আট বছরেও সংস্কার হয়নি মরিচখালী-একরামপুর সড়ক

21 views

# দিলোয়ার হোসাইন :-
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার মরিচখালী-একরামপুর সড়কটি প্রায় আট বছর ধরে সংস্কারহীন। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে তৈরি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত ও খানাখন্দ। এতে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সড়কটি ব্যবহারকারী কয়েকটি উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সড়কটির বিভিন্ন অংশের পিচ উঠে গেছে। কোথাও কোথাও তৈরি হয়েছে গভীর গর্ত। বৃষ্টির পর এসব গর্তে পানি জমে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করায় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ছে।
বিশেষ করে বৌলাই-সাদকখালী সড়কের বিভিন্ন অংশে প্রায়ই যানবাহন উল্টে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে বলে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন। এতে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ প্রতিদিন সড়কটি ব্যবহার করা হাজারো মানুষ সমস্যায় পড়ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এর আগে সড়কটিতে যে সংস্কারকাজ করা হয়েছিল, তা ছিল নিম্নমানের। সংস্কারের এক বছর না যেতেই বিভিন্ন স্থানে ভাঙন ও গর্ত দেখা দেয়। এরপর গত আট বছরে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ মাঝেমধ্যে গর্তের জায়গায় ইটের সলিং করে সাময়িকভাবে চলাচলের ব্যবস্থা করেছে। তবে এতে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি।
সড়কটি কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার বৌলাই ও কাঠালিয়া এবং করিমগঞ্জ উপজেলার জয়কা ও গুণধর ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ পথ। এর মধ্যে জয়কা ইউনিয়নের নানশ্রী, উলুখলা, বালিয়াবাড়ী, কান্দাইল, পানাহার ও বারুক এবং গুণধর ইউনিয়নের উরদিঘী, ইন্দা-চুল্লী, ভাটিগাংগাটিয়া, দড়িগাংগাটিয়া, গুণধর, মদন, উজানভরাটিয়া, সুলতাননগর ও দক্ষিণ আশতকাসহ ২৫ থেকে ৩০টি গ্রামের মানুষ এ সড়ক ব্যবহার করেন।
স্থানীয় লোকজনের দাবি, এসব এলাকার ৭৫ হাজারের বেশি মানুষ সরাসরি বা পরোক্ষভাবে সড়কটির ওপর নির্ভরশীল। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে কৃষিপণ্য পরিবহনেও তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু এবং টেকসইভাবে সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত সংস্কার করা না হলে দুর্ঘটনা ও জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে।
সড়কে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগে কথা স্বীকার করে এ ব্যাপারে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. আবু সাঈদ জানান, টেন্ডার কার্যক্রম কিছুদিনের মধ্যে সম্পন্ন হতে পারে। শিগগিরই সংস্কারকাজ শুরু হবে আশা করি।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *