বিদেশ ফেরত অটোচালক খুন, বাদীর মামলার পরিবর্তে ওসি লিখেছেন মনগড়া মামলা

20 views

# নিজস্ব প্রতিবেদক :-
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে এক বিদেশ ফেরত অটোচালক খুন হয়েছিলেন। তাঁর বোন সাত ব্যক্তির নামে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু কটিয়াদী মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম সেই অভিযোগ আমলেই নেননি। তিনি কেবল একজনের নামে থানায় মামলা রেকর্ড করেছেন। তাও মামলার কোন কপি বাদী পক্ষকে তিনি দেননি। অবশেষে নিহতের মা বাদী হয়ে আদালতে মামলা করতে বাধ্য হয়েছেন। ২৬ জুলাই রোববার সকালে জেলা শহরের আখড়াবাজার এলাকায় পরিবারের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে এই অভিযোগ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নিহতের ভগ্নিপতি মো. নয়ন মিয়া জানান, লোহাজুড়ি ইউনিয়নের উত্তর ঝিড়ারপাড় গ্রামের প্রয়াত দুলাল মিয়ার ছেলে শফিকুল ইসলাম (৩৭) সৌদি আরব ও দুবাইতে চাকরি করেছেন। তিন বছর আগে তিনি বাড়ি ফিরে এসে অটোরিকশা চালাতেন। গত ২৭ জুন সন্ধ্যার দিকে কেউ একজন ফোন করে শফিকুল ইসলামকে এলাকার রসুলপুর ঈদগাহ মাঠের কাছে যেতে বলেন। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে জানা যায়, শফিকুলকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পারিবারিক সম্পত্তির বিরোধে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ফলে শফিকুলের বড়বোন মোছা. বেগম একই গ্রামের চাচাত বোনের ছেলে বাবুল মিয়াসহ বাদশা মিয়া, আমির হোসেন, হারুন মিয়া, মজিবুর রহমান, শুভ মিয়া ও কুড়েরপাড় গ্রামের জয় আহম্মেদ বকুলকে আসামি করে ২৯ জুন কটিয়াদী মডেল থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেন। এরা দীর্ঘদিন ধরে সম্পত্তির বিরোধ নিয়ে হত্যার হুমকি দিচ্ছিলেন। কিন্তু ওসি রফিকুল ইসলাম সেই মামলা রেকর্ড করেননি। তিনি শফিকুলক মাদক বিক্রি করতে গিয়ে খুন হয়েছেন মর্মে মামলা সাজাতে চেয়েছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অবশেষে ওসি কেবল বাবুল মিয়াকে একক আসামি করে একটি হত্যা মামলা রেকর্ড করেন। সেই মামলার কপিও তিনি বাদী পক্ষকে দেননি। পুলিশ বাবুল মিয়াকে গ্রেপ্তার করে ৩০ জুন আদালতে পাঠালে কিশোরগঞ্জের ৫ নম্বর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতের বিচারক সংগীতা ভট্টাচার্যের কাছে ১৬৪ ধারায় হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দী দিয়েছেন।
এদিকে নিহত শফিকুলের মা আনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে উপরোক্ত সাত আসামির নামে ১২ জুলাই কিশোরগঞ্জের ৫ নম্বর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এলাকাবাসী এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে কটিয়াদীতে মানববন্ধন করতে চেয়েছিলেন। ওসি রফিকুল ইসলাম হুমকি দিয়ে মানববন্ধন বন্ধ করে দেন। আসামি পক্ষ এখন পরিবারের অন্যদেরও হত্যার হুমকি দিচ্ছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। এই ভয়ে নিহতের স্ত্রী রিমা আক্তার (৩০) ছয় বছর ও দুই বছরের দুই শিশুপুত্র নিয়ে এখন জালালপুর ইউনিয়নের চরপুক্কিয়া গ্রামে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।
এসব ব্যাপারে জানার জন্য ওসি রফিকুল ইসলামকে ফোন করলে তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনা কেউ দেখেননি। সেই কারণে এত আসামির নাম দেওয়া হয়নি। মামলার কপি বাদী পক্ষকে না দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি কিছু জানি না’। মানববন্ধন বন্ধ করে দেওয়ার কথা জিজ্ঞাসা করলে বলেন, ‘মানববন্ধন করেছে কি না, এ ব্যাপারেও আমি কিছুই জানি না’।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নিহত শফিকুল ইসলামের মা আনোয়ারা বেগম, বড়বোন মোছা. বেগম, ছোটবোন সাবিকুন্নাহার ও কামরুন্নাহার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *