# নিজস্ব প্রতিবেদক :-
নানা রকম মিষ্টি ফলের ভরা মৌসুমের কারণে বাংলাদেশে জ্যৈষ্ঠ মাসকে বলা হয় মধু মাস। জ্যৈষ্ঠ পার হয়ে আষাঢ় চলে আসলেও লিচু ছাড়া মধু মাসের প্রায় সব ফলেই এখনও বাজার ভর্তি। আর এসব ফল নিয়েই কিশোরগঞ্জের খামার বাড়ি চত্বরে জেলা কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর আয়োজন করেছে ২৩-২৫ জুন তিনদিন ব্যাপী আকর্ষণীয় ফল মেলার। এবারের ফল মেলার প্রতিপাদ্য ‘করব মোরা ফল চাষ, সংরক্ষণ করবো বারো মাস’। উদ্যান তত্ত্ব বিভাগসহ বিভিন্ন উপজেলা কৃষি কার্যালয় মেলায় বিভিন্ন দেশীয় জাতের ফলের আটটি স্টল স্থাপন করেছে।
২৩ জুন মঙ্গলবার সকালে প্রধান অতিথি হিসেবে ফল মেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন। তিনি ফলের স্টলগুলো পরিদর্শন করেছেন। জেলা কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. সাদিকুর রহমানের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত মেলায় আরও এসেছিলেন স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক মোছা. জেবুন নাহার শাম্মী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নাহিদ হাসান খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জেসমিন আক্তার, জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ মো. রমজান আলী, জেলা কৃষক দলের সভাপতি অ্যাডভোকেট মাজহারুল ইসলাম, জেলা ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের সভাপতি আলমগীর হোসানইন, জেলা কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মো. হারুন-অর রশীদ, অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মো. শাহীনুল ইসলাম, অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মো. ইমরুল কায়েস প্রমুখ।
মেলায় আম, জাম, কাঁঠাল, ড্রাগন, কলা, লটকন, বেল, মাল্টা, লেবু, বাতাবি লেবু, আনারস, কামরাঙ্গা, পেয়ারা, কাঠ লিচু বা আঁশ ফল, তরমুজ, বাঙ্গী, তাল, জামরুল, মিষ্টি তেতুল, ডেউয়া, করমচা, কাঠবাদাম, চালতা, ননি ফল, ডাব, খেজুর, ডেফল, চাপলিশসহ অন্তত ৪০টি জাতের ফল প্রদর্শন করা হয়।
জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন তাঁর উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেছেন, দেশী জাতের ফল কিভাবে চাষ করা যায়, এ ব্যাপারে এই ফল মেলা মানুষকে সচেতন করতে পারে। কিছু ফল আছে, যেগুলি আমি আগে কখনও দেখিনি। ফল চাষের প্রচলন ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিতে হবে। এসব ফল আমাদের পুষ্টি যোগাবে। এখন বিভিন্ন জাতের ফল গাছ রোপনের দিকে মনযোগী হয়েছে। এসব ফল থেকে আমরা উচ্চ মানের পুষ্টি পেতে পারি।
জেলা কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. সাদিকুর রহমান বলেছেন, মেলায় যেসব ফল আনা হয়েছে, সবগুলোই কিশোরগঞ্জের মাটিতে উৎপাদিত। অনেকে ড্রাগনকে বিদেশি ফল মনে করেন। কিন্তু এই ড্রাগন এখন আবহাওয়া গত উপযোগিতার কারণে বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে উৎপাদিত হচ্ছে। আমরা দেশী জাতের ফল আবাদে উদ্বুদ্ধ করার জন্য কাজ করছি। চাষীরা যেন দেশীয় ফলে সমৃদ্ধ হয়ে পুষ্টি চাহিদা পূরণ এবং বারো মাস সংরক্ষণ করে যেন ফলের চাহিদা পূরণ করতে পারে, সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।
কিশোরগঞ্জে ৪০ জাতের ফল নিয়ে আকর্ষণীয় ফল মেলা
81 views
