# মুহাম্মদ কাইসার হামিদ :-
একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করে শিশুদের হাতে, আর সেই ভবিষ্যতের বীজ বপন হয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে। শিশুর প্রথম পাঠ, প্রথম স্বপ্ন এবং প্রথম মূল্যবোধের শিক্ষা অর্জনের এই প্রতিষ্ঠানই হয়ে ওঠে একটি আলোকিত সমাজ ও সুশিক্ষিত জাতি গঠনের ভিত্তি। সেই প্রত্যয়কে আরও দৃঢ় করতে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ১৩নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ জন বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
গত ৩০ জুলাই বৃহস্পতিবার দুপুরে বিদ্যালয়ের নিজস্ব মিলনায়তনে বিদ্যালয়ের নবনির্বাচিত ম্যানেজিং কমিটির প্রথম সভায় এ সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের নব-নির্বাচিত সভাপতি মো. মোবারক হোসেন বোরহানের সভাপতিত্বে ও বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মোশারফ হোসেনের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মশিউর রহমান, বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও গোবরিয়া আবদুল্লাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. হুমায়ুন কবির, লক্ষ্মীপুর দ্বী-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষিকা মোছা. শাহানাজ বেগম, সহকারী শিক্ষক মো. ফয়সাল আহমেদ, গোবরিয়া আবদুল্লাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ওয়ার্ড সদস্য মো. হেলিম মিয়া, বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সুইটি আক্তার, শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সদস্যবৃন্দ।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফল অর্জনকারী ৫ কৃতি শিক্ষার্থীকে ফুলেল শুভেচ্ছা, সম্মাননা স্মারক ও উপহার প্রদান করা হয়। বৃত্তি পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফল অর্জনকারী ৫ কৃতি শিক্ষার্থীরা হলেন, মো. লাবিব হোসেন, তানহা আক্তার দিয়া, মোছা. নুসরাত জাহান, মোছা. প্রিয়া আক্তার এবং লামিয়া জাহান।
সভার শুরুতে নব-নির্বাচিত সভাপতি মো. মোবারক হোসেন বোরহানকে ফুলেল শুভেচছা জানিয়ে বরণ করে নেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ। সভায় বিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন, অবকাঠামো সম্প্রসারণ, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণে বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
এসময় বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের নব-নির্বাচিত সভাপতি মো. মোবারক হোসেন বোরহান বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয় হচ্ছে সুশিক্ষিত জাতি বিনির্মাণের আঁতুড়ঘর। একটি উন্নত, আধুনিক ও জ্ঞানভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষে পাঁচ বছর মেয়াদি ‘প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণ, বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ, নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিতকরণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শুধু সরকারের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ এবং সমাজের সচেতন মানুষ সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালন করলে এই দেশ অসংখ্য মেধাবী, মানবিক ও দক্ষ নাগরিক উপহার পাবে। শিক্ষার প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব হবে, যখন বিদ্যালয়কে ঘিরে সবাই সমানভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন।
শুধু বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরাই নয়, অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যান্য শিক্ষার্থীদের প্রতিও ছিল অনুপ্রেরণার বার্তা। অতিথিরা তাদের সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং আগামী দিনে আরও বড় অর্জনের মাধ্যমে বিদ্যালয়, পরিবার ও দেশের সুনাম বয়ে আনার আহ্বান জানান। বক্তারা আরও বলেন, অধ্যবসায়, শৃঙ্খলা ও নৈতিক শিক্ষার সমন্বয়েই একজন শিক্ষার্থী প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে। তাই প্রতিটি শিশুর মধ্যেই ভবিষ্যতের সম্ভাবনাকে লালন করতে হবে।
উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজিত এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। উপস্থিত শিক্ষক, অভিভাবক ও অতিথিরা আশা প্রকাশ করেন, এমন স্বীকৃতি শিক্ষার্থীদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে এবং ভবিষ্যতে আরও অনেক শিক্ষার্থী সাফল্যের স্বাক্ষর রাখবে।
সংবর্ধনা শেষে গোবরিয়া আবদুল্লাপুর ইউনিয়ন উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এক শত শিক্ষার্থীকে উন্নতমানের স্কুল ব্যাগ বিতরণ করেন, গোবরিয়া আবদুল্লাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ওয়ার্ড সদস্য মো. হেলিম মিয়া।

