স্বামীর সাথে অভিমানে গৃহবধূর আত্মহত্যা

98 views

# মিলাদ হোসেন অপু :-
সংসার জীবনের ৩ বছর। পরিবারের রয়েছে দুই বছরের ফাইজান নামে কন্যা সন্তান। শ্বাশুড়ির তত্ত্বাবধানে থাকা সংসারের থেকে আলাদা হতে স্বামীর সাথে অভিমানে সাদিয়া বেগম (২২) নামে এক গৃহবধূর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। ১৬ আগস্ট রোববার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয় নিহতের মরদেহ। এর আগে ১৫ আগস্ট শনিবার রাত ১১টায় উপজেলার গজারিয়ায় ইউনিয়নের মানিকদী পুরানগাঁও এলাকা থেকে গৃহবধূ সাদিয়া বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে থানা পুলিশ। উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন ভৈরব থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুবুর রহমান।
নিহত গৃহবধূ মানিকদী পুরানগাঁও এলাকার খায়রুল মিয়ার স্ত্রী ও ঢাকার বাসিন্দা মৃত সিদ্দিক মিয়ার মেয়ে। ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী খায়রুল মিয়া পলাতক রয়েছে।
স্থানীয়দের ও নিহতের পরিবারের সাথে কথা বলে জানা যায়, গজারিয়া ইউনিয়নের মানিকদী পুরানগাঁও এলাকার মিষ্টু মিয়ার ছেলের সাথে ঢাকা শহরের বাসিন্দা মৃত সিদ্দিক মিয়ার মেয়ে সাদিয়ার ৩ বছর আগে প্রেম করে বিয়ে হয়। সাদিয়া জন্মের পর থেকে ভৈরবে মানিকদী দক্ষিণ পাড়া এলাকার নানা লাল চান মিয়ার বাড়িতে থেকে বড় হয়। মা কাজের সুবাদে ঢাকায় থাকেন। ভৈরবে নানা বাড়িতে থেকেই খায়রুলের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে পারিবারিকভাবে খায়রুলের সাথে সাদিয়ার বিয়ে হয়। খায়রুল একজন পাদুকা ব্যবসায়ী। ১৫ আগস্ট শনিবার সন্ধ্যায় সাদিয়া শ্বশুর বাড়িতে আত্মহত্যা করলে স্থানীয়রা সাদিয়াকে উদ্ধার করে বাজিতপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে সে মৃত্যু বরণ করে। মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসলে রাতে পুলিশ নিহতের শ্বশুর বাড়ি থেকে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
এদিকে স্থানীয়রা আরো বলেন, আত্মহত্যার ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে নিহতের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকায় রফাদফার চেষ্টা করে সাদিয়ার শ্বশুর বাড়ির পরিবার।
এ বিষয়ে নিহতের মামী নাসিমা বেগম বলেন, শ্বশুর বাড়িতে দেবর ভাসুরদের সাথে একসাথে খাওয়া-দাওয়াসহ সংসার পরিচালনা হতো। গত কয়েকমাস যাবত সাদিয়া সংসার আলাদা করে দিতে স্বামীকে চাপ দেয়। এক মাস রাগ করে ঢাকায় মায়ের কাছে থেকে এসেছে। স্বামী খায়রুল সংসার আলাদা হবে বলে ১ সপ্তাহ আগে বাড়িতে নিয়ে আসে। বাড়িতে এসে আলাদা না হওয়ায় খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দেয় সাদিয়া। পরে সাদিয়ার শ্বশুর বাড়ির পরিবার ১৪ আগস্ট শুক্রবার জানায় ৩ দিনের মধ্যে আলাদা করে দিবে। ১৫ আগস্ট সন্ধ্যায় সাদিয়ার শ্বশুর বাড়ির পক্ষ থেকে আমাদের জানায় সে স্ট্রোক করেছে। পরে আমরা সাদিয়ার শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে গলায় দাগ দেখতে পেয়ে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে জানতে পারি সে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে। থানা পুলিশ এসে মরদেহ নিয়ে যায়।
নিহতের মামা নবীর হোসেনকে রফদফার বিষয়টি জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, দুই বছরের বাচ্চার ভবিষ্যত আছে তাই আমরা মামলায় যাবো না।
এ বিষয়ে ভৈরব থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, ১৬ আগস্ট সকালে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *