কুলিয়ারচরে রাস্তার কাজে নিম্নমানের সামগ্রী, এলাকাবাসীর তোপের মুখে কাজ বন্ধ করলো এলজিইডি

31 views

# মুহাম্মদ কাইসার হামিদ :-
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে এলজিইডির গুরুত্বপূর্ণ একটি রাস্তার নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসীর তীব্র ক্ষোভ ও চাপের মুখে অবশেষে সংশ্লিষ্ট রাস্তার নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কর্তৃপক্ষ।
উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২ কোটি ৭৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে উপজেলার গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর-পিরিজপুর পাকা রাস্তার দক্ষিণ গোবরিয়া (জাব্বা বাড়ি) মোড় হতে পূর্ব গোবরিয়া মাদ্রাসা পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার রাস্তার নির্মাণ কাজ পায় চট্টগ্রামের মেসার্স ইউনূস এন্ড ব্রাদার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। বেশ কিছু দিন আগে এ রাস্তার নির্মাণ কাজ শুরু করেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ জুলাই শুক্রবার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে রাস্তার কাজ করতে থাকলে তা স্থানীয় যুবসমাজের নজরে আসে। কাজের এই প্রকাশ্য অনিয়ম দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এলাকাবাসী। তারা তাৎক্ষণিকভাবে কাজে বাধা দেন এবং নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেন। এ সময় নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করার বেশ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয় তারা। সাথে সাথে এসব ভিডিও দ্রুত ভাইরাল হয় এবং এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। এলাকাবাসীর অভিযোগ রাস্তা নির্মাণ কাজে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ও নজরদারির অভাবে প্রতিষ্ঠানটি নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে কাজ করার সাহস পেয়েছেন। যা আদৌও কাম্য নয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চট্টগ্রামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইউনূস এন্ড ব্রাদার্স কুলিয়ারচরের আরও বেশ কয়েকটি রাস্তার নির্মাণ কাজের টেন্ডার পেয়েছে। এর আগেও এই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে ব্যাপক দুর্নীতির তথ্য পাওয়া গেছে। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে এতদিনেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
জনগণের প্রতিবাদের খবর পেয়ে উপজেলা এলজিইডি অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মামুন মিয়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি অনিয়মের সত্যতা পেয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সাময়িকভাবে রাস্তার কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। একই সাথে ব্যবহৃত নিম্নমানের সামগ্রী দ্রুত সরিয়ে নিয়ে ভালো ও মানসম্মত নির্মাণসামগ্রী দিয়ে পুনরায় কাজ শুরু করার তাগিদ দেন।
এব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের  সত্ত্বাধীকারী মো. ইউনূস মিয়াকে পাওয়া না যাওয়ায় তাঁর সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী (এলজিইডি) মামুন মিয়া রাস্তার নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, আমরা কাজের মানের ব্যাপারে কোনো আপস করব না। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ইতিমধ্যেই সমস্ত নিম্নমানের সামগ্রী সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী ভালো ও মানসম্মত উপাদান দিয়ে পুনরায় কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এলাকাবাসী আশা করছেন, এলজিইডি কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারির মাধ্যমে এবার যেন রাস্তাটির টেকসই ও মানসম্মত নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *