপাতত এখানে কোন ক্লাশ হচ্ছে না। তবে স্থানীয়ভাবে অন্য কোন ব্যবস্থা করে ক্লাশ নেওয়ার উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। প্রকৌশলীর মতামত নিয়ে বিদ্যালয়টি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। সোমবার দুপুরের পর পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রূপম দাসও বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেছেন। তিনি স্বল্প সময়ের মধ্যে নতুন ভবন নির্মাণের বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করবেন বলে আশ্বাস প্রদান করেছেন।
স্কুলের ছাদের আস্তরণ ধ্বসে পড়ে ক্লাশ বন্ধ, পড়ানো হচ্ছে বাইরে
41 views
