শোলাকিয়ার গরুর হাটে ব্রাহামার দাম ১২ লক্ষ

138 views

নিজস্ব প্রতিবেদক :-
কিশোরগঞ্জর ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহের পশ্চিম পাশেই রয়েছে সদর উপজেলার সবচেয়ে বড় গরুর হাট। যাকে কাগজেপত্রে বলা হয় ইচ্ছাগঞ্জ হাট। সাপ্তাহিক হাট শুক্রবার হলেও কোরবানির ঈদের আগে অন্যান্য দিনও হাট জমে। মঙ্গলবারের হাটে সবচেয়ে বড় গরুটি এনেছেন সদর উপজেলার নীলগঞ্জ এলাকার খামারি রফিকুল ইসলাম। ব্রাহামা জাতের এই কালো রঙের গরুটির দাম হাঁকছেন ১২ লক্ষ টাকা। কাছাকাছি দাম পেলে বিক্রি করে দেবেন বলে জানালেন রফিকুল ইসলাম। এটি ঘরের গাভীর বাছুর। তবে এত দামের গরুর কাছে দর্শক অনেক দেখা গেলেও ক্রেতা দেখা যায়নি।
ঈদের আর মাঝে একদিন বাকি। কিন্তু এই হাটে আজ গরুর আমদানি তুলনামূলক কম দেখা গেছে। অনেকেই কৃষকের বাড়ি থেকে গরু কিনে কৃষকের বাড়িতেই রেখে দেন। ঈদের আগের দিন পৌঁছে দেবেন। আবার অনেকেই তুলনামূলক কম দামে কেনার জন্য গ্রামের হাটে চলে যান। তবে শোলাকিয়া হাটে দাম মোটামুটি স্বস্তিদায়ক বলছেন ক্রেতারা। কোন কোন গরুর দাম গতবারের চেয়ে কম। আবার কোন কোন গরুর দাম গতবারের মতই। এর মধ্যে এক লক্ষ টাকার কাছাকাছি দামের গরুর চাহিদা বেশি, দামও আকারের বিবেচনায় বেশি। শহরের গৌরাঙ্গবাজার এলাকার বাসিন্দা ইশতিয়াক আহমেদ ভূঁইয়া একটি গরু কিনেছেন এক লক্ষ ছয় হাজার টাকায়। তিনি বললেন, দাম গতবারের মতই।
নীলগঞ্জের খামারি রফিকুল ইসলাম আজকের হাটে ১০টি গরুর নিয়ে এসেছিলেন। এর মধ্যে ব্রাহামা ছাড়াও শাহীওয়াল আর ফ্রিজিয়ান জাতের গরু রয়েছে। এগুলির মধ্যে একটা বিক্রি করেছেন সাড়ে চার লক্ষ টাকায়। একটি বিক্রি করেছেন তিন লক্ষ আট হাজারে। এটি কিনেছেন শহরের উকিল পাড়া এলাকার মো. মহসিন। তিনি জানান, গরুটি দেখে পছন্দ হয়েছে, তাই কিনে ফেললেন। গরুর দামে তিনি সন্তুষ্ট বলে জানালেন।
সদর উপজেলার দানাপাটুলি ইউনিয়নের মহিষবেড় গ্রামের আব্দুল হেলিম নিজের গাভীর জন্ম দেওয়া গরু এনেছেন। বয়স চার বছর। দেড় হাজার কেজি ওজনের ফ্রিজিয়ান জাতের এই গরুটির দাম হাঁকছেন আট লক্ষ টাকা। এর কাছেও কোন ক্রেতা দেখা যায়নি। আবার নীলগঞ্জ এলাকার আরেক কৃষক রবিন নিয়ে এসেছেন আড়াই বছরের শাহীওয়াল জাতের গাভীর ঘরে জন্ম নেওয়া গরু। এর দাম হাঁকছেন সাড়ে তিন লক্ষ টাকা।
শহরের পৌর মার্কেটে বসেছে ছাগলের হাট। ছাগলের আমদানিও তুলনামূলক কম দেখা গেছে। তবে ছাগলের দাম বেশ চড়া। অনেকেই গরুর সাথে একটি ছাগল কোরবানি দেন। আবার অনেকেই গরুর টাকা বহন করতে না পেরে ছাগল কোরবানি দেন। একেবারে ছোট ছাগলের দামও অন্তত ১০ হাজার টাকা। ওপরে ৩০ হাজার টাকার ছাগলও দেখা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *