কুলিয়ারচরে সরকারি রাস্তার দুই সাইড দখল মুক্ত না হওয়ায় নির্মাণাধীন রাস্তার কাজ বন্ধ, জনদুর্ভোগ চরমে

163 views

# মুহাম্মদ কাইসার হামিদ :-
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের পূর্ব আব্দুল্লাহপুর থেকে পশ্চিম আব্দুল্লাহপুর কাঁচা রাস্তাটি আরসিসি করনের কাজ শুরু হয়ে অর্ধেক পথে বন্ধ করে দেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। রাস্তাটির পূর্ব আব্দুল্লাহপুর সীমান্তে রাস্তার জায়গা দখল করে অবৈধভাবে ঘর নির্মাণের ফলে রাস্তার দুই সাইড দখল মুক্ত না হওয়ায় নির্মাণাধীন রাস্তার কাজ বন্ধ করে মালামাল নিয়ে চলে গেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এতে জন দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে।
জানা যায়, সরকারি টেন্ডারের মাধ্যমে এমআরআরআইডিপি প্রকল্পের আওতায় ২ কোটি ৪৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ১ হাজার ১৬০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৩ মিটার প্রস্থের নির্মাণাধীন পূর্ব আব্দুল্লাহপুর থেকে পশ্চিম আব্দুল্লাহপুর রাস্তার কাজ শুরু করেন চট্টগ্রামের মেসার্স মোহাম্মদ ইউসূফ এন্ড ব্রাদার্স (প্রা.) লি. নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কাগজপত্র অনুযায়ী কাজটি শুরু করেন গত ২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বর। কাজটি শেষ হওয়ার কথা চলতি ২০২৬ সালের ৮ জুলাই। কাজটি তদারকি করছেন কুলিয়ারচরের মেসার্স প্রগতি এন্টারপ্রাইজ এর স্বত্ত্বাধিকারী মো. দেলোয়ার হোসেন খোকন।
মো. দেলোয়ার হোসেন খোকন জানান, কাজ শুরু করার আগেই রাস্তার দুই সাইডের অবৈধ দখলদারদেরকে রাস্তার জায়গা দখল মুক্ত করার জন্য বলা হয়। রাস্তার প্রায় ৯০ শতাংশ জায়গা দখল মুক্ত করে রাস্তার নির্মাণ কাজ করা হয়। শেষ পর্যায়ে পূর্ব আব্দুল্লাহপুর দক্ষিণ পাড়ায় এসে পরতে হয় বিপাকে। ওই পাড়ার মৃত সৈয়দ আলীর পুত্র মো. নিজাম উদ্দিন (৩৫) ও মৃত আলাল মিয়ার পুত্র দুলাল মিয়া ওরুফে ইশকান্দর (৩০) ও সেকান্দর (৩৫) ওই রাস্তার দুই সাইড অবৈধ ভাবে দখল করে ঘর নির্মাণের ফলে রাস্তাটি সুরু হয়ে যায়।
রাস্তার দুই সাইড দখল মুক্ত করার জন্য তাদেরকে বার বার তাগাদা দেওয়ার পর মো. নিজাম উদ্দিন তার ঘর ভেঙে জায়গাটি দখল মুক্ত করে দেয়। কিন্ত দুলাল মিয়া ওরুফে ইশকান্দর ও সেকান্দর কোন ভাবেই জায়গাটি দখল মুক্ত করছেন না। এলাকাবাসী তাকে অনেক চাপ সৃষ্টি করেও জায়গটি দখল মুক্ত করতে পারেনি। এজন্যই রাস্তার নির্মাণ সামগ্রী রাস্তা থেকে সরিয়ে নিয়ে রাস্তার কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। রাস্তা দখল মুক্ত হলেই ফের কাজ করা শুরু হবে।
স্থানীয় ইমরান খান এনায়েত (৫৫), মো. দ্বীন ইসলাম (৪৫), নিজাম উদ্দিন (৩৫), অন্তর ভূইয়া (২৫) ও নজরুল ইসলাম (৪৫) বলেন, দীর্ঘ দিন যাবৎ ধরে দুলাল মিয়া ওরুফে ইশকান্দর ও সেকান্দরকে রেকর্ডকৃত সরকারি রাস্তার জায়গা দখল মুক্ত করার জন্য বলা হলেও তারা রাস্তার জায়গাটি দখল মুক্ত করে দিচ্ছেনা। বরং বিভিন্ন তাল বাহানা করে ঠিকাদারকে ঘুরাচ্ছে। এজন্য সপ্তাহখানেক আগে রাস্তার কাজ বন্ধ করে মালামাল নিয়ে চলে যায় ঠিকাদার।
অভিযুক্ত ইসকান্দর ওরুফে দুলাল ও সেকান্দরের মা মোছা. আছিয়া বেগম (৫৫) বলেন, আমার ছেলেরা কেউ বাড়িতে থাকেনা। আমাদের হাতে কোন টাকা নেই, তাই ঘর ভেঙে রাস্তার জায়গা খালি করতে পারছিনা। আমাদের দুই চার দিনের সময় দিলে টাকা জোগার করে রাস্তাটি ভেঙে দিবো।
এব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) এস.আর.এম.জি কিবরিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, রাস্তার সাইট সংক্রান্ত সমস্যা সমাধান হওয়ার পর পরবর্তী কাজ শুরু করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *