# মিলাদ হোসেন অপু :-
তেল সংকটের অজুহাতে দাম বেশি হওয়ায় উভয় সংকটে পড়েছে নৌযান মালিক আর চালকরা। ফলে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে কিশোরগঞ্জের ভৈরব থেকে নৌ পথে চলাচল করা যাত্রী আর পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত নৌযান চলাচল।
বন্দর নগরী ভৈরব বাজার ব্যবসা বাণিজ্যের প্রাণ কেন্দ্র হিসেবে বেশ পরিচিত। বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে নৌকা, লঞ্চ আর স্টিমারে করে ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন ভৈরবে বিভিন্ন রকমের মালামাল নিয়ে আসে বিক্রির জন্য। আবার অনেক ব্যবসায়ীরা বিক্রির জন্য এখান থেকে বিভিন্ন পণ্য কিনে নিয়ে যায় নিজ অঞ্চলে।
গতকাল শনিবার সরেজমিনে ভৈরব বাজার নৌ-ঘাটে গিয়ে জানা যায়, ভৈরব বাজারের বৃহৎ পণ্যের একটি অংশ আর যাত্রী পরিবহনে ব্যবহৃত হয়ে থাকে নৌকা, লঞ্চ আর স্টিমার। নৌ ঘাটের যাত্রী আনা নেওয়া, বিভিন্ন জেলা উপজেলার হাট বাজার থেকে নিতে আসা পণ্যবাহী নৌকা, ট্রলার ও নদী পারাপারের খেয়া নৌকাসহ লঞ্চ ও স্পিড বোট মালিকরা বিপাকে পড়েছে জ্বালানি তেলের সংকটে। চাহিদা মতো তেল না পেয়ে খুচরা বিক্রেতাদের নিকট কিনতে হচ্ছে প্রতি লিটারে ১৫ থেকে ২০ টাকা বেশি দিয়ে। পেট্রোল কিনতে হচ্ছে প্রতি লিটারে পঞ্চাশ টাকা বেশি দরে। বেশি দামে তেল কিনে বিপাকে পড়েছে নৌকার মাঝি ও স্পিড বোট মালিকগণ। এই অবস্থা চলতে থাকলে নৌকা, লঞ্চ আর স্পিড বোটসহ চলাচল বন্ধ করে দিতে হবে সব ধরনের নৌযান। না হয় ভাড়া বাড়াতে হবে বলেন নৌকা ও স্পিডবোট মালিকরা।
প্রসঙ্গত, ইরান ইসরাইল যুদ্ধের প্রভাব সারা পৃথিবীর ন্যায় বাংলাদেশেও পড়েছে। তারই প্রভাবে জ্বালানি তেল সরবরাহে শুরু হয় রেশনিং পদ্ধতি। যার ফলে পর্যাপ্ত ডিজেল ও পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ পাচ্ছেন না ডিলার ও এজেন্টরা। এর প্রভাব পড়েছে নৌপথে চলাচলকারী সব ধরনের নৌযানে। এই সুযোগে এক শ্রেণির ডিলার ও এজেন্ট ও খুচরা জ্বলানী ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত দামে জ্বালানি তেল বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করার অনুরোধ জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
বৃষ্টি লঞ্চ মালিক মনির হোসেন বলেন, পূর্বে এজেন্সিগুলো লঞ্চের জন্য ন্যায্য মূল্যে তেল দিত। এখন নাকি তারা তেল পান না। তাই আমাদেরকেও তেল দিতে পারছে না। এখন আমরা বাহির থেকে তেল সংগ্রহ করি। এতে করে ব্যারেল প্রতি আমাদের অতিরিক্ত পাঁচশত টাকা দিয়ে কিনতে হয়।
লঞ্চের সারেং ওয়ালী উল্লাহ বলেন, সড়ক পথে যাতায়াত সময় কম লাগায় এমনিতেই লঞ্চে যাত্রী বেশি হয় না। ব্যারেল পাঁচশ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে। তেলের সংকট আর দাম বেড়ে যাওয়ায় লঞ্চ চলাচলও বন্ধের আশঙ্কা রয়েছে।
খেয়া ঘাটের একাধিক মাঝি বলেন, প্রতি লিটারে পনেরো থেকে বিশ টাকা করে দাম বেড়েছে। তাও আবার সব সময় তেল পাওয়া যায় না। তেলের দাম বাড়লেও আমাদের ভাড়া বাড়েনি। তেলের সংকট ও দাম বৃদ্ধির কারণে নৌকায় যাত্রী পারাপার বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে।
ভৈরব বাজার জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতির সভাপতি অহিদ মিয়া বলেন, আমরা সমিতিতে মিটিং করে জ্বালানি তেল বিক্রেতাদের জানিয়ে দিয়েছি লিটারে একশ টাকার বেশি কেউ বিক্রি করতে পারবে না। যদি কেউ অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রি করে তাহলে আমরা তাঁর বিরুদ্ধে প্রশাসনের সহযোগিতায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এবিষয়ে যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড ভৈরব ডিপো ইনচার্জ মো. মতিউর রহমানের মুঠোফোনে কথা বলতে চাইলে তিনি ব্যস্তার অযুহাতে কলটি কেটে দেন।
তেল সংকটের অজুহাতে দাম বেশি হওয়ায় বিপাকে পড়েছে নৌযান মালিক আর চালকরা
109 views
