# মো. খলিলুর রহমান :-
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলায় গ্রাম আদালত সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সহজ, দ্রুত ও স্বল্প ব্যয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষে গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন শীর্ষক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৫ জুন সোমবার দুপুরে বাজিতপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্পের উদ্যোগে এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের সহযোগিতায় এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, এনজিও প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাজিতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জালাল উদ্দিন। তিনি বলেন, গ্রাম আদালত গ্রামের সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় দ্রুত ও কম খরচে ন্যায়বিচার পৌঁছে দেওয়ার একটি কার্যকর ব্যবস্থা। এ সেবাকে আরও জনপ্রিয় করতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
জেলা গ্রাম আদালতের ম্যানেজার হাফিজা আক্তার জানান, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্পটি ২০০৯ সালে শুরু হয়ে বর্তমানে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়িত হচ্ছে। দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৬১ জেলায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রকল্পের মূল লক্ষ হলো এসডিজি অর্জনে সহায়তা করা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, নারী, দরিদ্র, সংখ্যালঘু, হিজড়া ও দলিত জনগোষ্ঠীর ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা।
তিনি আরও জানান, গ্রাম আদালতে ফৌজদারি বিষয়ে মাত্র ১০ টাকা এবং দেওয়ানি বিষয়ে ২০ টাকা ফি দিয়ে আবেদন করা যায়। দেওয়ানি বিরোধের ক্ষেত্রে ঘটনা সংঘটিত হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করতে হয় এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মামলা দায়েরের সুযোগ রয়েছে।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, অল্প সময়ে, স্বল্প খরচে সঠিক বিচার পেতে চলুন যাই গ্রাম আদালতে- এই বার্তাটি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো জরুরি। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, এনজিও এবং গণমাধ্যমের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রাম আদালতের প্রতি জনগণের আস্থা আরও বাড়াবে।
আলোচনায় আরও জানানো হয়, গ্রাম আদালত ছোটখাটো দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে আদালতের ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি গ্রামীণ পর্যায়ে সামাজিক সম্প্রীতি ও বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তবে ধর্ষণ, হত্যা, অপহরণ, ডাকাতি, বহুবিবাহ, তালাক, দেনমোহর, দাম্পত্য সম্পর্ক পুনরুদ্ধার, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং স্থাবর সম্পত্তির মালিকানা সংক্রান্ত বিষয় গ্রাম আদালতের এখতিয়ারের বাইরে থাকায় এসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আদালতের শরণাপন্ন হতে হয়।
অনুষ্ঠানে গ্রাম আদালতের বাজিতপুর উপজেলা কো-অর্ডিনেটর মো. আমিনুল ইসলাম, ব্র্যাকের এরিয়া অফিসার আবুল কালাম আজাদ, সাংবাদিক আব্দুস ছলিমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বক্তব্য রাখেন। তারা বলেন, গ্রাম আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে সকল অংশীজনের সমন্বিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে, যাতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সহজেই আইনি সহায়তা ও ন্যায়বিচার পেতে পারে।
বাজিতপুরে গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন কর্মশালা অনুষ্ঠিত
25 views
