# মিলাদ হোসেন অপু :-
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ডাকাতের ছুরিকাঘাতে সাজ্জাদ মিয়া (২০) নামে এক যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ৩ আগস্ট সোমবার রাত ১০টায় লক্ষ্মীপুর এলাকায় ইউসুফ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এই ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়রা সাজ্জাদকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ভৈরব থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুবুর রহমান।
নিহত সাজ্জাদ মিয়া জগন্নাথপুর লক্ষ্মীপুর ডেঙ্গু প্রধানের বাড়ির আরমান মিয়ার ছেলে। নিহতের ঘটনায় সাজ্জাদের পরিবারে চলছে শোকের মাতম।
অভিযুক্ত ব্যক্তি লক্ষ্মীপুর এলাকার চিহ্নিত ডাকাত আনার ডাকাত ওরফে কাইল্যা ডাকাত।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, ১৮ বছর আগে লক্ষ্মীপুর এলাকার একই পরিবারের তিন জনকে হত্যা করে আনার ডাকাত। এছাড়াও সে একাধিক হত্যা মামলার আসামি। ত্রিপল মার্ডারে সে ১৮ বছর জেল খেটে ১ বছর আগে বাড়িতে আসে। এসেই সে মাদক ব্যবসা ও চুরি ডাকাতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। ১৫ দিন আগে সাজ্জাদের মামা স্বপন মিয়ার নৌকা চুরির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ৩ আগস্ট রাতে আনার ডাকাতের সাথে বাকবিতন্ডা হয় সাজ্জাদের। এক পর্যায়ে আনার ডাকাত সাজ্জাদ মিয়াকে ছুরিকাঘাত করে। সাজ্জাদের ডাক চিৎকারে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাজ্জাদকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বাবা আরমান মিয়া বলেন, আমার সম্বন্ধী স্বপন মিয়ার নৌকা বেশ কয়েকদিন আগে চুরি হয়। এ ঘটনায় আনার ডাকাতকে আটক করে জিজ্ঞাসা করা হলে সে অন্য একজনকে জড়িত দেখিয়ে পালিয়ে যায়। ৩ আগস্ট সোমবার রাত ৯টায় ইউসুফ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে আমার ছেলেকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে আনার ডাকাত। আমি আনার ডাকাতের ফাঁসি চাই।
নিহতের মা শিউলি বেগম চিৎকার করতে করতে বলে, রাত সাড়ে ৮টায় আমার ছেলে ভাত খাইয়ে দেয়। রাতে সে মাছ ধরতে ইউসুফ আলি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে একটি খালে যায়। সেখানে আনার ডাকাতকে দেখতে পেয়ে আমাকে ফোনে আমার ছেলে জানায়। আমি বিষয়টি তাঁর মামাকে জানাতে বলি। ফোন পাওয়া ১০ মিনিট পরে শুনতে পায় আনার ডাকাত আমার ছেলেকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে। আনার একজন হত্যাকারী। আমি আনার ডাকাতের ফাঁসি চাই। আমার দুই ছেলে এক মেয়ে ছিল। এখন আমি আমার কলিজার টুকরাকে হারিয়েছি।
এ বিষয়ে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা ডা. কিশোর কুমার ধর বলেন, রাত সাড়ে দশটার দিকে সাজ্জাদ মিয়া নামে এক যুবককে রক্তাক্ত অবস্থায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আনা হলে চিকিৎসক তাকে মৃত অবস্থায় পায়। যতটুকু বুঝতে পেরেছি পথেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। সাজ্জাদের বাম কাঁধে ছুরিকাঘাত রয়েছে তাই প্রাথমিক ধারণা অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। পরে থানা পুলিশকে খবর দিলে তারা এসে থানায় মরদেহ নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে ভৈরব থানা পুলিশ অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ৪ আগস্ট মঙ্গলবার সকালে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে একটি নৌকা চুরিকে কেন্দ্র করে চুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
নৌকা চুরির কথা জিজ্ঞেস করায় ডাকাতের ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত
43 views
