# মিলাদ হোসেন অপু :-
রাম্বুটান ফল চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছে নরসিংদীর কৃষক মজনু মিয়া। রাম্বুটান মূলত মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার ফল। রাম্বুটান দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্থানীয় ফল হিসাবে পরিচিত। সুস্বাদু লটকন ফলের চাষের জন্য বেশ পরিচিত নরসিংদীর শিবপুর থানার জয়নগর ইউনিয়নের আষ্টআনি গ্রামের কৃষক মজনু মিয়া। তিনি ২০০৬ সালে মালয়েশিয়া থেকে শখ করে খাওয়ার জন্য সাথে নিয়ে এসেছিলেন রাম্বুটান ফল। বাড়ির আঙিনায় রাম্বুটান ফলের বিচি ফেলে পরীক্ষা করেই পেয়েছেন সফলতা। একে একে ২০ বছরে ২ একর জমিতে গড়ে তুলেছেন রামবুটানসহ ১০টি দেশি-বিদেশি নানা ফলের বাগান। লটকন, কাঁঠাল, চায়না থ্রি, পেয়ারা, কাঠলিচু ও বিভিন্ন প্রজাতির লেবুসহ অসংখ্য দেশি বিদেশি ফলের গাছ ও চারা রয়েছে তাঁর বাগানে।
সরেজমিনে ২ আগস্ট রোববার শিবপুর থানার জয়নগর ইউনিয়নের আষ্টআনি গ্রামের কৃষক মজনু মিয়ার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় তাঁর বাগানে রাম্বুটান ছাড়াও ১০ প্রজাতির দেশি-বিদেশি ফলের প্রায় এক হাজার ছোট বড় গাছ রয়েছে। তবে চারা রয়েছে ৪ থেকে ৫ হাজার। রাম্বুটানের গাছ রয়েছে ১২টি। তিনটি গাছে রয়েছে অসংখ্য রাম্বুটান ফল। বাকী গাছের ফলগুলোর ইতোমধ্যে বিক্রি করে দিয়েছেন। রাম্বুটান বিক্রি করে বছরে তাঁর আয় ৫ লক্ষ টাকা। প্রতি কেজি রাম্বুটান পাইকারি বিক্রি করেন ৮শ থেকে সর্বোচ্চ ১২শ টাকা। যার বাজার মূল্য ১৬শ থেকে ১৮শ টাকা।
এছাড়াও তিনি পরীক্ষামূলক ভাবে মালয়েশিয়ার জাতীয় ফল ডুরিয়ান ও থাইল্যান্ডের জাতীয় ফল ম্যাঙ্গোস্টিন ফলের গাছ বড় করেছেন। কৃষক মজনু মিয়ার দাবি আগামী বছরও সেই গাছ দুইটিতে ফল দেখতে পাবে এলাকাবাসী।
এ সময় স্থানীয়দের সাথে কথা হলে তারা বলেন, নরসিংদীর বিভিন্ন থানায় লটকন ও রাম্বুটানসহ দেশি বিদেশি বিভিন্ন ফলের চাষ করা করা হয়। বাগান মালিকরা তাদের বাগান ভাড়া দিয়েও লাভবান হচ্ছে। সেই সাথে কৃষকরা সেই বাগান ভাড়া নিয়ে ব্যাপক লাভবান হচ্ছে। একেক সৃজনে একেক ধরনের ফলের ভাল ফলন হয় নরসিংদীতে। নরসিংদীর লটকন দেশ বিদেশে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। লটকন ছাড়াও নরসিংদীর কাঁঠাল ও লিচুর সারাদেশ সুনাম রয়েছে। নতুন ফল হিসেবে রাম্বুটানের ভাল ফলন হচ্ছে। নরসিংদীর বিভিন্ন জেলায় প্রায় দের শতাধিক কৃষক ও বাগান মালিক রাম্বুটান চাষে মনোযোগী হয়েছে। তারা আশাবাদী আগামী দুইতিন বছরের মধ্যে নরসিংদীর রাম্বুটান দেশের সব জায়গা কমদামে পাওয়া যাবে।
এ বিষয়ে স্থানীয় কৃষক হারিস মিয়া বলেন, কৃষক মজনু মিয়ার কাছ থেকে চারা এনে আমার বাগানে অল্পসংখ্যক রাম্বুটান গাছ বড় করেছি। এই বছর তেমন লাভবান না হলেও আগামী বছর একাধিক গাছে ব্যাপক ফলনের আশা করছেন তিনি।
এদিকে কৃষক মজনু মিয়া বলেন, ২০ বছর যাবত রাম্বুটান ফল চাষ করছি। আমার এখান থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রাম্বুটানের চারাসহ বিভিন্ন ফলের চারা পাঠানো হয়। রাম্বুটানের বড় চারা ১২ হাজার থেকে শুরু করে ছোট চারা ২ হাজার টাকা বিক্রি করা হয়। রাম্বুটান চাষ করে বার্ষিক আয় হয় ৫ লক্ষ টাকা। প্রতি কেজি রাম্বুটান ১২শ টাকা থেকে শুরু করে ৮শ টাকায় বিক্রি করা হয়। তাঁর ১২টি গাছে ১২ মণ রাম্বুটানের ফলন হয়েছে। এছাড়াও আরো ১০টি গাছ বড় করা হচ্ছে। এই ফল বিক্রির টাকা দিয়ে পরিবারের ২ ছেলে ৪ মেয়ের লেখাপড়ার খরচসহ সংসারের খরচ চলে যায়। তাছাড়া পাশাপাশি বিভিন্ন ফলের চারা ও ফল বিক্রি করে অতিরিক্ত মুনাফা হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, রাম্বুটান সব ধরনের জমিতেই চাষ করা যায়। বালু মাটিতে বেশি ফলন হয়। এই গাছের গোড়ায় গোবর ব্যবহারে গাছ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। নরসিংদীর মাটি এমনিতেই ফলের জন্য অনেক ভাল। তাই সব ধরনের ফল চাষে সুফল পাওয়া যায় নরসিংদীতে।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, রাম্বুটান ফলটি লিচু পরিবারের। রাম্বুটান দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্থানীয় ফল হিসেবে পরিচিত। রাম্বুটান চীন, মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি উৎপন্ন হয়। ফলটির খোসা হালকা চুলের মতো আবরণে ঢাকা। এর আকার মাঝারি ধরনের এবং বর্ণ লাল ও হলদে হয়। এটি মিষ্টি স্বাদযুক্ত একটি ফল। এই ফল চাষের জন্য বাংলাদেশের আবহাওয়া অনুকূল হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে রাম্বুটান চাষ করে সফলতার মুখ দেখছেন নরসিংদীর চাষিরা।
নরসিংদী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে মহা-পরিচালক ড. মোহাম্মদ আজিজুল হক বলেন, নরসিংদী জেলায় শিবপুর, বেলাবো ও রায়পুরা থানা এলাকায় ১৯ হেক্টর জমিতে প্রায় দেড়শতাধিক কৃষক ও জমির মালিকরা রাম্বুটান চাষ করছেন। রাম্বুটানের আবাদ বৃদ্ধিতে কাজ করছে নরসিংদীর কৃষি বিভাগ। আরো গবেষণা করে চারা উৎপাদন করা গেলে এ ফল সারা দেশে সম্প্রসারণ করা সম্ভব বলে তিনি জানান।
রাম্বুটান ফল চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছে নরসিংদী শিবপুরের কৃষক মজনু মিয়া
43 views
