মাদক কারবারি জোসনা করবেন ইউপি নির্বাচন, কিশোরগঞ্জে মাদক কারবারির ১২টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ

59 views

# মোস্তফা কামাল :-
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নের মধ্যপাড়া এবং সিদ্ধেশ্বরী এলাকার রেলওয়ের বস্তিতে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা চলে আসছে বলে অভিযোগ ছিল। ওইসব এলাকার যুবক-তরুণরা মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ছিল। চুরি, ছিনতাইসহ নানা রকম অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছিল। এমনকি বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদক সেবীরা গিয়ে প্রকাশ্যে মাদকের আড্ডা বসাতো। এলাকাবাসীর মনে দিনের পর দিন ক্ষোভ জমা হচ্ছিল। এরই বিস্ফোরণ ঘটে গত ১৯ জুন।
এদিন জুমার নামাজের পর এলাকাবাসী ও মুসল্লিসহ শত শত ক্ষুব্ধ জনতা মাদক কারবারিদের অন্তত ১২টি বাড়ি ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ভাংচুর করে অগ্নিসংযোগ করেছেন। দুপুর থেকে সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত চলে এলাকাবাসীর এই হামলা। খবর পেয়ে পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট গেলেও তারা বিক্ষুব্ধ জনতার বাধার মুখে এক পর্যায়ে ফিরে আসে। এদের মধ্যে জোসনা আক্তার নামে এক মাদক কারবারি আসন্ন ইউপি নির্বাচনে সংরক্ষিত ওয়ার্ড মেম্বার পদে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও এলাকায় গিয়ে জানা গেছে।
যশোদল ইউপি চেয়ারম্যান ইমতিয়াজ সুলতান রাজন, মধ্যপাড়া এলাকার নাজমুল ইসলাম ও সিদ্ধেশ্বরী এলাকার শফিকুল ইসলামসহ অন্যান্য এলাকাবাসী জানান, মধ্যপাড়ার জোসনা ও ওবায়দুল্লাহ, সিদ্ধেশ্বরী এলাকার হেলাল, রাজিব ও তৌকিসহ অন্তত ২০ জন মাদক কারবারির বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের অভিযোগ। তারা জানান, ১৯ জুন এলাকাবাসী ও সাধারণ মুসল্লিসহ মূলত শত শত ক্ষুব্ধ জনতা হামলায় অংশ নেন। তারা জানান, যশোদল ইউনিয়নের মনিপুরঘাট এবং আমলিতলা এলাকায়ও অনেক মাদক কারবারি রয়েছে। চেয়ারম্যান রাজন জানান, সদর থানার ওসি আবুল কালাম ভূঞাকে নিয়ে মাস তিনেক আগে এলাকার সবাইকে মাদক ব্যবসা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহবান জানানো হয়েছিল। কিন্তু মাদক ব্যবসা বন্ধ হয়নি।
সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হাবিবুুল্লাহ খান জানিয়েছেন, সদর থানায় জোসনা আক্তারের নামে মাদকের পাঁচটি, আর ওবায়দুল্লাহর নামে সতটি মামলা রয়েছে। এরা একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগও করেছেন। তবে গত ১৯ জুনের হামলার ঘটনায় কোন পক্ষই থানায় কোন মামলা দায়ের করেননি। তবে ওই ঘটনার পর এলাকায় পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
সিদ্ধেশ্বরী এলাকার শফিকুল জানিয়েছেন, স্থানীয় মসজিদসহ এলাকায় অনেকদিন ধরেই মাদকের বিরুদ্ধে আলোচনা হচ্ছিল। কারণ এলাকাটি এরা নষ্ট করে দিচ্ছে। এলাকার যুবকরা মাদকে আক্রান্ত হচ্ছে। চুরি-ছিনতাই বেড়ে গেছে। অতীষ্ঠ হয়ে অবশেষে ১৯ জুন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী হামলা করেছে। তিনি জানান, জোসনা আর ও ওবায়দুল্লাহ গরিব অবস্থা থেকে অনেক সম্পদের মালিক হয়েছেন। এরা ঢাকায় ফ্ল্যাট কিনেছেন। জোসনা মধ্যপাড়া গ্রামে দ্বিতল ভবন করেছেন। ওবায়দুল্লাহও নিজের পৈত্রিক বাড়ি ছাড়াও এলাকায় নিজে আলাদা বাড়ি করেছেন। নিজ বাড়ি থেকে এক কিলোমিটার দূরে সিদ্ধেশ্বরী রেলওয়ে বস্তির বেশ কয়েকটা টিনের ছাপড়া ঘরে ওবায়দুল্লাহর মাদকের ব্যবসা ছিল। জোসনা আর ওবায়দুল্লাহ মূলত মাদকের ডিলার বলে এলাকার অনেকেই জানিয়েছেন। তাদের কাছ থেকে খুচরা বিক্রেতারা ইয়াবাসহ মাদক নিয়ে বিক্রি করে। তবে ১৯ জুনের হামলার পর মাদক ব্যবসায়ীদের আর প্রকাশ্য তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এলাকাবাসী জানান, জোসনার বাড়ি যশোদল ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে। তিনি আগামী ইউপি নির্বাচনে ১,২ ও ৩ সংরক্ষিত ওয়ার্ডে মেম্বার পদে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এলাকায় ব্যাপক পোস্টারিংও করেছেন। এটা তাঁর মাদক কারবারের একটা ঢাল, মন্তব্য করেছেন এলাকাবাসী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *