বাজিতপুরে ব্র্যাকের উদ্যোগে ২০ সদস্যের মাঝে ৪০০টি উন্নতমানের মুরগির বাচ্চা বিতরণ, প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

19 views

# মো. খলিলুর রহমান :-
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষে ব্র্যাকের উদ্যোগে ২০ জন নারী সদস্যের মাঝে ৪০০টি উন্নতমানের মুরগির বাচ্চা বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অংশগ্রহণকারীদের জন্য আয়োজন করা হয় মুরগি পালন, পরিচর্যা ও রোগব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা।
১৫ জুন সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় বাজিতপুর উপজেলা ব্র্যাক শাখা কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাজিতপুর সদর, বাংলাবাজার ও বোর্ডবাজার শাখার আওতাধীন ২০ জন নারী সদস্য ও গৃহিণীর হাতে প্রতিজনকে ২০টি করে মোট ৪০০টি উন্নতমানের মুরগির বাচ্চা তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, ব্র্যাক কিশোরগঞ্জ জেলা সমন্বয়কারী সাফরিনা জান্নাত, বাজিতপুর এলাকার ব্যবস্থাপক মোরশেদ আলম, সম্প্রসারণ কর্মকর্তা নাজমুল হাসান, সিনিয়র শাখা ব্যবস্থাপক (দাবি) আব্দুল মান্নানসহ ব্র্যাকের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এছাড়াও স্থানীয় কৃষক-কৃষাণী, উপকারভোগী সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বক্তারা বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতিতে ক্ষুদ্র পরিসরে মুরগি পালন একটি লাভজনক ও টেকসই উদ্যোগ। সঠিক পরিচর্যা, পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহ এবং সময়মতো টিকাদানের মাধ্যমে অল্প পুঁজিতেই পরিবারগুলো অতিরিক্ত আয় করতে পারে। একই সঙ্গে ডিম ও মাংসের মাধ্যমে পরিবারের পুষ্টির চাহিদাও পূরণ সম্ভব হয়।
বক্তারা আরও বলেন, নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও স্বাবলম্বী করে তুলতে এ ধরনের কর্মসূচী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উপকারভোগীরা আধুনিক পদ্ধতিতে মুরগি পালন, রোগ প্রতিরোধ, খামার ব্যবস্থাপনা এবং বাজারজাতকরণ সম্পর্কেও প্রয়োজনীয় ধারণা লাভ করেন।
মুরগির বাচ্চা পেয়ে উপকারভোগীরা আনন্দ প্রকাশ করে জানান, ব্র্যাকের এ সহায়তা তাদের পরিবারের জন্য নতুন আয়ের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। যথাযথ পরিচর্যার মাধ্যমে তারা মুরগিগুলো বড় করে বিক্রি ও ডিম উৎপাদনের মাধ্যমে সংসারের আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে চান।
ব্র্যাক কর্মকর্তারা জানান, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা এবং টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। স্থানীয়দের মতে, এমন উদ্যোগ শুধু উপকারভোগী পরিবারগুলোর আয় বৃদ্ধিতেই সহায়ক হবে না, বরং গ্রামীণ পর্যায়ে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *