# এম.আর রুবেল :-
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে পরিচয়হীন ১০ বছর বয়সী শিশু সালমানকে নিরাপদ ভবিষ্যৎ ও সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত সরকারি আশ্রয় (অভ্যর্থনা) কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। তাঁর প্রকৃত অভিভাবকের সন্ধান না মেলায় উপজেলা শিশু কল্যাণ বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
২৪ জুন বুধবার ভৈরব উপজেলা শিশু কল্যাণ বোর্ডের এক বিশেষ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা শিশু কল্যাণ বোর্ডের সভাপতি কে.এম মামুনুর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ভৈরব রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাঈদুল আহমেদ উদ্ধার হওয়া দুই শিশুর বর্তমান অবস্থা ও সার্বিক বিষয় তুলে ধরেন।
জানা যায়, ২৩ জুন মঙ্গলবার ভৈরব রেলওয়ে থানা সংলগ্ন রেস্ট হাউসের ছাদ থেকে চুরির অপবাদে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি সজিব মিয়া ও সালমান নামের দুই শিশুকে আটক করে রেলওয়ে থানায় সোপর্দ করেন। পরে পুলিশ তাদের হেফাজতে নিয়ে পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা শুরু করে।
তদন্তে ১২ বছর বয়সী সজিব মিয়ার পরিবারের সন্ধান পাওয়া গেলেও ১০ বছর বয়সী সালমানের কোনো অভিভাবক কিংবা স্থায়ী ঠিকানার তথ্য পাওয়া যায়নি। সালমান শুধু তাঁর বাবার নাম মৃত তৌহিদ মিয়া বলে জানালেও মায়ের নাম ও বাড়ির ঠিকানা সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে পারেনি।
উপজেলা শিশু কল্যাণ বোর্ডের সভায় সিদ্ধান্ত হয়, সজিব মিয়াকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁর বাবার জিম্মায় হস্তান্তর করা হবে এবং পরিচয়হীন শিশু সালমানকে নিরাপদ হেফাজতের জন্য মিরপুরের সরকারি আশ্রয় (অভ্যর্থনা) কেন্দ্রে পাঠানো হবে।
এদিকে শিশু সালমানের প্রতি মানবিক দায়িত্ব পালনে বিশেষ ভূমিকা রাখেন, ভৈরব রেলওয়ে থানার ওসি সাঈদুল আহমেদ। আশ্রয় কেন্দ্রে পাঠানোর আগে তাঁর সার্বিক খোঁজখবর নেন তিনি। ওসির তত্ত্বাবধানে শিশুটিকে গোসল করানো হয়, নতুন পোশাক পরিয়ে দেওয়া হয় এবং উন্নতমানের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। দীর্ঘ সময় থানায় অবস্থানের সময় শিশুটি যেন কোনো কষ্টে না থাকে, সে বিষয়েও নজরদারি করা হয়।
সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভৈরব রেলওয়ে থানাকে প্রয়োজনীয় পুলিশ এসকর্টের মাধ্যমে শিশু সালমানকে নিরাপদে সরকারি আশ্রয় কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ কার্যক্রমে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ও সার্বিক সহযোগিতা করছে।
স্থানীয়দের মতে, পরিচয়হীন ও অসহায় শিশুটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন ও ভৈরব রেলওয়ে পুলিশের সমন্বিত উদ্যোগ এবং ওসি সাঈদুল আহমেদের মানবিক আচরণ প্রশংসার দাবিদার। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সরকারি আশ্রয় কেন্দ্রে থাকার সময়ের মধ্যে সালমানের প্রকৃত পরিবারের সন্ধান পাওয়া যাবে এবং সে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারবে।
পরিচয়হীন শিশু সালমানকে সরকারি আশ্রয় কেন্দ্রে পাঠাল ভৈরব রেলওয়ে থানা পুলিশ
42 views
