সংসারের হাল ধরতে সৌদি গিয়ে কারাগারে ফিরলো লাশ হয়ে

16 views

নিজস্ব প্রতিবেদক :-
কিশোরগঞ্জ শহরতলির এক যুবক চার লক্ষ টাকা ঋণ করে সৌদি আরব গিয়েছিলেন ২০১৯ সালে। বৈধ কাজের অনুমতির জটিলতায় পড়ে কাজ করছিলেন বেআইনিভাবে। সৌদি পুলিশের হাতে ধরা পড়ে ঠাঁই হলো কারাগারে। কারাগারেই হলো জীবনাবসান। ১৫ মে মৃত্যুর ২৮ দিন পর লাশ আসলো বাড়িতে। ওই যুবক সদর উপজেলার মারিয়া ইউনিয়নের পূর্ব কাতিয়ারচর গ্রামের ওমর ফারুকের ছেলে শাকিল (২৮)।
শাকিলের বাবা ওমর ফারুক জানান, শাকিলকে চার লক্ষ টাকা ঋণ করে বনানীর আলতাব রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে সৌদি আরবে পাঠানো হয়েছিল। একটি কোম্পানিতে কাজ করলেও বৈধভাবে কাজের জটিলতা ছিল। ফলে ওই কোম্পানি ছেড়ে দিয়ে বৈধ অনুমতি ছাড়াই নিজের মত করে কাজ করছিলেন। সৌদি পুলিশের নজরে পড়ে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যেতে হয় শাকিলকে। গত ১৫ মে কারাগারের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের বিস্ফোরণে সৃষ্ট গ্যাসে শ্বাকষ্টে শাকিল মারা যান। শাকিলকে নিয়ে আশায় ছিল পরিবার। রোজগার করে পরিবারের হাল ধরবেন। কিন্তু সব শেষ হয়ে গেল। শাকিলই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য ছিলেন বলে জানালেন বাবা ওমর ফারুক।
শাকিলের লাশ দেশে আনার বিষয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছিল পরিবার। শেষ পর্যন্ত কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলমের ব্যক্তিগত উদ্যোগে সরকারিভাবে শুক্রবার রাতে লাশ হযরত শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসে। আর বাড়িতে আসে ১৩ জুন শনিবার সকালে। মা-বাবাসহ এখন বাড়িতে কেবলই আহাজারি করছেন।
এদিকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন কিশোরগঞ্জ প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের সহকারী পরিচালক নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, পরিবারের পক্ষ থেকে শুক্রবার তাঁর সাথে শাকিলের বিষয়ে যোগাযোগ করা হয়েছিল। পরিবার পরবর্তী সময়ে শাকিলের যাবতীয় কাগজপত্রসহ যোগাযোগ করলে এককালীন অনুদানের বিষয়ে প্রক্রিয়া শুরু করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *