# নিজস্ব প্রতিবেদক :-
কিশোরগঞ্জের একজন ফিজিওথেরাপিস্ট কাজ করতেন ঢাকায়। মেয়েদের নিয়ে শুক্রবার বাড়িতে এসেছিলেন হাওরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে। আনন্দের ষোলকলা পূর্ণ করতে তারা হাওরের টলমলে পানিতে নেমেছিলেন গোসল করতে। এক পর্যায়ে মেজো মেয়েটি স্রোতের টানে তলিয়ে যাচ্ছিল। বাবা ঝাঁপ দিলেন মেয়ের জীবন বাঁচাতে। বহু চেষ্টায় পেরেছিলেন বাঁচাতে। কিন্তু মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে অনেকটা নিস্তেজ অবস্থায় স্রোতের টানে হারিয়ে গেলেন বাবা। অবশেষে স্থানীয়রা দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা চালিয়ে তাঁকে উদ্ধার করতে পারলেও, ততক্ষণে তিনি নিজেই জীবন থেকে বিদায় নিয়েছেন। তিনি কিশোরগঞ্জ শহরের গাইটাল এলাকার মুরাদ পেট্রোল পাম্প সংলগ্ন আবু বকর মাস্টারের ছেলে বাছির উদ্দিন মিলন (৪২)।
গাইটাল এলাকার কিশোরগঞ্জ ক্লিনিকের মালিক ডা. শাহাদাত কবীর মুকুলসহ এলাকাবাসী জানিয়েছেন, বাছির উদ্দিন মিলন ঢাকায় নিজের প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে রোগীদের ফিজিওথেরাপি দিতেন। শুক্রবার তিনি মেয়েদের নিয়ে বেড়াতে গিয়েছিলেন করিমগঞ্জের বালিখলা ঘাট হয়ে গভীর হাওরে। এক পর্যায়ে তারা যান মিঠামইন সীমান্তে দৃষ্টিনন্দন হাসানপুর সেতু দেখতে। সেতুর দুই পাশের কিছু অংশ ছাড়া পুরো রাস্তা ডুবে গেছে। সেখানে তারা সবাই গোসল করতে নামেন। কিন্তু এক পর্যায়ে মেজো মেয়ে শামন্তী পানির নিচে পাকা রাস্তার ঢালে পা পিছলে তলিয়ে যাচ্ছিলেন। বাবা বাছির উদ্দিন মিলন সাথে সাথে ঝাঁপ দেন মেয়েকে বাঁচাতে। সেখানে প্রবল স্রোত ছিল। এই স্রোতে মেয়েকে বাঁচাতে অনেকক্ষণ পরিশ্রম করতে হয়েছে মিলনকে। শেষ পর্যন্ত মেয়েকে বাঁচাতে পেরেছিলেন। কিন্তু ততক্ষণে তিনি নিজেই নিস্তেজ হয়ে স্রোতের টানে নিজেকে আর সামলে রাখতে পারলেন না। হারিয়ে গেলেন পানির গভীরে। মেয়েরা আহাজারি করছেন। এসময় ওই এলাকায় উপস্থিত স্থানীয় লোকজন প্রাণপণ চেষ্টা করেও মিলনের খোঁজ পাচ্ছিলেন না। অবশেষে মিলনকে উদ্ধার করতে পারলেও ততক্ষণে তিনি আর বেঁচে নেই। এই হৃদয়বিদারক দৃশ্যে উপস্থিত সবাই হতবিহ্বল।
করিমগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সোহেব খানও সাংবাদিকদের এরকমই বর্ণনা দিয়েছেন। শুক্রবার রাতেই জানাজা শেষে গাইটাল এলাকার পারিবারিক গোরস্থানে বাছির উদ্দিন মিলনকে দাফন করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। পরিবারে চলছে আহাজারি।
মেয়ের জীবন বাঁচিয়ে জীবন থেকে বিদায় নিলেন বাবা
9 views
