ভৈরবে বিয়ে গোপন করে যুবলীগ নেতার যোগসাজশে সরকারি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

142 views

# নিজস্ব প্রতিবেদক  :-
স্বামীর মৃত্যুর পর নিজের সংসার গোছাতে করলেন দ্বিতীয় বিয়ে। অথচ স্বামীর কর্মস্থল থেকে নিজে বিধবা সেজে সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে তুললেন স্বামীর পেনশনের টাকা। এমন অভিযোগ কিশোরগঞ্জের ভৈরবের সরকারি মহিলা কলেজের খণ্ডকালীন অফিস সহায়ক আফসানা বেগমের বিরুদ্ধে। তিনি সাবেক অফিস সহায়ক মৃত আসাদ মিয়ার স্ত্রী। তাঁর দ্বিতীয় স্বামী গজারিয়া ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা সাগর আহম্মেদ উজ্জ্বল।
অভিযোগকারী (মৃত আসাদের ভাই) কাউসার মাহমুদ। এ বিষয়ে কথা হলে কাউসার মাহমুদ বলেন, আমার ভাই সরকারি মহিলা কলেজে অফিস সহায়কের চাকরি করতেন। ভাইয়ের মৃত্যুর পর আমার ভাবি আফসানা বেগম আরেকটি বিয়ে করেছেন। বিয়ের পর তিনি আমাদের না জানিয়ে ভাইয়ের প্রাপ্ত পেনশনের টাকা উত্তোলন করে নিয়ে গেছেন। আমাদের কিছু না জানিয়ে ভাবি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। আমার মা অসুস্থ, অথচ ভাইয়ের পেনশনের এক টাকাও আমার মাকে দেওয়া হয়নি।
তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, ভাইয়ের মৃত্যুর পর ভাবি দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। বিয়ে গোপন করে দ্বিতীয় স্বামীর সাথে যোগসাজশে টাকা উঠিয়ে আত্মসাৎ করেছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বিয়ে হলে এভাবে টাকা ওঠাতে পারেন না। আমি চাই অফিস সহায়ক আফসানা’র কাছ থেকে সরকার এই টাকা ফেরত এনে একমাত্র মেয়ে সাদিয়া (৮) ও তাঁর অসুস্থ্য মা রাবিয়া খাতুন (৭০) কে টাকা বুঝিয়ে দেয়া হোক।
জানা যায়, ২০২২ সালের ৮ জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন আসাদ মিয়া। তাদের পরিবারে সাদিয়া (৮) নামে এক শিশুসন্তান রয়েছে। সরকারি মহিলা কলেজে অফিস সহায়ক হিসেবে আসাদ ও তাঁর স্ত্রী আফসানা দুজনেই চাকরি করতেন। সেই সুবাদে কলেজ থেকে স্বামীর মৃত্যুর পর প্রাপ্ত পেনশনের টাকা উত্তোলন করেন আফসানা। তবে এই টাকার বিষয়ে জানেন না আসাদের নিজ পরিবারের সদস্যরা। প্রথম স্বামীর মৃত্যুর পর গোপনে সাগর আহমেদ নামের এক যুবককে বিয়ে করেন আফসানা। সাগর যুবলীগ নেতা হিসেবে বেশ পরিচিত এবং তাঁর ফেসবুকে একাধিক রাজনৈতিক পোস্ট রয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নারী আফসানা বেগম বলেন, আমার কারো সাথে বিয়ে হয়নি। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
তবে অভিযুক্ত আফসানার দ্বিতীয় স্বামী সাগর আহমেদ বলেন, আফসানা আমার স্ত্রী। সে বিয়ের কথা গোপন রাখতে বলেছিল। গোপন না রাখলে নাকি আগের স্বামীর পেনশনের টাকা উত্তোলন করতে পারবে না।
অন্যদিকে আফসানার ভাই উজ্জ্বল মিয়া বলেন, সাগর আমার বোনকে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে সাগরের কাছ থেকে আমার বোনকে ডিভোর্স করাব।
এ বিষয়ে সরকারি মহিলা কলেজের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন বলেন, আসাদের স্ত্রী তাঁর স্বামীর মৃত্যুর পর নিয়মানুযায়ী টাকা উত্তোলন করেছেন। তাঁর দ্বিতীয় বিয়ের কথা আমাদের জানা ছিল না। নিয়ম রয়েছে, দ্বিতীয় বিয়ে হলে তিনি টাকা উত্তোলন করতে পারবেন না। এর জন্যও আলাদা নিয়ম আছে।
সরকারি জিল্লুর রহমান মহিলা কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মুজিবুর রহমান বলেন, এ প্রতিনিধির মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পরেছি। এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *