প্রবাসীর স্ত্রী, কোটি টাকা ও স্বর্ণ নিয়ে পালানোর অভিযোগ আইনজীবীর বিরুদ্ধে

76 views

# মোহাম্মদ খলিলুর রহমান :-
নরসিংদীতে এক কুয়েতপ্রবাসীর স্ত্রীকে নিয়ে প্রায় ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকা নগদ ও ৩৫ ভরি স্বর্ণালংকারসহ পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. নয়ন মোল্লার বিরুদ্ধে। ২৩ আগস্ট রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী কুয়েতপ্রবাসী মো. লুৎফর রহমান। এ ঘটনায় তিনি নরসিংদী মডেল থানা, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, নরসিংদী জেলা আইনজীবী সমিতি ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান।
লুৎফর রহমানের দাবি, জমিসংক্রান্ত বিরোধের কারণে দেশে ফিরে আদালতে মামলা করতে গিয়ে নরসিংদী জজ কোর্টের এপিপি নয়ন মোল্লার সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। তিনি পুনরায় প্রবাসে চলে যাবেন এ কারণে তাঁর স্ত্রী হাফসা আক্তারকে বাদী করে মামলা করার পরামর্শ দেন নয়ন মোল্লা। পরে হাফসা আক্তারকে বাদী করে মামলা করা হলে সেটির আইনগত কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব নেন তিনি।
অভিযোগকারীর ভাষ্য, মামলা পরিচালনার সূত্রে নয়ন মোল্লার সঙ্গে তাদের পরিবারের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। একপর্যায়ে বিভিন্ন অজুহাতে তাঁর স্ত্রী হাফসা আক্তারের কাছ থেকে প্রবাস থেকে পাঠানো অর্থ নেওয়া শুরু করেন নয়ন মোল্লা।
লুৎফর রহমানের অভিযোগ, পরে তাঁর স্ত্রী হাফসা আক্তার প্রায় ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকা নগদ ও ৩৫ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে নয়ন মোল্লার সঙ্গে চলে যান।
তিনি জানান, প্রায় ১৩ বছর আগে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার কৈলাগ ইউনিয়নের রাহেলা বেপারিপাড়া গ্রামের সেলিম মিয়ার মেয়ে হাফসা আক্তারকে বিয়ে করেন তিনি। বিয়ের পর তাদের দাম্পত্য জীবন স্বাভাবিকভাবেই চলছিল বলে দাবি করেন লুৎফর রহমান।
লুৎফর রহমান আরও জানান, গত ৩ আগস্ট প্রবাসে থাকা অবস্থায় বিষয়টি জানতে পেরে তিনি দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরে স্ত্রী, সন্তান ও দীর্ঘদিনের প্রবাসজীবনের সঞ্চয় না পেয়ে তিনি বিপাকে পড়েছেন। তাদের সংসারে ১১ বছর বয়সী একটি ছেলে ও ৮ বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে বলেও জানান তিনি।
লুৎফর রহমানের লিখিত অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দলীয় প্রভাব খাটিয়ে নয়ন মোল্লা নরসিংদী জজ কোর্টে এপিপি পদ লাভ করেন। তিনি নরসিংদী জেলা ছাত্রদলের সাবেক আইনবিষয়ক সহ-সম্পাদক এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া নয়ন মোল্লার বিরুদ্ধে এর আগেও অন্যের স্ত্রীকে নিয়ে চলে যাওয়ার অভিযোগ ছিল বলে দাবি করেছেন লুৎফর রহমান। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র কোনো প্রমাণ তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
প্রবাসী মো. লুৎফর রহমানের বোন মায়া আক্তার অভিযোগ করে বলেন, তাঁর ভাইকে অনেক শখ করে বাজিতপুরের একটি গরিব-মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে হাফসা আক্তারের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের পর প্রথম দিকে তাদের সংসার ভালোই চলছিল। তবে দুই সন্তান জন্মের পর বিভিন্ন অজুহাতে হাফসা আক্তার তাঁর বাবার বাড়িতে টাকা পাঠাতেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মায়া আক্তারের দাবি, কুয়েতে ব্যবসা করে তাঁর ভাই যে অর্থ উপার্জন করেছেন, তাঁর বড় একটি অংশই স্ত্রী হাফসা আক্তারের কাছে পাঠিয়েছেন। সর্বশেষ তাঁর ভাইয়ের কষ্টার্জিত বিপুল পরিমাণ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে হাফসা আক্তার নরসিংদী জজ কোর্টের এপিপি অ্যাডভোকেট নয়ন মোল্লার সঙ্গে চলে গেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
প্রায় ১৩ বছর আগে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার কৈলাগ ইউনিয়নের রাহেলা বেপারিপাড়া গ্রামের সেলিম মিয়ার মেয়ে হাফসা আক্তারকে বিয়ে করেন তিনি। বিয়ের পর তাদের দাম্পত্য জীবন স্বাভাবিকভাবেই চলছিল বলে দাবি করেন লুৎফর রহমান।
অভিযোগের বিষয়ে অ্যাডভোকেট মো. নয়ন মোল্লার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
নরসিংদী জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান ভূইয়া বলেন, নয়ন মোল্লার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ তারা পেয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সাধারণ সম্পাদককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে বারের নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি বার সদস্যপদ বাতিল হলে তাঁর এপিপি পদও স্বাভাবিকভাবেই চলে যাবে বলে জানান তিনি।
নরসিংদী সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আর আল মামুন বলেন, প্রবাসী লুৎফর রহমানের একটি অভিযোগ তারা পেয়েছেন। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *