মিলাদ হোসেন অপু :-
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে রেলওয়ে জংশন স্টেশনে দুই গ্রামের সংঘর্ষে থানা ভাঙচুর ও পুলিশ সদস্য আহতের মামলায় মো. আলী হোসেন প্রকাশ (১৬) নামে ১ কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে রেলওয়ে থানা পুলিশ। ৮ জুন সোমবার সকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে ৭ জুন দিবাগত মধ্য রাতে শহরের পঞ্চবটি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত কিশোর মো. আলী হোসেন প্রকাশ পৌর শহরের পঞ্চবটি এলাকার জুয়েল মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া মো. সুমন মিয়ার ছেলে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ভৈরব রেল থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইদ আহমেদ।
রেলওয়ে থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ৪ জুন ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের সংঘর্ষকারীরা রেলওয়ের স্টেশন এলাকা দখল করে তাণ্ডব চালিয়ে রেলওয়ে স্টেশন ও রেলওয়ে থানার ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। এসময় সংঘর্ষকারীরা স্টেশন প্লাটফর্ম ও সংলগ্ন এলাকায় সাধারণ ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন দোকানে অতর্কিত হামলা ও ভাঙচুর চালায়। তারা দোকানের আসবাবপত্র ও মালামাল লুট করে সাধারণ জনগণ ও যাত্রী সাধারণের মনে চরম আতঙ্ক ও ভীতি সৃষ্টি করে। সংঘর্ষ চলাকালে ঢাকার সাথে পূর্বাঞ্চল জোনের রেলওয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এ সময় পার্শ্ববর্তী স্টেশনগুলিতে আন্তঃনগর ট্রেনগুলি আটকে থাকে। প্রায় ৬ ঘণ্টা পর সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে এলে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়। সংঘর্ষ থামাতে ভৈরবের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান পরিচালনা করলে দুই ওসিসহ একাধিক পুলিশ সদস্য আহত হয়।
রেলওয়ে থানা সূত্রে আরো জানা যায়, রেলওয়ে থানা পুলিশ, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী, ভৈরব থানা পুলিশ, শহর ফাঁড়ি পুলিশ, ভৈরব র্যাব ক্যাম্পের সদস্যরা ও ভৈরব সেনাবাহিনী ক্যাম্পের সদস্যরাসহ উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে.এম মামুনুর রশীদ ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ.এইচ.এম আজিমুল হক ঘটনাস্থলে এসে দীর্ঘ ৬ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় দুই দিনপর ৬ জুন সকালে দুই ওসিসহ একাধিক পুলিশ সদস্য আহত ও রেলওয়ে থানা ভাঙচুরের ঘটনায় দেড় শতাধিকের বেশি অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করেন রেলওয়ে থানার এসআই বিএম আফজাল হোসেন।
এ বিষয়ে ভৈরব রেলওয়ে থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাঈদ আহমেদ জানান, ঘটনার পর থেকে রেলওয়ে থানা পুলিশ স্টেশন এলাকার ও থানায় থাকা সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্তের চেষ্টা চালায়। মামলার পর ঘটনায় জড়িত মো. আলী হোসেন নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আসামি শনাক্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।

