ছোট ছেলে স্কলারশিপে ফিনল্যান্ডে যাবে বলে ওমরাহ হজ্বে যাচ্ছিল সৌদী প্রবাসী পরিবার, পথিমধ্যে এক্সিডেন্টে ৩ জনের মৃত্যু

17 views

# মিলাদ হোসেন অপু :-
সৌদি আরবে রিয়াদ থেকে মক্কায় ওমরাহ হজ্বে যাওয়া পথে প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় মা, ছেলে ও মেয়েসহ ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনায় আরো আহত হয়েছেন বাবা ও ছেলে। নিহত বাংলাদেশিদের বাড়ি কিশোরগঞ্জের ভৈরবে। একই পরিবারের ৫ জনের দুর্ঘটনার খবরে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে নিহতের পরিবারে স্বজনদের মধ্যে চলছে শোকের মাতম। ২৩ জুলাই বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় দুপুর তিনটার দিকে সৌদি আরবের রিয়াদে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, সৌদী প্রবাসী শফিকুল ইসলাম খোকনের স্ত্রী তানিয়া তাহমিনা রিনা (৪৫), ছেলে তাসবিক (২০) ও মেয়ে তাসমিম জারা (১৫)। এ ঘটনায় প্রবাসী শফিকুল ইসলাম খোকন ও তাঁর বড় ছেলে নাবিল (২৫) গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। তানিয়া তাহমিনা রিনা ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম নাজিমুদ্দিন মোল্লার সেজো মেয়ে। প্রবাসী পরিবারের বাড়ি কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলা কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নে আকবরনগর এলাকায়। নিহত পরিবারের কর্তা দুর্ঘটনায় আহত সৌদী প্রবাসী শফিকুল ইসলাম খোকন ওই এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে।
নিহত জারা ও নাবিলের চাচা মো. মহিদুল ইসলাম সুমন থাকেন ঢাকায়। তিনি এ প্রতিনিধিকে মুঠো ফোনে জানান, আমার ভাই তাঁর স্ত্রীসহ একমাত্র মেয়ে ও দুই ছেলেকে নিয়ে ২৩ জুলাই বৃহস্পতিবার সকালে ওমরাহ হজ্ব পালনের উদ্দেশ্যে রিয়াদ থেকে মক্কা যাচ্ছিল। রিয়াদ থেকে রওনা হয়ে ৩০০ কিলোমিটার যাওয়ার পরে সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে আমার ভাবী, বাজিতি ও ছোট বাতিজা নিহত হয়েছেন। আমার ভাই ও বড় ভাতিজা মারাত্মক আহত হয়েছেন।
মহিদুল ইসলাম সুমন আরো বলেন, আমার ভাই সৌদী আরবে একটি প্রাইভেট কোম্পানি চাকরি করেন। আমার ভাবী একজন গৃহিণী। আমার ভাতিজি জারা ও ল্যাবেল থেকে পাশ করে বর্তমানে এ ল্যাবেলে লেখাপড়া করছিল। আমার ছোট ভাতিজা তাসবিকের স্বপ্ন ছিলো একজন মানবিক ডাক্তার হবেন। সে সৌদী আরবে লেখা পড়া করে স্কলারশিপে ফিনল্যান্ড লেখা পড়ার স্বপ্ন ছিল। ১৯ আগস্ট ফিনল্যান্ড যাওয়ার সকল ধরণের প্রস্তুতিও সম্পন্ন ছিল। ছেলের দেখা কখন পান না পান তাই ছোট ছেলে ফিনল্যান্ডে যাওয়া উপলক্ষে আমার ভাই শফিকুল ইসলাম খোকন তাঁর স্ত্রীসহ দুই ছেলে ও একমাত্র মেয়েকে নিয়ে ওমরা হজ্ব যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে অ্যাক্সিডেন্ট করে।
দুর্ঘটনায় আহত আমার বড় ভাতিজা নাবিল লেখা পড়া শেষ করে সৌদী আরবে চাকরিরত রয়েছে। এসময় তিনি পরিবারের আহত ও নিহতদের জন্য দোয়া কামনা করেছেন।
অপরদিকে ২৪ জুলাই শুক্রবার বিকালে সরেজমিনে ভৈরব উপজেলা কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নে আকবরনগর এলাকার সিরাজুল ইসলাম এর বাড়িতে গিয়ে দেখায় সুনসান নিরবতা। চাচাদের বাড়িতে দেখা যায় তাদের পরিবারে চলছে শোকের মাতম।
এসময় কথা হয় সৌদী প্রবাসী শফিকুল ইসলাম খোকনের চাচাতো ভাই রাকিবুল হাসান শাকিলের সাথে। তিনি বলেন, আমার চাচা সিরাজুল ইসলাম ৩ বছর আগে মৃত্যুবরণ করেছেন। তাঁর তিন ছেলে। এদের মধ্যে বড় ছেলে সৌদী আরব প্রবাসী শফিকুল ইসলাম খোকন। ১ বছর আগে চাচাতো ভাই শফিকুল ইসলাম খোকন পরিবার নিয়ে দেশে এসেছিল। ভৈরবে বাড়িঘর থাকলেও এখানে কেউ থাকে না। আমার চাচাতো ভাইয়ের ছোট ছেলে তাসবিক সৌদী আরবে একটি কলেজ থেকে লেখা পড়া শেষ করে স্কলারশিপ নিয়ে ১৯ আগস্ট ফিনল্যান্ডে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের লেখা পড়ার জন্য যাওয়ার কথা ছিল। ২৩ জুলাই বিকালে আমরা মৃত্যুর খবর শুনতে পেয়েছি। সেখানে আমার ভাই ও তাঁর বড় ছেলে আহত হলেও তাঁর স্ত্রী ও ছোট ছেলে ও একমাত্র মেয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। আমার ভাই আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর স্ত্রী সন্তানের মৃত্যুর খবরে তিনি হাসপাতাল থেকে রিলিজ না পেলেও হাসপাতাল থেকে ছুটে গিয়ে এখন পরিবারের কাছে রয়েছে। ২৪ জুলাই শুক্রবার বাদ জুম্মা সৌদি আরবে নিহতদের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জানাজার পর সিদ্ধান্ত নিবেন মরদেহগুলো দেশে আনবেন কি না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *