বাজিতপুরে স্ত্রীর মামলায় স্বামীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী ওয়ারেন্ট জারি, নয় মাসেও গ্রেপ্তার হয়নি অভিযুক্ত স্বামী

93 views
# মুহাম্মদ কাইসার হামিদ :-
যৌতুকের জন্য অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে শারীরিক ও মানষিক নির্যাতনের অভিযোগে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে স্ত্রীর মামলায় স্বামীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি হলেও অভিযুক্ত স্বামীকে নয় মাসেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ এমন অভিযোগ বাদীর।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ১১(গ)/৩০ ধারায় গত ২৩ এপ্রিল ২০২৫ তারিখ বাজিতপুর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের মৃত আঙ্গুর মিয়ার মেয়ে মোছা. তাসলিমা আক্তার (৩৬) এর দায়ের করা বাজিতপুর থানার মামলা নং- ১৮ এর আসামি বাজিতপুর উপজেলার বলিয়ারদী গ্রামের মৃত মো. মেরাজ মিয়ার ছেলে মো. সোহাগ মিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি করেন কিশোরগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২।
গত ১২ আগস্ট ২০২৫ ইং তারিখ ১০০৮/ড/অ স্বারক মূলে এ গ্রেপ্তারী পরোয়ানা   ওয়ারেন্ট জারি করেন বিজ্ঞ আদালতের বিচারক। এর আগে মামলা রুজু হওয়ার পর অভিযুক্ত সোহাগ মিয়াকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করলে স্ত্রীর সাথে আপোষ মিমাংসার শর্তে ২ মাসের সময় নিয়ে জামিনে মুক্ত হয়ে স্ত্রীর সাথে কোন যোগাযোগ না রেখে আত্মগোপনে চলে যায় অভিযুক্ত সোহাগ মিয়া। পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালতে আর কোন হাজিরা না দেওয়ায় এই গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি করা হয়। এই নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত মো. সোহাগ মিয়া (৪০) তাঁর অন্তঃসত্ত্বা অসুস্থ স্ত্রী মোছা. তাসলিমা আক্তার (নাহিদা) কে প্রায় সময় যৌতুকের জন্য মানসিক ও শারীরিক ভাবে নির্যাতন করে আসছিলো। গত ২০২৫ সালের ১৪ মার্চ রাত আনুমানিক ৯টার দিকে স্ত্রীকে যৌতুকের জন্য মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করে কোন প্রকার ভরণপোষণ ও চিকিৎসা সহায়তা না দিয়ে আত্মগোপনে চলে যায় সে। এতে ভুক্তভোগী নারী চরম নিরাপত্তাহীনতা ও মানবেতর জীবনযাপন করতে থাকে। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ আনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আইনের আওতায় স্ত্রীর প্রতি নির্যাতন, অবহেলা ও দায়িত্ব পরিত্যাগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিজ্ঞ আদালতের বিচারক অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করার নির্দেশ প্রদান করেন ওসি বাজিতপুর থানাকে। দীর্ঘ নয় মাস পেরিয়ে গেলেও রহস্যজনক কারণে আসামি মো. সোহাগ মিয়াকে গ্রেপ্তার না করায় আদৌও বিচার পাবে কি না এনিয়ে হতাশাগ্রস্ত ভুক্তভোগী ওই নারী।
ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করে বলেন, আসামি সোহাগ মিয়া প্রায় সময় পার্শ্ববর্তী কুলিয়ারচর পৌর এলাকার মাসকান্দি এলাকায় গোপনে রাত্রি যাপন করে আসছে। থানা পুলিশকে অবহিত করেও কোন প্রকার ফল পাইনি। তিনি দ্রুত অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেপ্তারের দাবী জানান।
আইনজীবীরা জানান, অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে এভাবে ফেলে পালিয়ে যাওয়া শুধু সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয় নয়, এটি সরাসরি ফৌজদারি অপরাধের আওতাভুক্ত। এ ধরনের ঘটনায় আইনের কঠোর প্রয়োগ প্রয়োজন।
এদিকে স্থানীয়দের মধ্যে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট থানা সূত্রে জানা গেছে, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী গ্রেপ্তারী ওয়ারেন্ট কার্যকরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপর রয়েছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *