বাজিতপুরের ১১১ স্কুলে ঈদের ছুটির পর মিড-ডে মিল দেয়নি

93 views

# নিজস্ব প্রতিবেদক :-
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার ১১১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত সপ্তাহে কোন মিড-ডে মিল দেওয়া হয়নি। অর্থাৎ, ঈদের ছুটির পর টানা পাঁচদিন মিড-ডে মিল ছাড়াই চলেছে ১১১টি বিদ্যালয়। এর আগে মাঝে মাঝে ডিমের পরিবর্তে কেক দিয়েছে, কখনও কখনও নষ্ট ডিম দিয়েছে। শিশুরা দুর্গন্ধে খেতে পারেনি, ডিম ফেলে দিয়েছে বলেও কোন কোন প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন।
বাজিতপুরের ১১১টি বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল সরবরাহ করেন জাকির হোসেন নামে এক ব্যক্তি। উপজেলার মির্জাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইসলাম উদ্দিন জানিয়েছেন, ঈদের ছুটির পর একদিনও মিড-ডে মিল দেয়নি। এর আগে মাঝে মাঝে নষ্ট ডিম দিয়েছে। ভাঙলে দুর্গন্ধ বের হতো। যে কারণে শিশুরা এসব ডিম খেতে পারতো না, ফেলে দিয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। গাজীরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মাসুদ রানাও জানিয়েছেন, তাঁর বিদ্যালয়ে গত সপ্তাহে একদিনও মিড-ডে মিল দেওয়া হয়নি। ডিমের পরিবর্তে মাঝে মাঝে কেক দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
বাজিতপুরের ভারপ্রাপ্ত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুর রশিদকে শুক্রবার মোবাইল ফোনে প্রশ্ন করলে তিনিও স্বীকার করেছেন, গত সপ্তাহে একদিনও শিশুরা মিড-ডে মিল পায়নি। তিনি জানান, বাজিতপুরের বিদ্যালয়গুলোতে মিড-ডে মিল সরবরাহ করেন জাকির হোসেন নামে এক ব্যক্তি। তাকে তিনি প্রশ্ন করছেন, কেন মিড-ডে মিল দেওয়া হয়নি। জাকির হোসেন উত্তর দিয়েছেন, গত মাসের কোন বিল নাকি তিনি পাননি। তবে আগামী সপ্তাহ থেকে মিড-ডে মিল দেওয়া হবে বলে জাকির হোসেন আশ্বাস দিয়েছেন। তবে শিক্ষা কর্মকর্তা শিক্ষকদের বলে দিয়েছেন, মিড-ডে মিল না দিয়ে যেন ঠিকাদার তাঁর রেজিস্টার খাতায় কোন প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষর নিতে না পারেন। তিনি সোমবার শিক্ষকদের নিয়ে একটি সভা করবেন। সেই সভায় তিনি এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেবেন বলে জানিয়েছেন।
ঠিকাদার জাকির হোসেনকে এ ব্যাপারে মোবাইল ফোনে প্রশ্ন করলে তিনি এ প্রতিনিধিকে জানান, প্রতি মাসে মিড-ডে মিল বাবদ এক কোটি ৪০ লক্ষ টাকা খরচ হয়। কিন্তু গত মাসের বিল তিনি পাননি। যে কারণে গত সপ্তাহে খাবার দিতে পারেননি। তবে তিনি শুক্রবার ঢাকায় গিয়েছেন। শনিবার থেকে খাবার দিতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন। ডিমের পরিবর্তে কেক দেওয়া বা নষ্ট ডিম দেওয়া প্রসঙ্গে বলেন, কিছু বিরোধী লোক আছেন, তারাই এরকম অপপ্রচার করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *