সাইনবোর্ড ফেলে দিয়ে জেলা পরিষদের জায়গা পুলিশ সদস্যের দখল

97 views

মোস্তফা কামাল :-
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে জেলা পরিষদের ৮৩ শতাংশ জায়গায় মালিকানা উল্লেখ করে টানানো সাইনবোর্ড স্থানীয় এক পুলিশ সদস্যসহ তাঁর ভাইয়েরা নদীতে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত ২ জুন মঙ্গলবার। এ ঘটনায় জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার মাসুদুর রহমান ওই দিনই করিমগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়রি (জিডি নম্বর ৬৯) করেছেন।
এদিকে জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ খান সোহেল জানিয়েছেন, আগের জেলা পরিষদের কারও কারও যোগসাজশে জেলা পরিষদের জায়গা স্থানীয় এক এসএসআই (নরসিংদীতে কর্মরত) বুলবুলসহ তারা চার ভাই ভুয়া কাগজ বানিয়ে একতরফা মামলা করে একটা রায় নিয়েছেন। এ ব্যাপারে জেলা পরিষদ আদলতের স্মরণাপন্ন হয়েছে। জেলা পরিষদের জায়গা জেলা পরিষদেরই থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
সাধারণ ডায়রিতে বলা হয়েছে, করিমগঞ্জ মৌজায় সাবেক ৯৮২ ও ৯৮৯ নম্বর দাগে ৮৩ শতাংশ জায়গা জেলা পরিষদের নামে রেকর্ডভুক্ত আছে। গত ২ দুপুরে ওই জায়গার ওপর জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ খান সোহেল, সার্ভেয়ার মাসুদুর রহমান, অফিস সহায়ক রুবেল ও সাবেক অফিস সহায়ক বাদলসহ কয়েকজন জেলা পরিষদের নামে সাইনবোর্ড স্থাপন করতে যান। এসময় করিমগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের আশুতিয়াপাড়া এলাকার প্রয়াত আব্দুল জব্বারের ছেলে কামাল মিয়া, জামাল মিয়া, এরশাদ মিয়া ও বুলবুল মিয়া এসে বাধা প্রদান করেন। এসময় কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তারা অশালীন ভাষায়া গালাগাল ও খুন জখমের হুমকি দেন এবং সাইনবোর্ডটি ভেঙে পার্শ্ববর্তী নরসুন্দা নদীতে ফেলে দেন। এ ঘটনায় জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার মাসুদুর রহমান ওই দিনই করিমগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়রিটি করেছেন।
করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এমরানুল কবির সাধারণ ডায়রির কথা স্বীকার করে বলেছেন, বিবাদীরা মালিকানার পক্ষে আদালতের একটি রায় দেখিয়েছেন। এর বিপক্ষে জেলা পরিষদের কোন মালিকানার কোন বিষয় থাকলে সেটিও আদালতের বিষয়। আদালতের বিষয়ে থানার কিছু করার নেই। তবে মঙ্গলবারের উদ্ভুত ঘটনায় থানায় কোন মামলা নিতে গেলে পুলিশ সুপারের অনুমতি নিতে হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
এদিকে জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ খান সোহেল জানিয়েছেন, এই জায়গাটা জেলা পরিষদের নামে ৭০ বছর আগে রেকর্ড হয়েছে। এই দাগে এক একর ৮৩ শতাংশ জায়গা ছিল। এর মধ্যে থেকে এক একর জায়গা করিমগঞ্জ থানার জন্য দেওয়া হয়েছে। বতমান থানা ভবন জেলা পরিষদের জায়গাতেই হয়েছে। বাকি ৮৩ শতাংশ জায়গার ওপর স্বাস্থ্য বিভাগের একটি ‘করিমগঞ্জ চেরিটেবল ডিসপেন্সারী’ ছিল। সিটিও এখন আর নেই।
কিন্তু জেলা পরিষদের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনিছুজ্জামানের ২০১১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারির স্বাক্ষরে একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জায়গাটি জরিপ করে সেখানে ৭৮ শতাংশ জায়গা পাওয়া গেছে। সেখানে কিছু অবৈধ দখলদার রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যেহেতু এ জায়গার ওপর স্বাস্থ্য বিভাগের কোন কার্যক্রম নেই, ফলে জায়গাটা জেলা পরিষদ বরাবরে হস্তান্তরিত হবে এবং অবৈধ দখলকারীদের উচ্ছেদের ব্যাপারে জেলা পরিষদ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
বর্তমান প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ খান সোহেল বলেন, জেলা পরিষদের আগেকার লোকদের মধ্যে কারও কারও যোগসাজশে বিবাদীরা জেলা পরিষদের জায়গাটা দখল করে একতরফা মামলা করে রায় নিয়েছে। সেই মামলায় জেলা পরিষদ লড়াইও করেনি। এবার জেলা পরিষদ আদালতের স্মণাপন্ন হয়েছে। প্রকৃত মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
এদিকে কথিত দখলদার বিবাদী পক্ষের সাথে কথা বলার চেষ্টা করে তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *