স্বর্ণালংকার বন্ধক রেখে কিস্তির টাকা নিয়ে বাড়ি যেতে গিয়ে রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনে কাটা পড়ে ৫ সন্তানের জননীর মৃত্যু

137 views

# মিলাদ হোসেন অপু :-
স্বর্ণালংকার বন্ধক রেখে কিস্তির টাকা নিয়ে বাড়ি যেতে গিয়ে কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনে কাটা পড়ে ৫ সন্তানের জননীর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। ৮ আগস্ট শনিবার রাত ১১টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওই নারীর মৃত্যু হয়। নিহত নারীর নাম মরিয়ম বেগম (৪৫)। তিনি জেলার তাড়াইল উপজেলার বাওয়াল এলাকার মুন্সিবাড়ির মাহবুব আলমের স্ত্রী ও জেলার বাজিতপুর থানার আইনারগ্রুপ এলাকার আব্দুল আলীর মেয়ে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মমিনুর রহমান রবিন।
রেলওয়ে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার রাতে ভৈরব রেলওয়ে জংশনের ২নং প্লাটফর্মে একটি দোকানের অভিযান করে ভৈরব থানা পুলিশ। এতে রেলওয়ে পুলিশ সহায়তা করছিলেন। এসময় লোকজন অভিযান দেখতে ভিড় করছিলেন। ভিড়ের মধ্যে প্লাটফর্ম ঘেঁষে দাঁড়িয়েছিলেন মরিয়ম বেগম। কিশোরগঞ্জ যাওয়ার জন্য এগারসিন্ধুর ট্রেনটি আসার অপেক্ষা করছিলেন। ট্রেন আসতে বিলম্ব হওয়ায় তিনি মানুষের জটলা দেখছিলেন। রাত ১০টা ২০ মিনিটে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা আখাউড়াগামী তিতাস কমিউটার ট্রেনটি স্টেশনে প্রবেশ করার সময় ২নং প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা মরিয়ম বেগম চলন্ত ট্রেনের ধাক্কায় রেললাইনে ফাঁকে পড়ে যায়। এসময় তাঁর একটি পা ঘটনাস্থলেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। স্থানীয়রা ভৈরব থানা পুলিশের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। চিকিৎসক তাকে তাৎক্ষণিক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকায় রেফার্ড করেন। কিছুক্ষণ যেতে না যেতেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মরিয়ম বেগম মৃত্যুবরণ করেন।
এ বিষয়ে রেলওয়ের স্টেশনের ডোম রুবেল মিয়া বলেন, ভৈরব থানা পুলিশ ট্রেকিংয়ের মাধ্যমে স্টেশনের একটি দোকানে অভিযান করছিলেন। ওই মহিলা ভিড়ের মধ্যে লোকজনের পিছনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিতাস কমিউটার ট্রেন ভৈরবে ২নং প্লাটফর্মে প্রবেশ করার পর মরিয়ম বেগম ভিড়ের মধ্যে থেকেই ট্রেনের সাথে ধাক্কা খেয়ে ট্রেনের নিচে পড়ে যায়। আমরা স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে ভর্তি করি। মহিলার কাছ থেকে ৬ হাজার ৬০ টাকা পাওয়া গেছে। তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোন থেকে নাম্বার বের করে তাঁর পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছি।
এ বিষয়ে নিহতের ছোট বোন জামাই আমির হোসেন বলেন, মরিয়ম বেগমের পরিবারে ছোট ছোট ৫টি ছেলে সন্তান রয়েছে। তাঁর স্বামী একজন সিএনজি চালক। ১৫ দিন আগে মরিয়ম বেগমের স্বামী সড়কে সিএনজি এক্সিডেন্ট করেছিলেন। গাড়ি ঠিক করতে স্বর্ণালংকার বিক্রি করেছিলেন ও কিস্তিতে কিছু টাকা তুলেছিলেন। ৯ আগস্ট কিস্তির তারিখ ছিল। সেই টাকা দিতে টাকা কম পড়ছিলো। তাই ৮ আগস্ট কিশোরগঞ্জ থেকে বিকালে আমার বাসা পৌর শহরের ঘোড়াকান্দা এসেছিল। কিছু স্বর্ণালংকার বন্ধক রেখে কিস্তির টাকা নিয়ে কিশোরগঞ্জে যেতে রেলওয়ে স্টেশনে গিয়েছিলেন। আমি তাকে রিকশায় উঠিয়ে দিয়েছিলাম। হঠাৎ ফোন পায় তিনি ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে এক্সিডেন্ট করেছেন। হাসপাতালে এসে দেখি তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসক মমিনুর রহমান রবিন বলেন, হাসপাতালে আনার পরও তিনি বেঁচে ছিলেন। দেহ থেকে তাঁর একটি পা বিচ্ছিন্ন ছিল। আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে ঢাকায় রেফার্ড করেছিলাম। নেয়ার প্রস্তুতি নিতে নিতে ১০ মিনিট পরই মরিয়ম বেগম মৃত্যুবরণ করেছেন। রেলওয়ে থানা পুলিশকে খবর দেয়া হলে তারা এসে মরদেহ নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে ভৈরব রেলওয়ে থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল হাসান বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে রেলওয়ে থানায় আনা হয়েছে। নিহতের পরিবারের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *