ভৈরবে ডেঙ্গু পরিস্থিতি খুবই নাজুক, দুইজনের মৃত্যুসহ প্রতিদিন আক্রান্ত হচ্ছে শতাধিক মানুষ

23 views

# মোস্তাফিজ আমিন :-
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ডেঙ্গু পরিস্থিতি দিন দিন খুবই নাজুক হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। গত ১৫ দিনে ভৈরবে দুইজনের মৃত্যুসহ প্রতিদিন আক্রান্ত হচ্ছেন শতাধিক মানুষ। ফলে চারদিকে ডেঙ্গু নিয়ে চরম আতংক বিরাজ করছে।
অপরদিকে সরকারি বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী সামলাতে হিমসিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। তারা বলছেন, চিকিৎসার পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে মানুষকে খুব সচেতন হতে হবে। ডেঙ্গুর জীবানু ছড়ায় এমন স্থানগুলিকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখাসহ মশার কামড় থেকে রক্ষায় অধিক সজাগের সাথে রাতে ঘুমাতে হবে মশারি টানিয়ে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাযায়, ভৈরবে দিন কি দিন বেড়েই চলেছে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব। প্রায় প্রতি বাড়িতেই ছেলে-বুড়ো, শিশু-কেউ না কেউ আক্রান্ত হচ্ছেন এই জ্বরে। ফলে মানুষের মাঝে একটা চরম আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। এই জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ২৬ আগস্ট সৈয়দ বানু (৬৫) নামে এক নারী এবং একই দিনে জিদনী সায়হাম (৩৫) এক যুবকের মৃত্যু হলে এলাকায় শোকের পাশাপাশি আতংক আরও বেড়ে যায়। মৃত্যুবরণকারি দুজনেই শহরের ভৈরবপুর দক্ষিণ পাড়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।
এরমধ্যে সৈয়দ বানুকে একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং জিদনী সায়হামকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠালে, সেখানেই তাদের মৃত্যু হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, তাদের এখানে উদ্বিগ্ন হারে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত লোকজন চিকিৎসা নিতে আসছেন। সেখানকার আউটডোরে (বর্হিবিভাগ) জ্বর নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে শতকরা ৭০ থেকে ৮০ জনেরই ডেঙ্গু পজেটিভ আসছে।
এদের মধ্যে রক্তের প্লাটিলেট ৭০ থেকে ৮০ হাজারের উপরে থাকলে তাদেরকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দিয়ে নিয়মিত পর্যবেক্ষণে থাকার শর্তে নিজ নিজ বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এর নীচে হলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আর এরচেয়ে নীচে নেমে গেলে কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ বা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হচ্ছে। তবে ২০ থেকে ২৫ জন রোগীকে এখানে নিয়মিত ভর্তি রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আব্দুল করিম জানিয়েছেন, গত আগস্ট মাসে এখানকার ইনডোরে ১২২ জন আক্রান্ত রোগী ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিয়েছিলেন। কিন্তু চলতি মাসের ৯ তারিখ অর্থাৎ ৯ দিনেই চিকিৎসা নিয়েছেন ৪৮ জন। ডেঙ্গু প্রতিরোধে চিকিৎসার পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন এই সরকারি চিকিৎসক।
এদিকে ভৈরবের বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত চেম্বার সূত্রগুলি জানায়, এখানে তারা প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা দিচ্ছেন। এদের মধ্যে খুব জটিল রোগীদের ঢাকার বিভিন্ন সরকারি ও প্রাইভেট হাসপাতালে রেফার্ড করছেন। কিছু রোগী তারা নিজেদের কাছে ভর্তি রেখে এবং কম জটিল রোগীদের বাড়িতে পাঠিয়ে চিকিৎসা দিচ্ছেন।
স্থানীয় প্রায় ৩৫টি হাসপাতালের মধ্যে অন্যতম আল-শেফা জেনারেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. এ.বি সিদ্দিক জানান, তাঁর হাসপাতালে গড়ে প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী আসছেন। এদের মধ্যে খুব জটিল রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তর, কম আক্রান্তদের নিজেদের বাড়িতে স্বজনদের জিম্মায় এবং মধ্যবর্তীদের হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দিচ্ছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি থাকা আক্রান্ত রোগীরা জানায়, জ্বরের সাথে প্রচণ্ড ব্যথা নিয়ে তারা অনেকেই প্রথমে স্থানীয় চিকিৎসকদের স্মরণাপন্ন হয়ে চিকিৎসা নেন। ৩/৪ দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর সুস্থ্য না হলে তারা এখানে আসেন এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষার পর জানতে পারেন তারা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসারত ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী লুন্দিয়া গ্রামের শহিদ মিয়া, রাজনগরের জামাল মিয়া, মহেশপুরের প্রাইমারি শিক্ষিকা মাকসুদা বেগম ও পুষ্প রানী দাস জানান, তারা জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর সাধারণ জ্বর ভেবে প্রথমে স্থানীয় পল্লীচিকিৎসকদের কাছ ওষুধ গ্রহণ করেন। তাতে ভালো না হওয়ায় ৩/৪ দিন পর তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসলে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ডেঙ্গু জ্বর শনাক্ত হলে তারা এখানে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে এখানে ভর্তি হওয়ার পর থেকে তারা অনেকটাই সুস্থ্যবোধ করছেন বলে জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *