ভৈরবে ৩ সন্তানের জননী বিধবা এক নারীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

28 views

# মিলাদ হোসেন অপু :-
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে প্রতিবেশী স্বামী-স্ত্রীর বাঁশের আঘাতে লিলি বেগম নামে এক ষাটোর্ধ্ব নারীর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহত লিলি বেগম জগন্নাথপুর দক্ষিণ পাড়া গাইনহাটি এলাকার মৃত সুরুত আলীর স্ত্রী ও হাজী ধন মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া।
ময়নাতদন্তের জন্য ২৫ জুলাই শনিবার সকালে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে মরদেহ প্রেরণ করেছে ভৈরব থানা পুলিশ। এর আগে ২৪ জুলাই শুক্রবার বিকালে পৌর শহরের জগন্নাথপুর দক্ষিণ পাড়া গাইনহাটি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ভৈরব থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লিমন বোস।
অভিযুক্তরা একই এলাকার জাহাঙ্গীর মিয়া (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী লিমা বেগম (৩০)। জাহাঙ্গীর মিয়া ওই এলাকার মানিক মিয়ার ছেলে। ঘটনার পর জাহাঙ্গীর ও তাঁর পরিবার বাড়িঘর তালাবদ্ধ করে পালিয়ে গিয়ে গা ঢাকা দিয়েছে।
থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকালে বাড়ির উঠুন ঝাড়ু দিচ্ছিলেন ষাটোর্ধ্ব নারী লিলি বেগম। এসময় প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর মিয়ার ১০ বছর বয়সী ছেলে আলিফ সাইকেল চালাচ্ছিলেন। সাইকেল চালানোর সময় আলিফ লিলি বেগমের শরীরে সাইকেল লাগিয়ে দিলে বিষয়টি নিয়ে আলিফের পরিবারের সাথে বাকবিতণ্ডা হয় লিলি বেগমের। এক পর্যায়ে লিলি বেগমকে মারধর করে জাহাঙ্গীর মিয়া ও তাঁর স্ত্রী লিমা বেগম। মারধরে ও বাঁশ, ইটের একাধিক আঘাতে ঘটনাস্থলে অচেতন হয়ে পড়েন লিলি বেগম। স্থানীয়রা লিলি বেগমকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রতিবেশী বকুল বেগম ও বেদেনা বেগম বলেন, লিলি বেগম ও তাঁর সন্তানরা এলাকার নিরীহ মানুষ। প্রায় সময় জাহাঙ্গীরদের পরিবারের সাথে লিলি বেগমদের বাকবিতন্ডা হতো। শুক্রবার বিকালে জাহাঙ্গীরের ছেলের সাইকেল চালনোর ঘটনা নিয়ে তর্ক-বিতর্কের মধ্যে বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে ও ইট দিয়ে আঘাত করে লিলি বেগমকে হত্যা করেছে।
ঘটনার পর জাহাঙ্গীর ও তাঁর পরিবার বাড়িঘর তালা দিয়ে পালিয়ে গেছে।
আমরা প্রতিবেশীরা চাই জাহাঙ্গীর ও তাঁর পরিবারকে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় এনে বিচার করা হোক। তারা আরো বলেন, লিলি বেগমের স্বামী মারা গেছে তিন সন্তান রেখে। মেয়ে দুইটার বিয়ের বয়স হয়েছে। একমাত্র ছেলে মানুষিক প্রতিবন্ধী। তারপরও ভৈরব বাজারে ব্যবসায়ীদের টিফিন বাক্সে খাবার সাপ্লাই করে। লিলি বেগম মানুষের বাড়িতে কাজ করে তাদের সংসার চালাতো।
এ বিষয়ে নিহতের মেয়ে সৌরভি বলেন, আমার মাকে জাহাঙ্গীর ও তাঁর স্ত্রী পিটিয়ে হত্যা করেছে। আমার মা আমাদের লালন পালন করতেন। আমাদের এখন কি হবে। আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি। জাহাঙ্গীর আমাদের এতিম করে দিয়েছে। আমরা জাহাঙ্গীরের ফাঁসি চাই।
এ বিষয়ে ভৈরব থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লিমন বোস বলেন, আলিফ নামে এক শিশুর সাইকেল চালানোকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এসময় বাঁশের আঘাতে ষাটোর্ধ্ব নারী গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে ডাক্তার ওই নারীকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর অভিযুক্তরা বাড়িঘর তালাবদ্ধ করে পালিয়ে গেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *