ভৈরবে চাঁদাবাজি অভিযোগে ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি অপু গ্রেপ্তার

99 views

মিলাদ হোসেন অপু :-
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে সংবাদ সম্মেলন করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেও শেষ পর্যন্ত রক্ষা পাননি পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ওমর মোহাম্মদ অপু (৩৬)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি কল রেকর্ডে এক নারী মাদক ব্যবসায়ীর কাছে ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। তবে সংবাদ সম্মেলন শেষ হওয়ার মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
৫ জুন শুক্রবার বিকেলে ভৈরব থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দ গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গ্রেপ্তারকৃত ওমর মোহাম্মদ অপুকে কিশোরগঞ্জ আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত ওমর মোহাম্মদ অপু পৌর শহরের পঞ্চবটি এলাকার বাসিন্দা এবং মোমতাজ মোল্লার ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং পৌর বিএনপির ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
স্থানীয় সূত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও কল রেকর্ডকে কেন্দ্র করে গত এক সপ্তাহ ধরে ভৈরবজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ওই কল রেকর্ডে শোনা যায়, পপি বেগম নামের এক নারী মাদক ব্যবসায়ীর কাছে ৫ লক্ষ টাকা দাবি করছেন অপু। কথোপকথনের একপর্যায়ে তিনি দাবি করেন, ওই টাকা এলাকার কিছু যুবক এবং প্রশাসনের বিভিন্ন ব্যক্তিকে দিতে হবে। অডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
মামলার বাদী পপি বেগম অভিযোগ করেন, তিনি কোনো ধরনের মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন। তারপরও তাকে এলাকায় বসবাস করতে হলে ৫ লক্ষ টাকা দিতে হবে বলে চাপ প্রয়োগ করা হয়।
তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, চাঁদার টাকা না দিলে তাকে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য করা হবে। এমনকি বাড়িঘর বিক্রি করে অন্যত্র চলে যাওয়ার জন্যও চাপ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া টাকা না দিলে তাঁর বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। পপি বেগমের ভাষ্য, তিনি একজন সাধারণ নারী এবং সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগে তাকে হয়রানি করা হচ্ছে। তিনি নিজের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পপি বেগমের দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত শুরু করে। তদন্তে প্রাথমিকভাবে চাঁদা দাবির অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অভিযোগের পরই সন্ধ্যার পর ডিবি পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
স্থানীয়রা বলছেন, রাজনৈতিক পরিচয়কে ব্যবহার করে কেউ যাতে চাঁদাবাজি বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারির দাবি জানান।
ভৈরব থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দ বলেন, ভুক্তভোগী নারী পপি বেগম বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ওমর মোহাম্মদ অপুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চাঁদা দাবি করার ক্ষেত্রে প্রশাসনের নাম ব্যবহার করার অভিযোগও পাওয়া গেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
ওসি আতাউর রহমান আকন্দ বলেন, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও ছিনতাইয়ের বিরুদ্ধে ভৈরব থানা পুলিশের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। এসব অপরাধের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছি। কোনো ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব খাটিয়ে আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে পারবে না। অপরাধ যেই করুক না কেন, তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তে যার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাঁর বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *