# মোস্তফা কামাল :-
কয়েক বছর ধরে ঢাকার ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারসাজিতে জেলা পর্যায়ের চামড়া ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা কাঁচা চামড়া কিনে তাতে লবন প্রয়োগের পর যে মূল্য দাঁড়ায়, বাইরের ব্যবসায়ীরা সেই দামও দিতে চান না বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকার প্রতি বছর ঈদের আগে চামড়ার মূল্য নির্ধারণ করে দিলেও, বাইরের ব্যবসায়ীরা এর অর্ধেক দামও বলেন না। আবার যেসব স্থানীয় ব্যবসায়ী হাট থেকে চামড়া কিনে ঢাকায় ট্যানারিতে সরবরাহ করেন, তারাও ঢাকার মালিকরা ভাল দাম দিতে চান না বলে অভিযোগ করেছেন। স্থানীয় মৌসুমী ব্যবসায়ীদের দাবি, সরকার যেন আগের মত কাঁচা চামড়া বিদেশে রপ্তানির পরিবেশ তৈরি করে দেয়। প্রয়োজনে সরকারিভাবেও কাঁচা চামড়া কিনে বিদেশে রপ্তানি করতে পারে। তাতে চামড়ার বাজার আগের জায়গায় যাবে বলে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিমত।
গতকাল বৃহস্পতিবার কিশোরগঞ্জ শহরের পৌর মার্কেট এলাকায় সাপ্তাহিক চামড়া হাটে গিয়ে ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে এমন তথ্যই পাওয়া গেছে। ঈদের দুই সপ্তাহ পরও গতকাল চামড়ার হাটে প্রচুর চামড়া উঠতে দেখা গেছে। কিন্তু ক্রেতার আনাগোনা অনেক কম। কটিয়াদী উপজেলার করগাঁও এলাকার জামাল মিয়া হাটে ১৫০টি চামড়া নিয়ে এসেছিলেন। তিনি জানান, প্রতিটি চামড়ায় লবন ও পরিবহন ভাড়াসহ গড়ে খচর পড়েছে ৭৫০ টাকা। কিন্তু বাইরের ক্রেতারা এর থেকেও ১০ ভাগ মূল্য কম দিতে চান। তাঁর ওপর রয়েছে হাটের খাজনার টাকা। এভাবে ব্যবসা করা যাবে না বলে তিনি হতাশা ব্যক্ত করেছেন। জেলা শহরের নগুয়া এলাকার ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান বললেন, ট্যানারিগুলো যদি উপযুক্ত দামে চামড়া না কেনে, তাহলে সরকার নিজ উদ্যোগে কাঁচা চামড়া কিনে বিদেশে রপ্তানি করতে পারে। আগে বিদেশে কাঁচা রপ্তানি হতো। চীন ছিল একটি বড় ক্রেতা দেশ। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই দাবি তুলে ধরেছেন।
তাড়াইল উপজেলার ধলা এলাকার ব্যবসায়ী শংকর রবিদাস হাটে ৪০০ পিস চামড়া নিয়ে এসেছিলেন। কিছু চামড়া ছিল ২৬ বর্গফুট আয়তনের। তিনি জানান, সরকার প্রতি বর্গফুটের মূল্য নির্ধারণ করেছে ৫৭ টাকা থেকে ৬২ টাকা। সরকারি মূল্য অনুযায়ী এসব চামড়া দেড় হাজার টাকার বেশি দামে বিক্রি হওয়ার কথা। কিন্তু ঢাকার ব্যবসায়ীরা বলেন মাত্র ৭০০ টাকা! সরকারি দামে যেন কোম্পানিগুলো চামড়া কেনে, তিনি সরকারের কাছে সেইরকম তদারকি করার দাবি জানিয়েছেন। নিকলীর দামপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী আলমাস মিয়া ১১০ পিস চামড়া নিয়ে এসেছিলেন। প্রতিটি চামড়ার দাম পড়েছে ৭৫০ টাকা। কিন্তু দাম বলে ৭০০ টাকা। পাকুন্দিয়া উপজেলার পুলেরঘাট এলাকার ব্যবসায়ী আসাদ মিয়া হাটে এনেছিলেন ৩৫০ পিস চামড়া। তিনিও জানালেন, বাইরের ব্যবসায়ীরা যে দাম বলেন, তাতে চামড়ার দাম পড়ে ২০ টাকা বর্গফুট। তাহলে ঋণ করে টাকা খাটিয়ে কী করে এই ব্যবসা ধরে রাখবেন, প্রশ্ন রাখেন তিনি।
কোন কোন ব্যবসায়ী বলেছেন, সাধারণ ব্যবসায়ীরা সরকারের কাছ থেকে কোন প্রনোদনা পান না। অথচ মাদ্রাসাগুলোকে বিনামূল্যে লবন দেয়। কিন্তু মাদ্রাসাগুলো চামড়ায় এসব লবন ব্যবহার করে না। তারা কাঁচা চামড়াও বিক্রি করে, লবনও বিক্রি করে। ব্যবসায়ীরাই এসব লবন কিনে নেন বলে তারা জানিয়েছেন।
করিমগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুল মতিন জানান, তিনি হাটে এসেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চামড়া কেনার জন্য। তিনি এসব চামড়া ঢাকায় ট্যানারিগুলোতে সরবরাহ করবেন। তাঁর টার্গেট এক হাজার পিস চামড়া কেনা। তিনি বলেন, আমাদের পক্ষে বেশি দামে চামড়া কেনা সম্ভব হয় না। কারণ, ট্যানারি মালিকরা আগের মত চামড়ার দাম দিতে চান না।
সরকারি দামের অর্ধেকও পাওয়া যায় না, সরকারি উদ্যোগে কাঁচা চামড়া রপ্তানির দাবি ব্যবসায়ীদের
26 views
