# আলমগীর পাঠান :-
নরসিংদীর বেলাবো উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ঘুষ দাবি, হয়রানি এবং দালালের মাধ্যমে নামজারি করানোর অভিযোগ উঠেছে। নারায়ণপুর ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) সৈয়দ নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন বারৈচা বাজারের ব্যবসায়ী মো. হুমায়ুন কবির হোসেন।
লিখিত অভিযোগে মো. হুমায়ুন কবির হোসেন বলেন, ভূমি সংক্রান্ত তদন্তের জন্য তাকে অফিসে ডেকে একই স্মারকের বিপরীতে দুটি প্রতিবেদন দেখানো হয়। এর মধ্যে একটি তাঁর পক্ষে এবং অন্যটি বিপক্ষে ছিল। পক্ষে প্রতিবেদন পাঠানোর জন্য তাঁর কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। বিভিন্ন চাপ ও পরিস্থিতির কারণে তিনি ২০ হাজার টাকা দেন। পরে বাকি টাকা না দেওয়ায় তাঁর বিপক্ষে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, তদন্তের জন্য নায়েব তাঁর বাড়িতে গিয়ে তাকে না পেয়ে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।
এদিকে কাঙ্গালিয়া গ্রামের মজনু মিয়া অভিযোগ করেন, তাঁর নামজারি আবেদন পাঁচবার বাতিল হওয়ার পর দালালের মাধ্যমে ৬০ হাজার টাকার চুক্তিতে আবেদনটি প্রস্তাবিত করা হয়। পরে তাকে আরও ১০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
আরেক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, প্রায় পৌনে চার গণ্ডা জমি খারিজ করতে ২৭ হাজার টাকা দেওয়ার পর তাঁর কাছে আরও ৩ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নারায়ণপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের আশপাশে দালালদের আনাগোনা রয়েছে। নিয়ম মেনে আবেদন করেও বিভিন্ন অজুহাতে সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হন। অথচ দালালের মাধ্যমে গেলে কাজ সহজ হয় বলে অভিযোগ তাদের।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নায়েব সৈয়দ নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করা হচ্ছে। একই স্মারকের বিপরীতে দুটি প্রতিবেদনের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রথমবার কাগজপত্রের ঘাটতি ছিল।পরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেওয়ায় দ্বিতীয় প্রতিবেদন করা হয়।
সংশোধন করা প্রতিবেদন কেন পাঠানো হয়নি এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা ভুলবশত হয়েছে।
নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কাউসার কাজল বলেন, তাঁর কাছে কেউ এ বিষয়ে অভিযোগ করেননি। তবে ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা যেন দায়িত্বশীলভাবে কাজ করেন এবং জনগণ ভালো সেবা পান, সেটিই তিনি চান। এর ব্যত্যয় ঘটলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বেলাবো সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজিজ সারতাজ জায়েদ বলেন, অভিযোগের অনুলিপি ষতিনি পেয়েছেন। বাদী-বিবাদী উভয় পক্ষকে ডেকে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হবে।
উল্লেখ্য, সৈয়দ নজরুল ইসলাম ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত নারায়ণপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে তহশিলদার হিসেবে দায়িত্ব পালনকরেন। ২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর তিনি আবারও একই ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বদলি হয়ে আসেন।
নারায়ণপুর ভূমি অফিসে ঘুষের অভিযোগ ৫০ হাজার টাকা দাবি, ২০ হাজার দেওয়ার পর বিপক্ষে প্রতিবেদন পাঠানোর অভিযোগ
23 views
