ভৈরবে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক-কৃষাণীদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ

535 views

# ইশতিয়াক আহমাদ শৈভিক :-
ভৈরবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে খরিপ-২ মৌসুমে রোপা আমন ধান, মরিচ এবং গ্রীষ্মকালীন শাকসবজি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে বিশেষ কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগের আওতায় উপজেলার বিপুল সংখ্যক ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক-কৃষাণীদের মাঝে বিনামূল্যে উন্নত মানের বীজ, সার ও কীটনাশক বিতরণ করা হয়।
উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে আয়োজিত কৃষি সামগ্রী বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে.এম মামুনুর রশীদ।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আকলিমা বেগমের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন ও মো. হাসিবুল হাসান প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন, উপজেলা উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মিজানুর রহমান।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে ভৈরব উপজেলার মোট ২ হাজার ২০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষককে এই প্রণোদনার আওতায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে রোপা আমন ধান চাষের জন্য ৯০০ জন, মরিচ চাষের জন্য ১২০ জন এবং গ্রীষ্মকালীন শাকসবজি চাষের জন্য ১ হাজার কৃষককে সরকারি এই সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে।
প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় তালিকাভুক্ত প্রতিজন কৃষককে বিনামূল্যে নির্দিষ্ট পরিমাণে কৃষি উপকরণ দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রোপা আমন চাষি প্রত্যেক কৃষক পাচ্ছেন ৫ কেজি বীজ, ১০ কেজি ডিএপি সার এবং ১০ কেজি এমওপি সার। মরিচ চাষি প্রত্যেক কৃষক পাচ্ছেন ১ প্যাকেট (১০ গ্রাম) মরিচের বীজ, ৫ কেজি ডিএপি সার, ৫ কেজি এমওপি সার এবং ১টি কীটনাশকের প্যাকেট।
গ্রীষ্মকালীন শাকসবজি চাষি প্রত্যেক কৃষককে ১৫ কেজি ডিএপি ও ১৫ কেজি এমওপি সারের পাশাপাশি ৭ ধরণের শাকসবজির বীজ দেওয়া হচ্ছে। যার মধ্যে রয়েছে কলমি শাক ১৬০ গ্রাম, পুঁইশাক ১০০ গ্রাম, লাউ ১৫ গ্রাম, মিষ্টি কুমড়া ১০ গ্রাম, চালকুমড়া ৫ গ্রাম, বেগুন ৫ গ্রাম ও শসা ৫ গ্রাম।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আকলিমা বেগম বলেন, উপজেলার কৃষি উৎপাদন বাড়াতে আমরা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সব ধরণের কারিগরি সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি। এই প্রণোদনার মাধ্যমে কৃষকরা সঠিক সময়ে চাষাবাদ শুরু করতে পারবেন এবং আশা করছি চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি ফলন অর্জিত হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে.এম মামুনুর রশীদ বলেন, বর্তমান সরকার কৃষিবান্ধব সরকার। দেশের খাদ্যের ঘাটতি কমাতে ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং কৃষকদের স্বাবলম্বী করতে সরকার বিনামূল্যে এই উন্নত মানের বীজ ও সার দিচ্ছে। কোনো উপকরণ যেন অপচয় না হয় এবং প্রকৃত কৃষকরা যেন এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করেন, সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *