# মিলাদ হোসেন অপু :-
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বাজারের নামকরণ নিয়ে সংঘর্ষের দুইজন নিহতের ঘটনায় মামলার আসামি রুবেল মিয়া (৩০)কে যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তার করেছে ভৈরব ও বাজিতপুর থানা পুলিশ। ২ আগস্ট রোববার রাত ৩টায় বাজিতপুর থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রুবেল উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আকবরনগর গ্রামের আক্তার মিয়ার ছেলে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ভৈরব থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) লিমন বোস।
এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা লিমন বোস বলেন, উপজেলা কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আকবরনগর-মিরারচর এলাকায় বাজারের নামকরণ নিয়ে ২৭ জুলাই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। ওই দিন মিরারচর গ্রামের মাসুদ রানা ও হিরণ মিয়া নামে দুইজন যুবক টেঁটা বিদ্ধ হয়ে মৃত্যু বরণ করেন। ঘটনার পর থেকে ঘটনাস্থল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ঘটনার চারদিন পর নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে পৃথক দুইটি মামলা করা হয়। দুইটি মামলায় এজাহারনামীয় ৯০ জনকে আসামি করে অজ্ঞাত আরো শতাধিক মানুষকে আসামি করা হয়েছে। মামলার পর পুলিশ বিশেষ তদন্তের পর ঘটনায় জড়িত এজাহার নামীয় রুবেল মিয়াকে বাজিতপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এতে বাজিতপুর থানা পুলিশ ও জেলা ডিবি পুলিশকে সাথে নিয়ে ভৈরব থানা পুলিশ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে।
তিনি আরো বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সাথে জড়িত রুবেল মিয়ার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। তাকে ২ আগস্ট বিকালে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকী আসামিদের গ্রেপ্তার অভিযান অব্যহত রয়েছে বলে জানান তিনি।
জানা যায়, তিন দশক ধরে বাজারের নামকরণ নিয়ে বিরোধ চলছিল। একটি পক্ষ চায় বাজার হবে মিরারচরের নামে আরেকটি পক্ষ চায় হবে আকবরনগরের নামে। কিছু মানুষ চায় আকবরনগর-মিরারচর বাজার হোক। ১৫ বছর আগে একটি সংঘর্ষের পর বিরোধের বিষয়টি সকমনে আসলেও ২০২৩ সাল সওজ এর পক্ষ থেকে আঞ্চলিক সড়কে আকবর নগর নামে সাইনবোর্ড টানানো হলে ওই সময় ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। পরে বিষয়টি মিটমাট করতে পারেনি স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
২৬ জুলাই স্থানীয় এমপি বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম দুই গ্রামের নেতৃবৃন্দদের সাথে নিয়ে নামকরণের বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন। এসময় তিনি দুই গ্রামের ১০ জনকে নিয়ে একটি সমন্বয় কমিটি করে তিনদিনের মধ্যে সমস্যা সমাধানে আশ্বাস দেন। প্রতিমন্ত্রীর দেয়া আশ্বাসের ২৪ ঘণ্টা যেতে না যেতেই ২৭ জুলাই সকাল সাড়ে ৭টায় ভৈরব-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সড়ক ও রেলপথের দুই পাশে দুই গ্রাম হওয়ায় আঞ্চলিক সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে দুই গ্রামের মানুষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। জেলা পুলিশ, ভৈরব র্যাব ক্যাম্পের সদস্যরাসহ ভৈরব ও কুলিয়ারচর থানা পুলিশ সদস্যরা ৬ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষের দিন দুই গ্রামের ১০টি বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটসহ অগ্নিসংযোগ করা হয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে ২৮ জন ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। এদের মধ্যে ৮ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও কিশোরগঞ্জ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। সংঘর্ষে মিরারচর গ্রামের মাসুদ রানা ও হিরণ মিয়া টেঁটাবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে আকবরনগর এলাকার দুই শতাধিক বাড়িঘর ভাঙচুরসহ লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে মিরারচর গ্রামের লোকজন।
বাজারের নামকরণ নিয়ে সংঘর্ষের দুইজন নিহতের ঘটনায় মামলার আসামি রুবেল যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তার
35 views
