বেহাল রাস্তায় ভুগছেন তিন উপজেলার দুই লাখ মানুষ

36 views

# মোস্তফা কামাল :-
কিশোরগঞ্জের তিনটি উপজেলার প্রায় দুই লাখ মানুষ চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃউপজেলা রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে। বহু বছর ধরে এর উন্নয়নে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ জনপ্রতিনিধিদের ওপর। রাস্তা জুরে বড় বড় খানাখন্দ। বৃষ্টি আসলেই যেন রাস্তার বিভিন্ন জায়গা জলাশয়ে রূপ নেয়। তখন বোঝার উপায় থাকে না, কোথায় বড় বড় গর্ত পানির তলে লুকিয়ে আছে। গাড়ি চলে ধীর গতিতে। এর পরও প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। গাড়ি কাত হয়ে রাস্তায় পড়ে যাচ্ছে।
এমনই নাজুক অবস্থা কিশোরগঞ্জ-কটিয়াদী-নিকলী সড়কের। সড়কটির জেলা সদরের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল এলাকা থেকে কটিয়াদী উপজেলার করগাঁও হয়ে নিকলী পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার এলাকার পুরোটাই নাজুক অবস্থায় আছে। এই রাস্তা ধরেই জেলা সদর থেকে কটিয়াদী, নিকলী এবং বাজিতপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মানুষজন চলাচল করে। প্রতিদিন শত শত হালকা ও ভারী যানবাহন চলাচল করে এই রাস্তা ধরে। এই রাস্তায় যেমন হালকা যানবাহন দিয়ে হাজার হাজার যাত্রী চলাচল করেন, আবার মালবাহী ট্রাক, ট্রক্টর, মাইক্রো এবং প্রাইভেট কারও চলাচল করে। বিশেষ করে জটিল রোগীদের পরিবহন খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। ২৩ জুলাই বৃহস্পতিবার রাস্তাটি পরিদর্শনে গিয়ে এমন ভোগান্তির চিত্রই দেখা গেছে।
আবার করগাঁও ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের লাহুন্দ গ্রামের দুই কিলোমিটার রাস্তার অবস্থা আরও ভয়াবহ। এর কিছুটা অংশে ইট বিছানো থাকলেও বেশিরভাগ জায়গা একেবারেই কাঁচা। রাস্তার এই অবস্থার জন্য এই রাস্তা দিয়ে অটোরিকশাও চলাচল করে না। একমাত্র বাহন মিশুক। অথচ এই গ্রামের বহু ছাত্র-ছাত্রী করগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। গ্রামবাসীর পাশাপাশি তাদেরও চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। করগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র মহিবুল্লাহ সানি জানিয়েছে, তাদেরকে বিদ্যালয়ে যেতে খুবই কষ্ট হয়। অনেক সময় জামাকাপড় নষ্ট হয়ে যায়। অনেকে পিচ্ছিল রাস্তায় পড়েও যায়। বৃষ্টি হলে অবস্থা আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করে।
একই গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ আলী ও ফুল মিয়া জানান, সারা বছরই এই রাস্তা তাদের জন্য ভোগান্তির কারণ। বিশেষ করে ফসল কাটার মৌসুমে এই রাস্তা দিয়ে ফসল পরিবহন খুবই কষ্টকর হয়ে পড়ে। বছরের পর বছর এখানে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন, মেম্বার নির্বাচিত হন। কিন্তু রাস্তার কোন উন্নতি হয় না। এলাকার মিশুক চালক জুনায়েদ জানিয়েছেন, এই রাস্তায় মিশুক ছাড়া আর কোন যানবাহন চলাচল করতে চায় না। তাও রাস্তার শেষ প্রান্ত পর্যন্ত যাওয়া যায় না। তাকে প্রতি সপ্তাহেই মিশুকের ¯িপ্রংসহ অন্যান্য যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে মিশুক নিয়ে যেতে হয় ওয়ার্কশপে।
এছাড়া করগাঁও গ্রামের বাসিন্দা মুিল্লক মিয়া জানান, গত ২০ বছরেও বোধ হয় নিকলী পর্যন্ত রাস্তাটিতে কোন কাজ করা হয়নি। বিভিন্ন নির্বাচনের সময়, নির্বাচনের পরেও এমপি সাহেবরা আসেন। কিন্তু এই রাস্তার ব্যাপরে কোন উদ্যোগ নেন না। অথচ জেলার অন্যান্য এলাকার রাস্তাঘাট আগের তুলনায় অনেক উন্নত হয়ে গেছে। নিকলী এলাকার অটোরিকশা চালক আরিয়ান জানান, তিনি গচিহাটা-নিকলী রুটে অটোরিকশা চালান। রাস্তাটির বিভিন্ন জায়গায় মাঝখানে তো গর্ত হয়ে আছেই, এমনকি অনেক জায়গায় সাইড থেকে মাটি সরে গিয়ে রাস্তাটি ভেঙে গেছে। অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে রাতের বেলায় দুর্ঘটনা বেশি হয়।
করগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নাদিম মোল্লাকে লাহুন্দ গ্রামের রাস্তার বিষয়ে প্রশ্ন করলে বলেন, রাস্তাটি প্রায় আড়াই কিলোমিটার হবে। কিছুটা অংশে ইট বিছানো হয়েছে। বাকি অংশের অবস্থা খুবই খারাপ। তবে রাস্তাটির জন্য তিনি কটিয়াদী উপজেলা প্রকৌশল অফিসে কথা বলেছেন। সামনে বাজেট আসলে বাকি রাস্তাটুকুর কাজ করা হবে বলে তাঁকে জানানো হয়েছে।
এদিকে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাকিল মোহাম্মদ ফয়সাল বলেছেন, এই রাস্তাটির অবস্থা আসলেই খুব নাজুক অবস্থায় আছে। একটি সমস্যা হলো, জেলার মধ্যে এই রাস্তাটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ হলেও খুবই সরু, মাত্র ১২ ফুট প্রস্থ। সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ে জায়গা অধিগ্রহণসহ পুরো রাস্তার জন্য একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তবে আপাতত সমাধান হিসেবে বিদ্যমান সড়কটি সংস্কার করার জন্যও মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সেটি অনুমোদন হলে আগামী শুষ্ক মৌসুমে রাস্তাটি সংস্কার করা হবে। আর জায়গা অধিগ্রহণসহ অপর প্রস্তাবটি অনুমোদন হলে তখন রাস্তাটি আরও প্রশস্ত হবে। তখন একটি দীর্ঘমেয়াদী সমাধান হবে বলে তিনি মনে করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *