ছাত্ররাজনীতি থেকে জাতীয় পর্যায়ে উত্থান আসাদুজ্জামান আসাদের….

437 views

ভৈরবের কৃতি সন্তান আসাদুজ্জামান আসাদ জন্মগ্রহণ করেন ভৈরব উপজেলার শিমুলকান্দি ইউনিয়নে। ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই ইউনিয়নেই জন্ম হয়েছিল ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের আপসহীন যোদ্ধা রেবতী মোহন বর্মণের।
১৯৯১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন আসাদুজ্জামান আসাদ। মুহসিন হল শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম-সম্পাদক হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়।
মেধা, পরিশ্রম ও সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের অন্যতম প্রভাবশালী নেতায় পরিণত হন। তাঁর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ‘আসাদ গ্রুপ’ একসময় ক্যাম্পাস রাজনীতিতে অপ্রতিরোধ্য শক্তিতে রূপ নেয়।
তৎকালীন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের কিংবদন্তি নেতা নাসিরউদ্দিন পিন্টু তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞায় আস্থাশীল হয়ে আসাদুজ্জামান আসাদকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেন।
১৯৯৯ সালে তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকা থেকে হরতালের পক্ষে মিছিল ও পিকেটিং করার সময় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। ওই সময় বিস্ফোরক আইনে সাজানো মামলায় গ্রেপ্তারের ঘটনা বিটিভি, একুশে টিভিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হলে দেশজুড়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
আসাদুজ্জামান আসাদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে তৎকালীন ভৈরব উপজেলা বিএনপি সভাপতি মরহুম গিয়াস উদ্দিন আহমদের নির্দেশে ভৈরব উপজেলা, পৌর ও কলেজ শাখা ছাত্রদল হাজী আসমত কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচী পালন করে।
পরবর্তীতে নানা প্রতিকূলতা ও অভ্যন্তরীণ গ্রুপিংয়ের শিকার হলেও তিনি দমে যাননি। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের প্রভাবশালী যুগ্ম-সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে ছাত্রদলের কমিটি গঠন প্রক্রিয়ায় সাংগঠনিক টিম লিডারের দায়িত্ব সফলভাবে সম্পন্ন করেন। এ সময় ছাত্রদলের অভিভাবক তারেক রহমান-এর কাছ থেকেও প্রশংসা অর্জন করেন তিনি।
ছাত্র রাজনীতি করতে গিয়ে তিনি ৫৬টি মামলায় আসামি হন এবং বিভিন্ন মেয়াদে মোট ২৩ মাস ১০ দিন কারাবন্দী থাকেন।
১/১১ সময়ে বিগ্রেডিয়ার হান্নান শাহ সাহেবের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে দলের সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনে যথাসাধ্য চেষ্টা করেন।
নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন এর পর তৃণমূল থেকে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের সাংগঠনিক রিপোর্ট তৈরি করার জন্য যখন দল থেকে ভাইস-চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান’কে দল থেকে দায়িত্ব দেয়া হয় তখন জনাব শাহজাহান সাহেব আসাদুজ্জামান’কে তাঁর টিমে অন্তর্ভুক্ত করেন এবং মৌলভীবাজার জেলার দায়িত্ব দেন। জনাব আসাদ দায়িত্ব পেয়ে অত্র জেলার প্রতিটি উপজেলায় ঘুরে ঘুরে বিএনপি ও তাঁর প্রতিটি অঙ্গ সংগঠনের বাস্তব চিত্র নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরে একটি প্রোফাইল তৈরি করে জমা দেন।
২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবরের সমাবেশে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার নগ্ন হস্তক্ষেপ করলে, দেশব্যাপী দলের আন্দোলন সংগ্রাম বেগমান করতে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য জনাব সালাউদ্দিন আহমেদের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করেন এবং উনার নির্দেশে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-স্বেচ্ছাসেবক সম্পাদক জনাব Abdul Quader Bhuiyan Jewel ভাইয়ের সাথে ধারাবাহিক পরামর্শ করে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন ৫ আগস্ট হাসিনা সরকার পতন পর্যন্ত।
৫ আগস্ট হাসিনা সরকার পতনের পর থেকে নিজ এলাকা ভৈরবসহ কিশোরগঞ্জ জেলার ৬টি আসনে দায়িত্বশীল নেতাকর্মীদের সাথে নিয়মিতভাবে যোগাযোগ করেন এবং সাংগঠনিক শক্তি কিভাবে আরও বাড়ানো যায় তাঁর পরামর্শ দেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এর তফসিল ঘোষণা করার পর, ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে ভৈরব-কুলিয়ারচর থেকে মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে ব্যাপকভাবে প্রচারণা চালান। পুরো ভৈরব উপজেলা চষে বেড়ান। ২২ জানুয়ারি জনাব তারেক রহমান এর ভৈরব স্টেডিয়ামে কিশোরগঞ্জ অঞ্চলের নির্বাচনী প্রচারণা জনসভা সফল করতে জনাব আসাদুজ্জামান জোর প্রচারণা চালান এবং নির্বাচনী জনসভায় প্রশংসনীয় বক্তব্য প্রদান করেন।
পরবর্তীতে দল থেকে ঢাকা-১৭ আসনে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে নির্বাচনী প্রচারণা কাজে গতি বৃদ্ধিতে ভাষানটেক, গুলশান, বনানী, বারীধারা ও নর্দা এলাকায় মূখ্য সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জনাব লুৎফুজ্জামান বাবর’কে প্রধান অতিথি করে ৩টি সফল উঠান বৈঠক করেন। উল্লেখযোগ্য যে ভাষানটেক এরিয়াতে বেশিরভাগ বসবাসরত নাগরিক বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের। জনাব আসাদুজ্জামান সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগে প্রায় ৫ লক্ষ লিফলেট ছাপিয়ে ১২টি টিম গঠন করে “ডোর টু ডোর” গিয়ে লিফলেট বিতরণ করেন।
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে জনগণের ভোটের মাধ্যমে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ভূমিধস বিজয় অর্জন করে আল্লাহর রহমতে সরকার গঠন করেছে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই দেশ পরিচালনায় একের পর এক চমক দেখিয়ে বিশ্বব্যাপী প্রশংসা পাচ্ছেন।
শোনা যাচ্ছে অতি শীঘ্রই জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ও তাঁর অঙ্গ সংগঠনগুলো সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে ঢেলে সাজানো হবে। আগামীতে মেধাবী, পরিশ্রমী, সাহসী ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক কর্মীদেরকে দলে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেয়া হবে এমন আলোচনা চারদিকে জোরেশোরে চলছে।
জনাব আসাদুজ্জামান আসাদ এর অতীত ছাত্র রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, ত্যাগ, মেধা ও সাহসী মনোভাবকে বিবেচনায় নিয়ে দলীয় হাইকমান্ড যথাযথ মূল্যায়ন করবেন, এই আশায় বুক বেঁধেছে ভৈরববাসী।
ভৈরব উপজেলায় জন্ম নেওয়া এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক তারকা ছাত্রনেতার আগামীর রাজনৈতিক পথচলা আরও সুদৃঢ় ও সফল হোক এমন প্রত্যাশাই এলাকাবাসী ও দলীয় নেতাকর্মীদের।

মুহাম্মদ আব্দুল কাইয়ুম সায়েম
সাবেক সদস্য, কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদল
(VP Shumon-Sumon Gs  কমিটি)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *