আখ খাওয়া হলো শিশু আলভির বাড়ির পাশের পুকুরে ডুবে মৃত্যু

14 views

# মিলাদ হোসেন অপু :-
বাবা আমি আখ খাবো বলে সন্তানরা চলে গেলো বাড়ির পাশে মাঠে ফুটবল খেলতে। বাবা বাজারে যায় ছেলেদের জন্য আখ কিনতে। আখ কিনে নিয়ে ফিরে এসে শুনতে পান দুই ছেলে পানিতে পড়ে গেছে। এদের মধ্যে ছোট ছেলের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তাৎক্ষণিক পানিতে নেমে গেলেন বাবা। দীর্ঘ দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় ছোট ছেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। চিৎকার করে কান্না করতে করতে কথা গুলো বলছিলেন শিশুটির বাবা সবুজ মিয়া। ২৮ জুলাই মঙ্গলবার সকাল ১১টায় কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলা শিমুলকান্দি ইউনিয়নের রাজনগর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, রাজনগর গ্রামের মহিওসুন্নাহ মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও এলাকার সবুজ মিয়ার ছোট ছেলে আলভি মিয়া (১০) ও বড় ছেলে আজমির (১২)। দুুপুরে মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে এসে বাবার কাছে আখ খেতে চেয়ে বাড়ির পাশে মাঠে ফুটবল খেলতে যায়। ফুটবলটি খেলার এক ফাঁকে পাশের পুকুরে পড়ে যায়। পুকুর থেকে বল আনতে যায় আলভি মিয়া। এ সময় আলভি তলিয়ে গেলে বড় ভাই আজমির যায় উদ্ধার করতে। সেও পানিতে তলিয়ে যায়। পরে স্থনীয়রা আজমিরকে উদ্ধার করতে পারলেও ২ ঘণ্টা পরে আলভির মরদেহ উদ্ধার করে। অপরদিকে বড় ভাই আজমির ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেন।
এ বিষয়ে শিশুটির বাবা সবুজ মিয়া বলেন, আমার ছেলেকে আল্লাহর পথে জিহাদে যেতেই মাদ্রাসাই ভর্তি করিয়ে ছিলাম। পুকুরে পড়ে আমার ছেলেটা মৃত্যু বরণ করেছে। আল্লাহর মাল আল্লাহ নিয়ে গেছে। আমি আমার ছেলের জন্য সবার কাছে দোয়া চাই।
এ বিষয়ে রাজনগর গ্রামের মহিওসুন্নাহ মাদ্রাসার শিক্ষক শরীফুল ইসলাম বলেন, আলভি আমাদের মাদ্রাসায় দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়তো। সকালে মাদ্রাসায় এসে দুপুরে বাড়িতে খেতে যায়। দুপুরে দুইভাই সহপাঠীদের সাথে গোসল করতে এসে ছোট ভাই আলভি পানিতে তলিয়ে যায়। তাৎক্ষণিক আমি ৯৯৯ এ কল দিয়ে ফায়ারসার্ভিসে খবর দেয়। দুই ঘণ্টা পরও ফায়ার সার্ভিস আসে নাই। পরে স্থানীয়রা জাল ফেলে চতুর্থবারের মতো চেষ্টা করে আলভির মরদেহ উদ্ধার করে। আজমিরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে আনা হয়েছে।
এ বিষয়ে ভৈরব বাজার ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার মো. আল আমিন বলেন, গ্রামের রাস্তাগুলো অনেক চিকন। খবর পেয়ে যেতে সময় লেগেছে। স্থানীয়দের সহায়তায় শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ভৈরব থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লিমন বোস বলেন, পানিতে পড়ে শিশুর মৃত্যুর কোন তথ্য পায়নি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে খোঁজ নেবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *