# ইশতিয়াক আহমাদ শৈভিক :-
সারাদেশের ন্যায় ভৈরবেও সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষ-শিশু অবাল বৃদ্ধাবনিতাসহ জন্মাষ্টমী স্নান উৎসব উদযাপন করেছেন। ২৬ মার্চ বৃহস্পতিবার ভোর থেকে অষ্টমী স্নান উৎসবে যোগ দিতে পৌর শহরের কমলপুর পঞ্চবটি শ্মশান ঘাটে আসেন পূণ্যার্থীরা। সূর্যোদয়ের আগে থেকেই সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষ শিশু বৃদ্ধসহ বিভিন্ন বয়সের হাজার হাজার পূণ্যার্থীরা স্নান উৎসবে যোগ দেন। ঢাক ঢোল পিটিয়ে, বিভিন্ন প্রকার ফুল, ফল, মোমবাতি, আগরবাতি, চাল, ডাল, ডাব, নারীকেলসহ বিভিন্ন উপকরণ নিয়ে উৎসবে আসে পূণ্যার্থীরা। উৎসবে চলে প্রসাদ বিতরণ, ব্রাহ্মণদের দক্ষিণা প্রদান, প্রার্থনা করা। এ সময় পূজা উদযাপন পরিষদ ও যুব উন্নয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে জন্মাষ্টমীতে স্নান করতে আসা প্রায় ১০ হাজার পূণ্যার্থীদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।
স্নান করতে আসা সুজন বর্মনসহ অনেকেই নদের পাড়ে বসে শ্রীমদ্ভগব˜ গীতা পাঠ করতে দেখা যায়। এছাড়াও হাতে তিলের জল, ফুল দুর্বাঘাস নিয়ে স্নানের পাশাপাশী প্রার্থনা করছেন। ইচ্ছা পূরণে নদে ফল ছুড়ে দিচ্ছে। অনেক পূণ্যার্থী চন্দন কাঠের তিলক গ্রহণসহ শতাধিক পসরায় স্বর্গীয় পিতা মাতার নামে চাল, ডাল ও টাকা দান করতে দেখা যাচ্ছে।
স্নান উৎসবকে কেন্দ্র করে নদের পাড়ে বিভিন্ন দোকান ও ষ্টল বসেছে। এসব ষ্টলে খৈ, মন্ডা, মাটির তৈরী মূর্তি পুতুল, হাঁড়ি, বাঁশিসহ বিভিন্ন জিনিস বিক্রি করতে দেখা যায়। এলাকার তপন বর্মন (৫০) বলেন, আমাদের পূর্বপুরুষগণ এখানে স্নান উৎসব করে আসছে। বাংলাদেশে অন্যান্য জায়গার মতো ভৈরবেও স্নান উৎসব চলছে শতাধিক বছর ধরে। এতে ভৈরবসহ পাশ্বর্বতী জেলার লোকজনও এ উৎসবে ছুটে আসে। দূরের অনেকে নৌকা রিজার্ভ নিয়ে স্নান উৎসবে অংশ গ্রহন করেছে। স্নান উৎসবটিকে ঘিরে যে পরিমাণ সুন্দর পরিবেশ থাকার কথা তা না থাকলেও দর্শনার্থী ও পূণ্যার্থীদের সমাগম ঘটে অনেক।
জন্মাষ্টমী অনুষ্ঠানে যোগ দেন ভৈরব পৌর বিএনপি সাধারণ সম্পাদক ভিপি মো. মুজিবুর রহমান, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ভৈরব উপজেলা শাখার সভাপতি চন্দন কুমার পাল, সহ-সভাপতি অধ্যাপক দীপক সাহা, হিন্দু, বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ শিমন্ত পাল, সরকারি হাজী আসমত কলেজের সাবেক অধ্যাপক রবীন্দ্র পালসহ পূজা উদযাপন যুব উন্নয়ন পরিষদের নেতৃবৃন্দ।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ভৈরব উপজেলা শাখার সভাপতি চন্দন কুমার পাল বলেন, জন্মাষ্টমীতে স্নান করতে আসা পূণ্যার্থীরা নদীর ঘাটে যাওয়ার জন্য কোন রাস্তা ও ঘাট না থাকায় যাতায়াতে অনেক কষ্ট করেছে। এলাকায় কর্দমাক্ত ও ঘাটলা না থাকায় গঙ্গা স্নান স্বাচ্ছন্দে ও আনন্দের সাথে সম্পন্ন করতে পারেনি। পাশেই ভৈরব উপজেলার পঞ্চবটি মহা শ্মশানঘাট নাজুক অবস্থায় পড়ে আছে। শ্মশান ঘাটটি সংস্কারের অভাবে জীর্ণশীর্ণ অবস্থায় আছে এবং রাস্তার অভাবে হিন্দু সম্প্রদায়ের মৃতদেহ দাহ করতে শ্মশানঘাটে নিয়ে যেতে খুবই অসুবিধা হয়। আমাদের মাননীয় সংসদ সদস্য বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলমের কাছে পঞ্চবটি শ্মশান ঘাটটির রাস্তাসহ শ্মশানঘাট পুনঃসংস্কার করে দেয়ার জন্য জোর দাবী জানাচ্ছি।
এদিকে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ভিপি মো. মুজিবুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সম্প্রদায়ের শ্মশান ঘাটের রাস্তা নির্মাণ ও শ্মশানঘাটটি পুনঃসংস্কার করে দিবেন বলে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলমের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করেছেন।
ভৈরবে ব্রহ্মপুত্র নদে অষ্টমী স্নান উৎসবে হাজারো পূণ্যার্থীর ঢল
122 views
