ভৈরবে মানবপাচার মামলায় তথাকথিত সাংবাদিক সামসুল মামুন গ্রেপ্তার

62 views

# মিলাদ হোসেন অপু :-
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মানবপাচার মামলায় তথাকথিত সাংবাদিক সামসুল মামুন (৩২)কে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। ২১ জুলাই মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভৈরব পৌর শহরের সিলেট বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত কথিত সাংবাদিক সামসুল মামুন গণ অধিকার ভৈরব উপজেলা শাখার একজন নেতা। এতথ্য নিশ্চিত করেছেন ভৈরব থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লিমন বোস।
গ্রেপ্তারকৃত সামসুল মামুন উপজেলা কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের সিরাজ পাগলা মাজার সংলগ্ন এলাকার মৃত লাল মিয়া ফকিরের ছেলে।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ১৪ মে কিশোরগঞ্জ জেলা বিজ্ঞ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইনে মামলা দায়ের করেন অ্যাডভোকেট মোশারফ হোসেন নামে এক আইনজীবী। মামলায় সামসুল মামুনসহ তাঁর পরিবারে ৫ জনকে আসামি করা হয়। পরবর্তীতে আদালত মামলাটি এফআইআর করতে ভৈরব থানাকে নির্দেশ দেন। মামলাটি ১ জুন ভৈরব থানা পুলিশ এফআইআর করেন। ২১ জুলাই মঙ্গলবার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সিলেট বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে রাতে সামসুল মামুনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২ বছর আগে অভিযোগকারী অ্যাডভোকেট মোশারফ হোসেনের ছোট ভাই মোবারক হোসেনকে আলবেনিয়া দিয়ে ইউরোপের দেশ ইটালিতে পৌঁছে দিতে ১৫ লক্ষ টাকা কনট্রাক্ট করে। ২০২৪ সালে জানুয়ারি মাসের ৫ তারিখে প্রথমে পাসপোর্ট, ছবিসহ ১০ লক্ষ টাকা ও একই বছর ১০ এপ্রিল ভিসা দেখিয়ে ৫ লক্ষ টাকাসহ মোট ১৫ লক্ষ টাকা নেয় সামসুল মামুন ও তাঁর পরিবার। পরবর্তীতে মোবারক হোসেনকে প্রবাসে না পাঠিয়ে টাকা ফেরত দেয়া নিয়ে তালবাহানা করলে আদালতের মাধ্যমে ভৈরব থানা মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী পরিবার।
এ বিষয়ে অভিযোগকারী অ্যাডভোকেট মোশারফ হোসেন বলেন, মানব পাচারকারী মামুন ও তাঁর পরিবার লিবিয়া, আলবেনিয়া হয়ে ইতালি পাঠানোর কথা বলে ভৈরবের বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকে ২/৩ কোটি টাকা নিয়ে ভৈরবের সহজ সরল মানুষদের সাথে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসছে। এই মামুন নিজেকে কখনো সাংবাদিক কখনো কন্টেন্ট ক্রিয়েটর, কখনো গণ অধিকার এর নেতা পরিচয় দিয়ে অভিনব কায়দায় প্রতারণা করে আসছে। মামুনের চক্রটি আমার ছোট ভাইকে ইতালি পাঠানোর কথা বলে প্রথম দফায় ১০ লক্ষ টাকা ও দ্বিতীয় দফায় জাল ভিসা দিয়ে ৫ লক্ষ টাকাসহ মোট ১৫ লক্ষ টাকা নিয়ে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিল। আমি আমার টাকা ফেরত চাই ও মামুনগংদের বিচার দাবি করছি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মামুনের সাথে থানা চত্বরে কথা হলে মামুন জানায়, সে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। তাকে ও তাঁর পরিবারকে একটি চক্র মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত হলে সে নির্দোষ প্রমাণিত হবেন। বিদেশের টাকা লেনদেনের সাথে সে সরাসরি জড়িত নয়।
এ বিষয়ে ভৈরব থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লিমন বোস বলেন, আদালতের নির্দেশে ভৈরব থানায় মানবপাচার মামলাটি এফআইআর করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। মামুনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকী আসামিদের গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *