ভৈরবে সাবেক কাউন্সিলর হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনার আসামি কিশোরগঞ্জ আদালতে আত্মসমর্পণ, জামিন নামঞ্জুর

35 views

# মিলাদ হোসেন অপু :-
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে সাবেক কাউন্সিলর আল আমিন সৈকতকে নৃশংসভাবে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় মাহমুদুল হাসান বকশি (২২) নামে এক আসামি কিশোরগঞ্জ আদালতে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেছে। ২ সেপ্টেম্বর বুধবার সকালে সে আত্মসমর্পণ করলে জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন ২নং চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফখরুল ইসলামের আদালত। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট বাশার।
আসামি মাহমুদুল হাসান বকশি পৌর শহরের ভৈরবপুর উত্তরপাড়া আড়াই ব্যাপারী বাড়ির মোমেন মিয়ার ছেলে।
জানা যায়, ২৩ আগস্ট রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে বাড়ি ফেরার পথে হামলার শিকার হন আল আমিন সৈকত। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাত ১১টা ৪২ মিনিটে রমজান মিয়ার হাউলির ভেতর দিয়ে বাড়ির দিকে যাওয়ার মুহূর্তে (রাত ১১টা ৪৩ মিনিটে) সেখানে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া কয়েকজন তাঁর গতিরোধ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। রাত ১১টা ৪৬ মিনিটে মোটরসাইকেলে করে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। হামলায় গুরুতর জখম হন আল আমিন সৈকত। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঢাকায় নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার পর ২৬ আগস্ট বিকেল ৪টায় ভৈরব থানায় নিহত কাউন্সিলরের স্ত্রী তানিয়া খানম তাঁর চাচাশ্বশুর মোমেন মিয়া ও দেবর মাহমুদুল হাসান বকশিসহ তাদের পরিবারের ৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আসামিসহ মোট ২৩ জনকে অভিযুক্ত করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ থেকে জানা যায়, আল আমিন সৈকতের বাবা জসিম উদ্দিন এবং তাঁর দুই চাচা হলেন নজরুল ইসলাম ও মোমেন মিয়া। তাদের মধ্যে জসিম মিয়া ও নজরুল মিয়া মারা গেছেন। অভিযুক্ত চাচা মোমেন মিয়া ভৈরব বাজারের তেল ব্যবসায়ী। রৌদ্র (২৯), জুম্মান (২৪) ও হাসান (২২) হলেন মোমেন মিয়ার ছেলে। ভৈরব বাজারে অবস্থিত ‘ফকির মার্কেট’ নামে তাদের একটি পারিবারিক সম্পত্তি রয়েছে। ফুফুদের পক্ষে ওই সম্পত্তির ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে আল আমিন সৈকতের সঙ্গে কয়েক বছর ধরে চাচার পরিবারের বিরোধ চলছিল।
সেই দ্বন্দ্ব থেকেই মোমেন মিয়ার ছেলেরা আল আমিনকে হত্যা করেছে বলে তাঁর পরিবারের দাবি।
এ বিষয়ে আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট বাশার বলেন, বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় আল আমিন সৈকত হত্যা মামলার আসামি মাহমুদুল হাসান বকশি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে প্রেরণ করেন।
ভৈরব থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, পুলিশি তৎপরতার মুখে আসামিদের দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার সুযোগ না থাকায় তারা আদালতে আত্মসমর্পণ করে। ঘটনার পর থেকে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে অপরাধীদের শনাক্ত করেছে। আদালতে একজন আসামির জামিন নামঞ্জুর হয়েছে। পুলিশ আদালতের কাছে রিমান্ড আবেদন করে ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন করবে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *