# খাইরুল ইসলাম সবুজ :-
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের খরকমারা এলাকায় একটি গোডাউনে অবৈধভাবে মজুতকৃত বিপুল পরিমাণ সরকারি চাল জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। তবে পরবর্তীতে ১৮ হাজার কেজির ৬০০ বস্তা সরকারি চাল স্থানীয় এক বিএনপি নেতার জিম্মায় রেখে আসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। একই সঙ্গে গঠন করা হয় একটি তদন্ত কমিটি। কিন্তু সেই তদন্ত প্রতিবেদন পছন্দ না হওয়ায় পুনরায় আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন ইউএনও। এদিকে, জিম্মাদারের উপস্থিতিতে চাল সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে ও প্রশাসনের সহযোগিতায় চালগুলো উদ্ধার হয়।
জানা যায়, গত ২৪ মে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খরকমারা এলাকার একটি গোডাউনে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সরকারি চাল জব্দ করেন উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইয়াছিন খন্দকার। পরবর্তীতে জব্দকৃত চালের ৬০০ বস্তা (১৮ হাজার কেজি) সিলগালা না করে কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক আহমেদের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়। একই সঙ্গে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মর্জিনা আক্তারকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেয় প্রশাসন। তবে প্রথম তদন্ত প্রতিবেদন মনমতো না হওয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে প্রধান করে আবার পুনঃতদন্ত কমিটি গঠন করেন ইউএনও।
অন্যদিকে, গত ২৯ জুলাই বুধবার রাতে জিম্মাদারের উপস্থিতিতেই ট্রাকে করে চাল সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালানো হয়। বিষয়টি সাংবাদিকদের নজরে এলে তোলপাড় সৃষ্টি হয় এবং পরবর্তীতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে চালের বস্তাগুলো উদ্ধার করে আবারও গোডাউনে রাখা হয়। চাল জব্দের দুই মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
চাল জিম্মাদার ও উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক আহমেদ জানান, চালের সঙ্গে থাকা অন্য মালামাল রোদে শুকাতে বুধবার রাতে ট্রাকে তোলা হচ্ছিল। এ সময় মিল মালিক কিছু চালের বস্তাও নিয়ে যেতে চান। খবর পেয়ে প্রশাসনের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে তিনি চালের বস্তাগুলো ট্রাক থেকে নামিয়ে পুনরায় গোডাউনে রাখার ব্যবস্থা করেন।
চাল মজুতকারী জিল্লুর রহমানের দাবি, আমি কাবিখা’র (কাজ-বিনিময়ে খাদ্য) চাল কিনেছি। জুন মাসের চাল আগেই বিক্রি করেছি। কিন্তু চালের দাম কমে যাওয়ায় এগুলো বিক্রি করতে পারিনি। গোডাউন খুলে দেওয়া হলে বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়া চালগুলো শুকাতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।
পুনঃতদন্ত কমিটির প্রধান ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ড. মো. আদনান আখতার বলেন, সরকারি চাল অবৈধভাবে মজুত করে রাখার বিষয়টি তদন্তাধীন। আশা করছি, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আমরা চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারব।
এ বিষয়ে কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইয়াছিন খন্দকার বলেন, এভাবে সরকারি চাল গোডাউনে মজুত রাখার কোনো নিয়ম নেই। সে হিসেবে আমরা প্রাথমিকভাবে এটিকে অপরাধ হিসেবেই বিবেচনা করছি। চালগুলো কোথা থেকে কীভাবে এসেছে, তা বের করতে প্রথমে কৃষি কর্মকর্তাকে ও পরে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুলিয়ারচরে সরকারি চাল জব্দ নিয়ে ধোঁয়াশা
30 views
