করিমগঞ্জে তীব্র গরমে লোডশেডিংয়ে নাকাল জনজীবন

22 views

# দিলোয়ার হোসাইন :-
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে তীব্র দাবদাহের মধ্যে দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিংয়ে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে দিনে-রাতে মিলিয়ে ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে প্রচণ্ড গরমে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের পাশাপাশি ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, কৃষিকাজ ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দিনের পাশাপাশি রাতেও দফায় দফায় বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় প্রচণ্ড গরমে ঘরে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন পরিবারগুলো। বিদ্যুৎ না থাকায় পাখা ও পানির পাম্প চালানো যাচ্ছে না। ফলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আল মামুন বলেন, “ঘন ঘন ও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় আমাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ না থাকলে ক্রেতা কমে যায়। ফ্যান ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালানো না যাওয়ায় গরমের মধ্যে দোকানে বসে থাকাও কঠিন হয়ে পড়ে। দ্রুত লোডশেডিং কমিয়ে স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা দরকার।”
মরিচখালী বাজার এলাকার বাসিন্দা আবু ছালেক বলেন, “এলাকায় দিনের বেশির ভাগ সময়ই বিদ্যুৎ থাকে না। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় লোডশেডিং হওয়ায় মানুষজন চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বিশেষ করে রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে খুব কষ্টে থাকতে হচ্ছে। আমরা দ্রুত এই সমস্যার সমাধান চাই।”
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রভাব পড়েছে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও। ব্যবসায়ীরা জানান, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজ, ফ্যান, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জামনির্ভর ব্যবসায় সমস্যা হচ্ছে। ছোট কারখানা ও ওয়ার্কশপের কাজও ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীরাও রাতে নিয়মিত পড়াশোনা করতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়ে কিশোরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অধীনস্থ করিমগঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মোহাম্মদ আখতার উজ্জামান বলেন, “জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুতের সরবরাহ কম থাকায় নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহের পর এক ঘণ্টা লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে।”
তিনি বলেন, “জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে লোডশেডিং কমে আসবে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহও স্বাভাবিক হবে।”
তবে বিদ্যুৎ বিভাগের নির্ধারিত সূচির সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির মিল নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাদের দাবি, অনেক এলাকায় নির্ধারিত সময়ের তুলনায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ থাকে না। ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কারণেও বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তীব্র দাবদাহের মধ্যে দীর্ঘ সময়ের বিদ্যুৎ বিভ্রাটে জনদুর্ভোগ আরও বেড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা লোডশেডিংয়ের সময়সূচি যথাযথভাবে অনুসরণ, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *