# মিলাদ হোসেন অপু :-
রাশিয়ার আমুরে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত জাকির হোসেন (৩৫) এর বাড়িতে চলছে মা ও স্ত্রীর বুকফাটা আর্তনাদ। কোন ভাবেই থামছে না স্বজনদের আহাজারি। ২৮ আগস্ট শুক্রবার দুপুরে নিহতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্য। স্বজনদের কান্নায় ভারি হয়ে উঠছে বাতাস। পরিবারের বড় ছেলের অপেক্ষায় মা। যাকে অনেক স্বপ্ন নিয়ে পাঠিয়েছিলেন দূর প্রবাস রাশিয়ায়। ছেলের মাধ্যমে স্বপ্ন পূরণতো হয়নি বরং ছেলে পাঠানো ঋণের টাকা পরিশোধ করবেন কীভাবে ও চার বছরের কন্যা সন্তানকে কি বলে সান্ত্বনা দিবেন সেই ভাষা যেন হারিয়ে ফেলেছেন জাকিরের মা রোকেয়া বেগম।
নিহত জাকির হোসেন কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আতকা পাড়া গ্রামের বড় বাড়ির মৃত রতন মিয়ার ছেলে।
নিহতের ভাই শরীফ মিয়া বলেন, পরিবারের স্বচ্ছতা ফেরাতে দেড় বছর আগে তাঁর বাবা ধারদেনা করে ছেলেকে রাশিয়ায় পাঠায়। জাকিরের সাথে রাশিয়ায় সফরসঙ্গী ছিলেন তারই চাচাতো ভাই আলী হোসেন। সেখানে একটি কোম্পানিতে চাকরি করেন। শুরুতে অবস্থা ভাল না থাকলেও দুয়েক মাস আগে ওই কোম্পানিতে সুপারভাইজার হিসেবে প্রমোশন হয়েছে। পরিবারের জন্য সুদিন ছিল।
শরিফ আরো বলেন, ৯ মাস আগে বাবা রতন মিয়া অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। জাকিরের আরো তিন ভাই রয়েছে। একজন গ্রিসে গেছেন কয়েকমাস আগে। মাথায় ঋণের চাপ অনেক। ঋণের টাকাও পরিশোধ করতে পারেনি জাকির হোসেন। ২৫ আগস্ট পরিবার জানতে পারেন জাকির আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। রাশিয়ার অবস্থান করা চাচাতো ভাই আলী হোসেনও জানতো সে হাসপাতালে। কিন্তু ২৭ আগস্ট আলী হোসেনের মাধ্যমে জানতে পারে দুর্ঘটনার দিনই কোম্পানির একটি রুমে মৃত্যু হয় ও মরদেহ সেখানেই পড়ে আছে।
এসময় শরীফ নিজের বড় ভাইকে ফিরে পেতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান।
এ বিষয়ে নিহতের স্ত্রী রিপা বেগম বলেন, আমার সাথে ঘটনার দিন সকাল সাতটায় ফোনে ৫ মিনিট কথা বলেন। তখন সে বলে আমাদের সুদিন ফিরবে সবাই যেন দোয়া করি।
তিনি আরো বলেন, আমি কল্পনাও করতে পারিনি সে মৃত্যু বরণ করবেন। আমার চার বছরের তায়্যেবা নামে একটি কন্যা সন্তান রয়েছে আমি মেয়েকে নিয়ে কোথায় যাবো, কীভাবে মানুষ করবো। আমি আমার স্বামীর লাশ ফেরত চাই।
এ বিষয়ে একই দাবি মা রোকেয়া বেগমের। তিনি বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে যেন সন্তানের লাশটা বুকে নিতে পারেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কেএম মামুনুর রশীদ বলেন, এ প্রতিনিধির মাধ্যমে জাকির হোসেনের মৃত্যুর বিষয়টি জেনেছি। আমি প্রশাসনিক ভাবে খবর নিচ্ছি। নিহতের পরিবার যেন ছেলের মরদেহ দেশে আনতে পারে প্রয়োজনে সেই ব্যবস্থা করবো। সরকারিভাবে রাশিয়ায় গিয়ে থাকলে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও শ্রমকল্যাণ মন্ত্রণালয় বিষয়টি দেখবে। ভবিষ্যতে আর্থিক সহযোগিতারও সুযোগ রয়েছে।
জানা যায়, ২৫ আগস্ট রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় আমুর অঞ্চলে গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্সে (এজিসিসি) ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়। নিহত হয়েছেন ১৫ জন। এর মধ্যে একজন বাংলাদেশি থাকার কথা জানিয়েছে মস্কোতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস।
রাশিয়ার মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত জাকিরের গ্রামের বাড়ি ভৈরবে চলছে শোকের মাতম
85 views
